দেশে গর্ভকালীন বা প্রসব জটিলতার কারণে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ নারী দীর্ঘমেয়াদি পঙ্গুত্বের শিকার হচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, প্রসবকালীন মৃত্যুহার হ্রাসের বিষয়ে মনোযোগ থাকলেও এ বেঁচে থেকে দুর্ভোগ পোহানো নারীদের দিকে পরিবার, সমাজ বা রাষ্ট্র সবার নজর কম।
সরকার ২০০৩ সাল থেকে জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের সহায়তায় ফিস্টুলা নিয়ে কর্মসূচি পরিচালনা করছে। শুধু বিলম্বিত প্রসবের কারণে সৃষ্ট প্রজননতন্ত্রের এ জটিলতায় ভুগছেন ৭১ হাজার নারী। প্রসব-পরবর্তী জরায়ু নেমে যাওয়া, তলপেটে ব্যথা, রক্তস্বল্পতা, বিষণ্নতাসহ অন্যান্য জটিলতা প্রতিরোধে সরকারের তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম নেই। কত নারী এ ধরনের অসুস্থতায় অচল হয়ে পড়ছেন তারও সঠিক পরিসংখ্যান নেই।
চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, গর্ভকালীন যত্নের অভাব, অনিরাপদ প্রসব ও প্রসব-পরবর্তী সেবার অভাবে অনেক মা দীর্ঘমেয়াদি জটিলতার সম্মুখীন হচ্ছেন। বাংলাদেশ জনমিতি ও স্বাস্থ্য জরিপ ২০১১-এর প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী, বর্তমানে মাত্র ৩২ শতাংশ মা প্রসবকালে দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মীর সহায়তা পান। প্রসবের দুই দিনের মাথায় দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মীর কাছ থেকে পরামর্শ পান মাত্র ২৭ শতাংশ। অথচ মাতৃমৃত্যু ও অসুস্থতার কারণ বজায় থাকে সন্তান জন্মের পর কমপক্ষে ৪২ দিন পর্যন্ত।
স্যার সলিমুল্ল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালের অধ্যাপক ফেরদৌসী বেগম প্রথম আলোকে বলেন, অনিরাপদ প্রসবের জেরে মানসিক যন্ত্রণা ছাড়াও স্বামীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করতে না পারার জেরে নির্যাতন ও বিয়ে ভেঙে যাওয়ার ঘটনা পর্যন্ত ঘটে। এ ছাড়া নারীর কর্মক্ষমতা কমে যায়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ২০০৯ সালের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ থেকে ২০ শতাংশ নারী দীর্ঘ মেয়াদে পঙ্গুত্বের শিকার হচ্ছে।
অবস্টেট্রিক্যাল অ্যান্ড গাইনোকোলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশের সাবেক প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক এ বি ভূঁইয়া প্রথম আলোকে বলেন, পঙ্গুত্ববরণ করা মায়েদের দিকে যতটুকু নজর দেওয়া দরকার, পরিবার বা সমাজ থেকে তা দেওয়া হচ্ছে না।
সেভ দ্য চিলড্রেনের নিরাপদ মাতৃত্ব, নবজাতকের যত্ন এবং পরিবার পরিকল্পনা প্রকল্প প্রধান ইশতিয়াক মান্নান প্রথম আলোকে বলেন, গর্ভকালীন সংক্রমণ নিয়ে সরকারের কাজ করার সুযোগ আছে। কেননা, এর ফলে নারী অকালে বা মৃত সন্তান প্রসব করছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খন্দকার সিফায়েত উল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, সরকার মায়েদের দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা প্রতিরোধে স্বাস্থ্য সেবাকেন্দ্র ও দক্ষ কর্মীর সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। মায়েদের জন্য বিভিন্ন বিশেষ কর্মসূচিও পরিচালনা করছে। তবে এখনো সব মাকে এর আওতায় আনা যায়নি।
Source: The Daily Prothom Alo

