বাংলাদেশে প্রচলিত সব ধরনের তামাক জাতীয় পণ্যের ব্যবসার ফলে মাত্র তিন হাজার কোটি টাকা লাভ হয় কিন্তু নিট লোকসান হয় ৯ হাজার কোটি টাকা। তামাক সেবনের প্রভাবের ফলে দেশের প্রত্যক্ষভাবে ছয় হাজার ৭৯০ কোটি টাকা এবং পরোক্ষভাবে আট হাজার ৩০ কোটি টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে। তাই তামাক সেবন বন্ধ করা গেলে বছরে ৯ হাজার কোটি টাকা নিট লোকসান থেকে রাষ্ট্রকে রক্ষা করা যায়।
গতকাল বৃহস্পতিবার গবেষণা সংস্থা হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট রিসার্স সেন্টার (এইচডিআরসি) থেকে প্রকাশিত 'তামাকের অর্থনীতি এবং বাংলাদেশে তামাকের ওপর করারোপ'বিষয়ক এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ হিসাব তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সব ধরনের প্রতি ১০ শলাকা সিগারেটের ওপর গড়ে ৩৪ টাকা কর ধার্য করা হলে বছরে ৬০ লাখ মানুষের অকালমৃত্যু রোধ করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে এক হাজার ৫১০ কোটি টাকার রাজস্ব আয় হতে পারে। উদ্যোগটি নিলে ৭০ লাখ ধূমপায়ী ধূমপান থেকে সরে আসবে এবং নতুন প্রজন্মের আরো ৭০ লাখ মানুষ ধূমপানে আসক্ত হবে না। অন্যদিকে সব ধরনের বিড়ির ওপর প্যাকেটপ্রতি চার টাকা ৯৫ পয়সা করে করারোপ করা হলে ৩৪ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ বিড়ির মাধ্যমে ধূমপান করা ছেড়ে দেবে এবং আরো ৩৫ লাখ তরুণ বিড়ি সেবনে উদ্যোগী হবে না। পাশাপাশি আড়াই লাখ মানুষের অকালমৃত্যু রোধ করা সম্ভব হবে। আর্থিকভাবে ৭২০ কোটি টাকার বার্ষিক রাজস্ব আয় হবে।
এইচডিআরসির প্রধান উপদেষ্টা ও জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবুল বারকাত এসব তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করেন। হোটেল রূপসী বাংলায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী ডা. আ ফ ম রুহুল হক।
অধ্যাপক আবুল বারকাতের তথ্য-উপাত্তের উদ্ধৃতি তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে বছরে মাত্র সাড়ে সাত হাজার মাতৃমৃত্যু ঠেকাতে এমডিজি ৫-এর আওতায় আমরা যেভাবে হৈচৈ করি, তামাক সেবনের প্রভাবে সৃষ্ট বিভিন্ন রোগে দেশে বছরে ৫৭ হাজারের বেশি লোক মারা গেলেও সে হারে হৈচৈ বা তৎপরতা নেই। তামাকের কারণে মৃত্যুরোধে তাই আমাদের আরো অনেক বেশি সজাগ হতে হবে। ধূমপানবিরোধী প্রচারণা বাড়াতে হবে।'
মন্ত্রী বলেন, ট্যাক্স বাড়ালে রাজস্ব কমবে বলে অনেকের ধারণা আছে। কিন্তু গবেষণার ফলে দেখা যাচ্ছে এটা আসলে ঠিক নয়, তামাকের ওপর কর বাড়ালে বরং রাজস্ব বেড়ে যাবে।
অধ্যাপক বারকাত গবেষণার ফলাফল তুলে ধরে বলেন, 'তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে আমরা দেখেছি বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশেই বিড়ি-সিগারেটের দাম সবচেয়ে কম। তাই সরকারের উচিত এবারের বাজেটেই পর্যাপ্ত হারে কম বৃদ্ধি করা।'
Source: The Daily Kaler Kantho

