ভোগবাদের এ যুগে প্রসাধন সামগ্রী (কসমেটিকস) মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠলেও আপাত 'অপরিহার্য, স্বস্তিদায়ক ও আভিজাত্যের' এই জিনিসগুলোই কিন্তু প্রাণঘাতী ক্যান্সারের কারণ হতে পারে। এই তথ্যটি পুঁজিবাদবিরোধী কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির 'ভাষণ' নয়। খোদ পুঁজিবাদের সূতিকাগার পশ্চিম ইউরোপের পরিবেশ পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ইউরোপিয়ান এনভায়রনমেন্ট এজেন্সির (ইইএ) দাবি এটি।
ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের অঙ্গ সংস্থা ইইএর মতে, কেবল প্রসাধনসামগ্রী নয়, গৃহকার্যে ব্যবহৃত সামগ্রীও ক্যান্সার-ঝুঁকির কারণ হিসেবে দেখা দিয়েছে। সংস্থাটি জানায়, তাদের নিজস্ব গবেষণায় গৃহস্থালি ও প্রসাধনসামগ্রীতে, এমনকি ওষুধের মধ্যেও কিছু অভিন্ন রাসায়নিক (কেমিক্যাল) পাওয়া গেছে, যা সরাসরি মানুষের শরীরে ক্যান্সার সৃষ্টি করতে পারে। এ ছাড়া প্রজনন জটিলতা এবং ডায়াবেটিস, মুটিয়ে যাওয়ার মতো বিভিন্ন রোগও সৃষ্টি করতে পারে এসব রাসায়নিক। সংস্থাটি দাবি করে, প্রসাধনী ও গৃহস্থালি সামগ্রীতে 'এনডোক্রাইন ডিসরাপটিং' (হরমোন ও গ্ল্যান্ডের সঙ্গে লুক্কায়িতভাবে অবস্থানকারী রাসায়নিক, যা হরমোন প্রক্রিয়ার জন্য ক্ষতিকর) নামের কিছু রাসায়নিক পাওয়া গেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, গত ১৫ বছর ধরে তাদের অর্থায়নে যেসব বৈজ্ঞানিক গবেষণা হয়েছে, সেগুলোর সামগ্রিক একটি পর্যালোচনায় তারা এই বিষয়টি জানতে পেরেছে।
ইইএর নির্বাহী পরিচালক জ্যাকুলাইন ম্যাকগ্লেড বলেন, এই বার্তাটি হতে পারে পূর্বসতর্কতামূলক ব্যবস্থা, যতক্ষণ না তা এসব রাসায়নিকের ক্ষতির বিষয়ে পুরোপুরি অনুধাবন করা যাবে। তিনি বলেন, মূল সমস্যা হলো এটি একক কোনো রাসায়নিক নয়, অনেক রাসায়নিকের সম্মিলিত প্রভাব।'
সংস্থাটি এ জন্য পাঁচটি রাসায়নিককে সতর্কতার চোখে দেখার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, যা প্রসাধনী ও গৃহস্থালি সামগ্রী তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যে পেস্টিসাইড বিসফিনল 'এ' এবং অন্যান্য পিসিবি (পলিক্লোরিনেটেড বিফেনিল) রাসায়নিক রয়েছে। এসব রাসায়নিক বিভিন্ন প্লাস্টিক সামগ্রী, সানস্ক্রিন ক্রিম, টুথপেস্ট, গর্ভনিরোধক পিল, পিভিসি পণ্যসহ (পলিভিনাইল ক্লোরাইড) বিভিন্ন সামগ্রীতে পচনরোধী (প্রিজারভেটিভ) হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া অনলাইন।

