ধাপ্পাবাজ ব্যক্তিদের কাছে বয়স্ক ব্যক্তিরা অর্থ খোয়ান—এমন ঘটনা অহরহই ঘটে
পরোপকারী বুড়িমা তাঁর সব টাকাপয়সা সরল বিশ্বাসে কোনো বদমাশ ও ধাপ্পাবাজকে দিয়ে দিয়েছেন—গল্পের বইতে বা বাস্তবে এমন ঘটনার অভাব নেই। কিন্তু এমন কেন হয়? জ্ঞান ও অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও বয়স্ক ব্যক্তিরা কেন অপেক্ষাকৃত কম বয়সীদের চেয়ে বেশি ধোঁকায় পড়েন?
বিষয়টি জানার চেষ্টা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের একদল গবেষক। তাঁরা বলছেন, বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বাস করা না-করার বিষয়ে বাছবিচারের ক্ষমতা কমে যায়। গবেষণার ফল প্রকাশ করা হয়েছে বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী প্রসিডিংস অব দ্য ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্স-এ।
গবেষণাটি করেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানী শেলি টেইলর ও তাঁর সহযোগীরা। তাঁরা বয়সের ভিত্তিতে ভাগ করা দুটি দলকে কিছু মানুষের মুখমণ্ডলের ছবি দেখতে দেন। ছবিগুলোতে বিশ্বাসযোগ্যতার বিষয়ে কিছু সাধারণ ইঙ্গিত ফুটিয়ে তোলা হয়। যেমন, স্থির দৃষ্টিতে সরাসরি তাকানো, আন্তরিকতায় পরিপূর্ণ হাস্যোজ্জ্বল মুখ ইত্যাদি।
গবেষণায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা ছবির মুখগুলোকে কীভাবে নেন, সেটাই পর্যবেক্ষণ করেন গবেষকেরা। তাঁরা দেখতে পান, বয়স্ক ব্যক্তিরা (বয়স ৫৫ থেকে ৮৪) অনেক অবিশ্বাসযোগ্য মুখকেও বিশ্বাসযোগ্য হিসেবে শনাক্ত করেন। তবে কম বয়সীদের ক্ষেত্রে (বয়স ২০ থেকে ৪২) এই ভুলের হার অনেক কম। যন্ত্রের মাধ্যমে তাঁদের মস্তিষ্কের প্রতিক্রিয়ার ওপরও নজর রাখা হয়।
গবেষকেরা এ সময় তরুণদের মস্তিষ্কের অ্যানাটেরিয়র ইনসুলা অঞ্চলে তীব্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ করেন। মস্তিষ্কের এই অঞ্চল ‘গাট ফিলিংস’ নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। বিশেষ করে, চোখের সামনে আসা কোনো মুখ অবিশ্বাসযোগ্য কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেয় মস্তিষ্কের এই অঞ্চল। তবে বয়স্কদের বেলায় এ ধরনের প্রায় কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি বললেই চলে।
গবেষক টেইলরের ব্যাখ্যা, ‘বয়স্ক ব্যক্তিদের মস্তিষ্ক বলছে না যে সাবধান হয়ে যাও। মস্তিষ্ক থেকে তাঁরা এ ধরনের কোনো সংকেত পাচ্ছেন না, যা পেয়ে থাকেন তরুণেরা।’
মেরিল্যান্ডের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব এজিংয়ের মনোবিজ্ঞানী লিস নেইলসন বলেন, বিষয়টি এই প্রথম এভাবে গবেষণা করে দেখা হলো। তবে মস্তিষ্কের বয়স-সংক্রান্ত পরিবর্তনের কারণেই এটা হয় কি না, তা নিশ্চিত হতে আরও গবেষণা দরকার। নেচার।
content aggregation:healthPrior21
source:prothom-alo
http://www.prothom-alo.com/detail/date/2012-12-12/news/312579


