একজন ওষুধ বিক্রেতা ও একটি ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধির দ্বন্দ্বের জের ধরে ঢাকা থেকে ভোলায় ওষুধ সরবরাহে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে ভোলায় দেখা দিয়েছে ওষুধ ও চিকিৎসা উপকরণের সংকট।
ভোলা সদর উপজেলা কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফখরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, স্বল্প মেয়াদের ওষুধ বিক্রিতে বাধ্য করায় তাঁরা বেক্সিমকো কোম্পানির ওষুধ বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছেন। বেক্সিমকোর স্থানীয় বিক্রয় প্রতিনিধি মিজানুর রহমান ভোলা জেলা কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমানের ভাই। আর সমিতির সভাপতি নাসির আহম্মেদ ঢাকায় অবস্থান করেন। নাসির উদ্দিন আহম্মেদই চার-পাঁচ দিন ধরে ভোলায় ওষুধ আসতে বাধা দিচ্ছেন। সন্ত্রাসী ও কিছু শ্রমিক দিয়ে ভোলার ওষুধের প্যাকেট করাতে বাধা দিচ্ছেন।
তবে নাসির আহম্মেদ বলেন, এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। মিটফোর্ড বিশাল মার্কেট, যে কেউ ওষুধ কিনতে পারে। তিনি পাল্টা অভিযোগ করেন, ভোলা সদর উপজেলা কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতি একটি চাঁদাবাজ সংগঠন। বিভিন্ন কোম্পানিকে ফাঁদে ফেলে চাঁদাবাজি করে।
সদর উপজেলা কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতি জানায়, ১৪ এপ্রিল বেক্সিমকোর মিজানুর রহমান ভোলার কর্মকার ফার্মেসিতে ২০ দিন মেয়াদ আছে এমন কিছু ওষুধ বিক্রি করতে যান। দোকানের মালিক মিন্টু কর্মকার ওই ওষুধ ফেরত দেন। এরপর কোম্পানিটি মিন্টুর কাছে ওষুধ বিক্রি বন্ধ করে দেয়। এ বিষয়ে মিন্টু সমিতির কাছে প্রতিকার চাইলে ২০ এপ্রিল সভা করে সমিতি বেক্সিমকো কোম্পানির ওই বিক্রয় প্রতিনিধির কাছ থেকে ওষুধ না কেনার সিদ্ধান্ত নেয়।
তবে মিজানুর রহমান এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ওষুধের মেয়াদ ২০ জুলাই পর্যন্ত রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী এক দিন মেয়াদ থাকলেও ওই ওষুধ দোকানে রাখা যাবে। পরে সেটি কোম্পানিকে ফেরত দেওয়া যাবে।
কিন্তু মিন্টু কর্মকার ওই ওষুধ নষ্ট করেছেন ও তাঁদের হুমকি দিয়েছেন। পরে তাঁরা নিজেদের মনগড়া সমিতির প্রভাব খাটিয়ে বেক্সিমকোর ওষুধ বিক্রি বন্ধ করেছেন। ঘটনার বিচার চেয়ে তিনি বাংলাদেশ কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির কাছে আবেদন করেছেন।
Source: The Daily Prothom Alo

