দুই বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য কোম্পানিগুলোর ‘তৈরি খাবার’ (রেডি টু ইউজ থেরাপিউটিক ফুড-আরইউটিএফ) যেন দেশের বাজারে ঢুকতে না পারে, সে জন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। সরকারকে এ বিষয়ে কঠোর আইন প্রণয়ন করতে হবে।
গতকাল সোমবার বুকের দুধ ও পরিপূরক খাদ্য নিয়ে দক্ষিণ এশিয়া আঞ্চলিক সম্মেলনের সমাপনী দিনে বিশেষজ্ঞরা এ কথা বলেন। বাংলাদেশ ছাড়াও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর পুষ্টি ও শিশুস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এতে যোগ দেন। বাংলাদেশ ব্রেস্টফিডিং ফাউন্ডেশন (বিবিএফ) ও সহযোগী সাতটি সংস্থা এ সম্মেলনের আয়োজন করে। গত ২৮ এপ্রিল এ সম্মেলন শুরু হয়।
বুকের দুধ ও পরিপূরক খাবার নিয়ে বিভিন্ন দেশের বিদ্যমান নীতিমালা, বাস্তবায়ন পরিস্থিতি, সমস্যা ও সমাধানের উপায় নিয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সম্মেলন আয়োজক কমিটির সভাপতি পুষ্টিবিদ এস কে রায় বাংলাদেশের পুষ্টি পরিস্থিতি নিয়ে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন।
শিশু পুষ্টিবিদ এম কিউ কে তালুকদার বলেন, এখনই কোম্পানিগুলো গুঁড়ো দুধ তৈরি বন্ধ করে দিলে কোনো শিশু অপুষ্টিতে মারা যাবে না। তিনি আরও বলেন, আরইউটিএফ বাংলাদেশের জন্য একেবারেই অপ্রয়োজনীয়। এ ধরনের খাবার একবার দেশে ঢুকে পড়লে যে ক্ষতি হবে, তা পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়বে।
সম্মেলনে জানানো হয়েছে, নেপালে আরইউটিএফ পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। শ্রীলঙ্কার কিছু এলাকায় এ ধরনের খাবার দেওয়া হচ্ছে শিশুদের। আরইউটিএফ প্রসঙ্গে জাতীয় পুষ্টিসেবা কর্মসূচির লাইন ডিরেক্টর এখলাছুর রহমান বলেন, এ ধরনের খাবার দেশে আনার জন্য বিভিন্ন মহলের চাপ আছে। ভারতে এর সুফল পাওয়া যায়নি। ভারত থেকে কোম্পানিগুলো চলে যেতে বাধ্য হয়েছে।
সমাপনী অনুষ্ঠানে সম্মেলনের আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে এম কিউ কে তালুকদারকে আজীবন সম্মাননা জানানো হয়।
Source: The Daily Prothom Alo

