সাবেক রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিনের ইন্তেকাল
অধ্যাপক ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ
সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮১ বছর।
হূদেরাগ ও কিডনির জটিলতায় দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে গতকাল সোমবার সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে তিনি মারা যান।
ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের ছেলে ইমতিয়াজ আহম্মেদ ব্যাংকক থেকে টেলিফোনে প্রথম আলোকে জানান, সবকিছু ঠিক থাকলে কাল বুধবার তাঁর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। কোথায় দাফন করা হবে, সে বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আব্বা তাঁকে বনানী বুদ্ধিজীবী গোরস্থানে দাফন করার ইচ্ছা জানিয়ে গেছেন।’
গত ২৮ অক্টোবর ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের শরীরে অস্ত্রোপচার করা হয়। এরপর কিডনিতে জটিলতা দেখা দিলে গত ৪ নভেম্বর তাঁর অবস্থার অবনতি ঘটে এবং তখন থেকেই তাঁকে কৃত্রিমভাবে (লাইফ সাপোর্ট) বাঁচিয়ে রাখা হয়েছিল।
ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ গত বছরের আগস্ট মাসে অসুস্থ হয়ে পড়লে শুরুতে দেশেই তাঁর চিকিৎসা হয়। পরে সেপ্টেম্বরে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় থাইল্যান্ডে। তখন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে দেশে ফিরে আসেন। সর্বশেষ মাস চারেক আগে আবারও অসুস্থ হয়ে পড়লে থাইল্যান্ডে নিয়ে যাওয়া হয়। এর আগে ২০০৬ সালে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে তাঁর বাইপাস সার্জারি হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি ও সরকারি কর্মকমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের আমলে রাষ্ট্রপতি ছিলেন। দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ঘটনাবহুল একটি সময়ে রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকা ইয়াজউদ্দিন বিএনপি ক্ষমতা ছাড়ার পর রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকারপ্রধানের দায়িত্বও নেন। এর পরিণতিতে রাজনৈতিক সংঘাতের সৃষ্টি হয় বলে মনে করা হয়। ওই সংঘাতের মধ্যেই ২০০৭ সালে দেশে জরুরি অবস্থা জারি করেন ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ।
ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ ১৯৩১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি মুন্সিগঞ্জের নয়াগাঁও গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৫০ সালে স্নাতক এবং ১৯৫২ সালে স্নাতকোত্তর পাস করেন। যুক্তরাষ্ট্রের উইসকিনসন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৫৮ সালে এমএস এবং ১৯৬২ সালে পিএইচডি অর্জন করেন। তিনি ১৯৬৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকাবিজ্ঞান বিভাগে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট, সিন্ডিকেট, অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল ও বোর্ড অব অ্যাডভান্স স্টাডিজের সদস্য ছিলেন।
মৃত্তিকাবিজ্ঞানের এই অধ্যাপক ধান গাছের ওপর লবণাক্তের প্রভাব এবং বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে উচ্চফলনশীল ধান নিয়ে গবেষণা করেন। তিনি উদ্ভিদের পুষ্টি উপাদান মাটিতে জমা করে রাখা এবং তা প্রয়োজনমতো উদ্ভিদকে সরবরাহ করার পদ্ধতির ওপর সফল গবেষণা চালিয়েছেন। তাঁর অনেক গবেষণামূলক প্রকাশনা রয়েছে। তিনি ইব্রাহিম স্মৃতি পদক (১৯৮৭), শ্রীজ্ঞান অতীশ দীপঙ্কর স্বর্ণপদক (১৯৯০) এবং শিক্ষার জন্য একুশে পদক (১৯৯৫) লাভ করেন।
শোক: রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। শোকবার্তায় তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়।
বিএনপির চেয়ারপারসন ও বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া শোকবার্তায় ইয়াজউদ্দিনকে একজন গুণী ও আদর্শবাদী শিক্ষক হিসেবে অভিহিত করে তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
জাতীয় সংসদের স্পিকার মো. আবদুল হামিদ, ডেপুটি স্পিকার শওকত আলী, বিকল্পধারার সভাপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীও শোক প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন। এ ছাড়া শোক বিজ্ঞপ্তি প্রদানকারীদের মধ্যে আরও আছে রুর্যা ল জার্নালিস্ট ফাউন্ডেশন, মুন্সিগঞ্জ-বিক্রমপুর সাংবাদিক ফোরাম, শরীয়তপুর জেলা কল্যাণ সোসাইটি ও বৃহত্তর ময়মনসিংহ ছাত্রছাত্রী সংঘ।

