home top banner

News

ব্লাড ব্যাংকগুলোর সংগৃহীত রক্তে মেশানো হচ্ছে স্যালাইন, লবণ ও পানি।
21 January,13
 Posted By:   Healthprior21
  Viewed#:   112

একুশে নিউজ টোয়েন্টিফোরঃ মুমূর্ষু রোগীর জন্য জীবন বাঁচানো রক্ত নিয়ে চলছে অন্যরকম এক বাণিজ্য। জরুরি সময়ে প্রয়োজনীয়, নিরাপদ রক্তের পরিবর্তে মিলছে পেশাদার রক্ত দাতার অনিরাপদ ও ঝুঁকিপূর্ণ রক্ত। শুধু তাই নয়, বেশি মুনাফার আশায় ব্লাড ব্যাংকগুলোর সংগৃহীত রক্তে মেশানো হচ্ছে স্যালাইন, লবণ ও পানি।
ব্লাড ব্যাংক

ব্লাড ব্যাংক

ব্লাড ব্যাংকগুলোতে অধিক মুনাফার আশায় রক্তের প্যাকেটে স্যালাইন ও লবণ পানি মিশ্রণ করার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রতি ব্যাগে ৪৫০ মিলিলিটার রক্ত থাকে। এর মধ্যে ৫৫ ভাগ প্লাজমা (জলীয় অংশ) ও ৪৫ ভাগ সেল (কোষ) থাকে। দেখা গেছে, অসাধু ব্লাড ব্যাংকগুলো অধিক লাভের আশায় রক্ত ও প্যাকেটের  পরিমাণ বাড়ানোর জন্য স্যালাইন বা লবণ মিশ্রিত পানি মেশায়। যদি একটি প্যাকেটে ২২ দশমিক ৫০ মিলিলিটার স্যালাইন বা লবণ পানি মেশানো হয় তাহলে ২২ দশমিক ৫০ মিলিলিটার সেল (কোষ) কমে যাবে। ফলে একদিকে বেশি দামে রক্ত কিনে ক্রেতা যেমন প্রতারিত হবে। রক্তের প্যাকেটে স্যালাইন মিশ্রিত থাকলে রক্তের নির্ধারিত প্লাজমা (জলীয় অংশ), সেল (কোষ) ও রক্তে হিমোগ্লোবিন-এর যে কোন একটির পরিমাণ কমে যাবে। এই রক্ত যার শরীরে প্রবেশ করবে তার জীবন সঙ্কটাপন্ন হবে।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, রক্তে কোন কিছু মেশানো হলেই তা মানবদেহের জন্য হয়ে পড়ে ঝুঁকিপূর্ণ। এ ধরনের কোন রক্ত কাউকে দেয়া হলে তা রোগীর জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর হয়ে পড়ে। এজন্যই সরকার কারও রক্ত নেয়ার আগে রক্তের ৫টি পরীক্ষা বাধ্যতামূলক (ম্যান্ডেটরি) করে দিয়েছে। রক্ত দাতার রক্ত গ্রহণ করার আগে এইচবিএজি ‘হেপাটাইটিস বি’ ভাইরাস, এইচসিভি বা ‘হেপাটাইটিস সি’ ভাইরাস, ‘এইচআইভি’ এইডস, সিফিলিস বা কোন যৌন রোগ ও ম্যালেরিয়াল প্যারাসাইটের জীবাণু আছে কিনা তা পরীক্ষা করতে হয়। রক্তের গ্রুপিং (এবিও) ও ক্রস ম্যাচিংও এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া রক্ত দাতা শেষ কবে রক্ত দিয়েছেন সেই বিষয়টিও লক্ষ্য রাখা হয়।

থেকে ৩৫০০

স্ক্রিনিং টেস্টবিহীন জীবাণুবাহী কোন রক্ত যদি গ্রহীতার শরীরে প্রবেশ করে তাহলে অন্যূন দেড় মাস ও অনূর্ধ্ব দেড় বছরের মধ্যে এই রোগের জীবাণু তার শরীরে স্থায়ী হয়ে যাবে এবং রোগী অনুমিতভাবেই সেই রোগ বহন করবে।

রক্ত বিক্রির এ সব প্রতারণার মাধ্যমে অনিরাপদ ও ঝুকিপূর্ন রক্ত সংগ্রহ করে বিক্রি হচ্ছে রোগী ও তার স্বজনদের কাছে। ফলে অনিরাপদ, ঝুঁকিপূর্ণ, স্যালাইন ও লবণ পানি মিশ্রিত রক্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই ঢুকে যাচ্ছে মুমূর্ষু রোগীর শরীরে। বাড়ছে রোগ-ব্যাধি। সেই সঙ্গে বাড়ছে জীবনের ঝুঁকি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীন বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও রক্ত পরিসঞ্চালন কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী সারা দেশে অনুমোদিত ব্লাড ব্যাংক (বেসরকারি রক্ত পরিসঞ্চালন কেন্দ্র) সংখ্যা ৬৯টি। রাজধানীতে এই সংখ্যা ৫০টি। কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীতে অবৈধ ব্লাড ব্যাংকের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে রক্ত কেনা-বেচায় তাদের প্রতারণা ও অপকৌশল।

রাজধানীর মহাখালীর দি ঢাকা ক্লিনিক অ্যান্ড ব্লাড ব্যাংক, ধানমন্ডির ঢাকা সিটি ব্লাড ব্যাংক অ্যান্ড ট্রান্সফিউশন সেন্টার, মহাখালীর রোগী কল্যাণ ব্লাড ব্যাংক অ্যান্ড ডে কেয়ার সেন্টার, মালিবাগের ক্রস ম্যাচ ব্লাড ব্যাংক অ্যান্ড ট্রান্সফিউশন সেন্টার, পুরনো ঢাকার মিটফোর্ড ব্লাড ব্যাংক, চানখাঁরপুল ন্যাশনাল ব্লাড ব্যাংক অ্যান্ড প্যাথলজি, মোহাম্মদপুরের রেড ক্রিসেন্ট ব্লাড ব্যাংক, গ্রীন রোডের মেডিফেয়ার ব্লাড ব্যাংক, গুলিস্তান ফুলবাড়ীয়ার লাইফ সেভ ব্লাড ব্যাংক অ্যান্ড ট্রান্সফিউশন মেডিসিন সেন্টার, চানখাঁরপুল জেনারেল হাসপাতালসহ বেশ কয়েকটি বেসরকারি রক্ত পরিসঞ্চালন কেন্দ্রের বিরুদ্ধে রয়েছে এ সংক্রান্ত অভিযোগ। রক্ত পরিসঞ্চালন ও সরবরাহের জন্য অনেক প্রতিষ্ঠানেরই নেই প্রয়োজনীয় লোকবল, অবকাঠামো, সরঞ্জাম ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ। তাদের পেশাদার রক্তদাতার মধ্যে রয়েছে মাদকাসক্ত নারী-পুরুষ, যৌনকর্মী, ফুটপাতে বাস করা ছিন্নমূল মানুষ। এদের বেশির ভাগই অসুস্থ ও ভয়ঙ্কর জটিল রোগের জীবাণু বহনকারী।

সমপ্রতি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও রক্ত পরিসঞ্চালন কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ আদালত ধানমন্ডির শংকর প্লাজা এলাকার সিটি ব্লাড ব্যাংক, লেক সার্কাস কলাবাগানের ক্রস ম্যাচ ব্লাড ব্যাংক, মোহাম্মদপুর রেড ক্রিসেন্ট ব্লাড ব্যাংক, মহাখালীর রোগী কল্যাণ ব্লাড ব্যাংক ও ডে কেয়ার সেন্টারে অভিযান চালায়। সেখানে স্যালাইন মিশ্রিত রক্তের প্যাকেট জব্দ করে প্রতিষ্ঠানের মালিক ও কর্মচারীদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ও জরিমানা করে প্রতিষ্ঠান সিলগালা করে দেয়।

বিভিন্ন ব্লাড ব্যাংকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতি প্যাক (৪৫০ মিলিলিটার) রক্তের জন্য পেশাদার রক্ত দাতাকে দেয়া হয় সর্বনিম্ন ১০০ থেকে সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা। ব্লাড ব্যাংক সংশ্লিষ্ট টেকনোলজিস্টরা জানিয়েছেন, এক প্যাকেট রক্ত সংগ্রহ করলে সংগৃহীত রক্তের খালি প্যাকেট (বিভিন্ন মেয়াদের), স্লাইডিং, সিরিঞ্জ ও সংরক্ষণসহ খরচ হয় ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা। ব্লাড ব্যাংকগুলো বিভিন্ন ক্লিনিক ও সরকারি, বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে রক্তের গ্রুপভেদে প্রতি প্যাক রক্ত সরবরাহ করে  ৮০০ থেকে ১০০০ টাকায়। একই রক্ত  রোগীর কাছে গ্রুপ ভেদে বিক্রি হয় ১০০০ থেকে ৩৫০০ টাকায়।

content aggregation:healthPrior21

source:ekusheynews24

Please Login to comment and favorite this News
Next Health News: এসিডদগ্ধ ইডেন ছাত্রীর অস্ত্রোপচার আজ
Previous Health News: আগে ডাক্তার পরে বিয়ে

More in News

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় অ্যান্টিবায়োটিক!

সম্প্রতি এক গবেষণায় জানা গেছে, কম বয়সে অ্যান্টিবায়োটিক খেলে পরবর্তী ক্ষেত্রে মানব শরীর বিভিন্ন ধরনের রোগ প্রতিরোধ করতে সক্ষম থাকে৷ কলোম্বিয়ার ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যায়লের এ গবেষণা অনুযায়ী, অন্ত্রে বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া বিরাজ করে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাস্থ্যকর রাখে৷ কিন্তু... See details

ঢাবিতে মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন উদ্বোধন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগ ও বাংলাদেশ ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে  ‘Mental Health Gap in Bangladesh: Resources and Response’ শীর্ষক চার দিনের চতুর্থ মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধন  হয়েছে। বুধবার ঢাকা... See details

৯টি ভয়ংকর সত্যি, যা আপনাকে ডাক্তাররা জানান না!

অনেক সময় কোনো ওষুধ একটি রোগ সারিয়ে তুললে, সেই ওষুধই অন্য একটি অসুখকে আমন্ত্রণ জানিয়ে রাখে। এমনকি এক্স রে রশ্মিও আমাদের শরীরে ক্যান্সারের মতো মারণ রোগের জন্ম দেয়। ওষুধের প্রভাবে কী কী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে ১. ওষুধে ডায়াবিটিস বাড়তে পারে: সাধারণত ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবিটিস হয়।... See details

প্রাকৃতিক ভায়াগ্রা হর্নি গোটউইড

চীনের একটি গাছের নাম হর্নি গোটউইড। এই গাছ থেকেই অদূর ভবিষ্যতে সস্তায় মিলবে ভায়াগ্রার বিকল্প ওষুধ। পুরুষাঙ্গকে দৃঢ়তা প্রদানের জন্য যে যৌগটি দরকার, সেই আইকারিন প্রচুর পরিমাণে রয়েছে হর্নি গোটউইডে। এই উপদানটিকে প্রকৃতিক ভায়াগ্রা হিসেবে শনাক্ত করেছেন ইউনিভার্সিটি অফ মিলানের গবেষক ডা. মারিও ডেল... See details

ব্রেন ক্যানসার থেকে মুক্তি দেবে ‘সোনা’

ব্রেন ক্যানসার চিকিৎসায় এবার ব্যবহৃত হবে সোনা৷ কারণ সোনা নাকি ব্রেন ক্যানসার থেকে মুক্তি  দিতে পারে৷ বিজ্ঞান পত্রিকা ন্যানোস্কেল অনুযায়ী, ব্রেন ক্যানসারের  চিকিৎসার সোনার একটি অতি সুক্ষ টুকরো সাহায্যকারী প্রমাণিত হতে পারে৷ বৈজ্ঞানিকরা একটি সোনার টুকরোকে গোলাকৃতি করে... See details

যৌবন ধরে রাখতে অশ্বগন্ধা

বাতের ব্যথা, অনিদ্রা থেকে বার্ধক্যজনিত সমস্যা। এ সবের নিরাময়ে অশ্বগন্ধার বিকল্প নেই। তেমনটাই তো বলেন বিশেষজ্ঞরা। এমনকি যৌবন ধরে রাখতেও অশ্বগন্ধার উপকারিতা অনস্বীকার্য। ত্বকের সমস্যাতেও দারুণ কাজ দেয় অশ্বগন্ধার ভেষজ গুণ। বিদেশেও এর চাহিদা ব্যাপক। সে কারণেই অশ্বগন্ধা চাষ অত্যন্ত লাভজনক।... See details

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')