‘আমি বাঁচতে চাই, আমাকে বাঁচাও—এই আকুতি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ইডেন কলেজের অ্যাসিডদগ্ধ ছাত্রীটির। শরীরে গভীর ক্ষত আর মনে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের শঙ্কা নিয়ে ক্ষণে ক্ষণে অঝোর কান্নায় ভেঙে পড়ছেন তিনি।
আজ রোববার ছাত্রীটির শরীরে দ্রুত অস্ত্রোপচারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা বৈঠকে বসবেন।
বোর্ডের প্রধান ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের প্রধান সমন্বয়কারী সামন্ত লাল সেন গতকাল শনিবার বলেন, ‘মেয়েটি এখনো আশঙ্কামুক্ত নন। মাঝেমধ্যে বমি করছেন, খেতে পারছেন না।’
সামন্ত লাল সেন জানান, নিবিড়ভাবে চিকিৎসা করা ও দর্শনার্থীদের কারণে সম্ভাব্য ক্ষতি থেকে রক্ষার জন্য অ্যাসিড ও ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত ইডেনের এই ছাত্রীকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে।
এদিকে আহত ছাত্রী ও তাঁর পরিবারের ভয় কাটছে না। একাধিক মন্ত্রী হাসপাতালে গিয়ে আশ্বাস ও সান্ত্বনা দিলেও তাদের শঙ্কা দূর হচ্ছে না। কারণ পাঁচ দিনেও এ ঘটনায় করা মামলার আসামি অ্যাসিড নিক্ষেপকারী বলে অভিযুক্ত মনির ও তাঁর সহযোগী মাসুমকে পুলিশ গ্রেপ্তার করতে পারেনি। গতকাল শনিবারও পুলিশ বলেছে, আসামি ধরার ‘প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।’
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বংশাল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল হাসান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আসামিদের গ্রেপ্তারে আমরা সম্ভাব্য কয়েকটি স্থানে অভিযান চালিয়েছি। কিন্তু কাউকে পাওয়া যায়নি। আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। অচিরেই তাঁদের গ্রেপ্তার করা হবে।’
গতকাল বিকেলে হাসপাতালে ওই ছাত্রীর ভাই প্রথম আলোকে বলেন, ‘বোন আমাদের কাছে কান্নাকাটি করে বারবার বলছে তাঁকে বাঁচিয়ে তোলার জন্য, প্রয়োজনে বিদেশে নিয়ে যাওয়ার জন্য। কিন্তু তাঁকে তো বলা যায় না, আমাদের ওই সামর্থ্য নেই।’
content aggregation:healthPrior21
source:prothom-alo
http://www.prothom-alo.com/detail/date/2013-01-20/news/322886

