home top banner

News

চিকিৎসাবিজ্ঞানের যুগান্তকারী সূচনা: মেডিকেল বায়োটেকনোলজি
22 November,13
Tagged In:  medical biotechnology   Posted By:   Healthprior21
  Viewed#:   54

বর্তমানে বিজ্ঞানীরা ল্যাবে বসেই মানুষের বিভিন্ন অঙ্গ তৈরি করে ফেলতে পারেন! শুধু তৈরি করেই ক্ষান্ত হন না, রোগীর ক্ষতিগ্রস্ত অঙ্গ কেটে ফেলে একদম ল্যাবফ্রেশ ওয়ার্কিং অঙ্গটা শরীরে ফিট করে দেওয়ার ক্ষমতাও রাখেন!

বায়োটেকনোলজি বা জৈবপ্রযুক্তি, সমাজের পুরনো সমস্যাগুলোকে নতুন ধারায় সমাধান করার একটি উপায়। এটি অন্য যেকোনো ঐতিহ্যবাহী প্রকেৌশল থেকে ভিন্ন। যেখানে জীব ও জীবনীশক্তির সমন্বয়ের মাধ্যমে নতুন ও কার্যকর পণ্য উদ্ভাবন করা হয়। এই প্রযুক্তিতে জীব কোষ থেকে নতুন ও অধিক কার্যকরী রোগের চিকিত্সা বের করা সম্ভব হচ্ছে।

অস্থি ক্ষয়পূরণে স্টেম কোষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রারম্ভিক জীবন ও বৃদ্ধির সময় দেহের বিভিন্ন ধরনের কোষে রূপান্তরিত হয়। এই তত্ত্ব কাজে লাগিয়ে গত চার দশক ধরে স্টেম কোষ দ্বারা হাড় ভাঙা অথবা পেলভিক অস্থি ক্ষয় চিকিত্সা একটি ক্লিনিক্যাল গবেষণার মাধ্যমে পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। স্টেম কোষ সংরক্ষণ প্রক্রিয়াটি বায়োটেকনোলজির একটি উলে্লখযোগ্য সাফল্য।

হাদাসাহ মেডিকেল সংস্থার (জেরুজালেম, ইসরায়েল) একটি তদন্তকারী দল ২৪ জন গুরুতর পেলভিস ভাঙা রোগীদের সঙ্গে কাজ করেছে। এ ধরনের পেলভিস ভাঙন বিশেষ করে পাতলা পেশিস্তর ও অস্থি সহায়ক টিসু্যতে স্বল্প রক্ত সরবরাহের কারণে এর আরোগ্য মন্থর হয়। এই গবেষণায় ব্যবহূত প্রক্রিয়ায় অস্থিমজ্জা থেকে ৫০ মিলি এবং রোগীর শ্রোণি এলাকা থেকে ১০০ মিলিমিটার রক্ত আহরণ করা হবে। অস্থি মজ্জা হতে মেসেন কাইমাল স্টেম কোষ বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং একটি সমৃদ্ধ প্লাটিলেট ভগ্নাংশ রক্ত থেকে প্রস্তুত করা হয়। এই গবেষণায় পরবর্তীতে Demineralized Bone Matrix (DBM) এর সঙ্গে মিশিয়ে ফ্লুরোস্কপিক নিয়ন্ত্রণে ফাটল স্থানে ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়। আরেকটি নিয়ন্ত্রণ গ্রুপকে এই স্টেম কোষ দেওয়া হয়নি।জুন ৪, ২০১৩ জার্নাল মলিকুলার থেরাপি অনলাইন সংস্করণ প্রকাশিত ফলাফলে বলা হয়, উভয় গ্রুপে কোনো জটিলতা ছাড়াই প্রমাণিত হয়েছে, স্টেম কোষ থেরাপি একটি নিরাপদ এবং কার্যকরী পদ্ধতি।

এখন বিজ্ঞানীরা ল্যাবে বসেই মানুষের বিভিন্ন অঙ্গ তৈরি করে ফেলতে পারেন! শুধু তৈরি করেই ক্ষান্ত হন না। রোগীর ক্ষতিগ্রস্ত অঙ্গ কেটে ফেলে একদম ল্যাবফ্রেশ ওয়ার্কিং অঙ্গটা শরীরে ফিট করে দেওয়ার ক্ষমতাও রাখেন! কিন্তু অঙ্গ প্রতিস্থাপন বা অরগ্যান টর্্যান্স-প্ল্যান্ট তো নতুন কিছু না, সেই হিন্দু পুরাণের গণেশের মাথা প্রতিস্থাপন অথবা ড্যামিয়ান আর কসমসের মিথ থেকে শুরু, তারপর থেকে আজ অবধি কত কিডনি, চোখ, হার্ট, লিভারই তো প্রতিস্থাপিত হলো। তাহলে এটা নিয়ে লেখা ফঁেদে বসেছি কেন? কারণ আগের দিনের এসব ট্রান্সপ্ল্যান্ট করা হতো দাতা বা ডোনারের কাছ থেকে অরগ্যান নিয়ে। কিন্তু রিজেনারেটিভ মেডিসিনে দাতা হচ্ছে স্বয়ং রোগী, যার কাছ থেকে কোষ নিয়ে বিজ্ঞানীরা তার প্রয়োজন অনুযায়ী অঙ্গ তৈরি করে দেবেন।

রিজেনারেটিভ মেডিসিন- নাম থেকেই অনেকখানি আন্দাজ করে ফেলা যায়, এটা কি হতে পারে। মেডিসিনের সাহায্যে রিজেনারেট বা পুনরুত্পাদন করাকে রিজেনারেটিভ মেডিসিন বলা হচ্ছে। প্রশ্ন হলো কি পুনরায় উত্পাদন করা হবে? উত্তর- দেহের ক্ষতিগ্রস্ত কোষ, টিসু্য অথবা আস্ত অঙ্গ!

এতদিন পর্যন্ত আমরা যা দেখে এসেছি, তা হলো কোন অঙ্গ কাজ না করলে অন্য কারও কাছ থেকে নিয়ে রিপে্লস করে ফেলা। কারও কিডনিতে সমস্যা? ডোনার খোঁজ, ডোনারের কিডনি কেটে নিয়ে রোগীর শরীরে বসাও। কারও হার্টের ভাল্বে গণ্ডগোল? মানুষের হার্টের ভাল্ব সহজলভ্য নয়, তাই শূকরের হার্টের ভাল্ব জোগাড় করে লাগিয়ে দাও!

রিজেনারেটিভ মেডিসিন আমাদের সর্বপ্রথম বলল, এভাবে অন্যেরটা আর কত নেবে? মানুষের নিজের শরীরেরই তো নতুন অঙ্গ আর কলা গঠনের সুপ্ত ক্ষমতা রয়েছে (না, না, এখানে অলটারনেটিভ মেডিসিনের কথা বলা হচ্ছে না)। স্টেম সেল (একটু পরেই বলছি এটা কি) নাও, সেটাকে প্রভাবিত/নিয়ন্ত্রণ কর, ঠিকঠাক ভাবে সাহায্য করতে পারলে এই স্টেম সেলই তোমাকে তোমার দরকারি অঙ্গ গঠন করে দেবে in vitro (কৃত্রিম পরিবেশে, ল্যাবরেটরিতে) বা in vivo (লিভিং অর্গানিজম বা জীবিত জীবের ভেতরে, এ ক্ষেত্রে মানুষের শরীরের ভেতরে)।

এছাড়াও ক্ষতিগ্রস্ত অঙ্গ বা টিসু্যকে সারিয়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেয় চিকিত্সা বিজ্ঞানের এ নতুন শাখা। বিজ্ঞানীরাও এই নতুন পদ্ধতিকে লুফে নিলেন প্রধানত তিনটা কারণে-

১. যেহেতু রোগীর নিজের শরীর থেকে কোষ নিয়ে এ অঙ্গগুলো তৈরি করা হয়, তাই ইমপ্ল্যান্টের পর অর্গানটাকে রোগীর দেহের রিজেক্ট করার সম্ভাবনা অনেক কমে যায়।

২. সহজ লভ্যটা, এই প্রক্রিয়া অর্গান ডোনারের স্বল্পতার সমস্যার একটা ভালো সমাধান! সার্জনরা নিয়মিত দেখেন কীভাবে একজন ম্যাচিং ডোনারের অভাবে রোগী মারা যায়। এ ক্ষেত্রে এমন ডোনার খোঁজার প্রয়োজন পড়ে না। আমরা এমন একটা পৃথিবীর স্বপ্ন দেখার সাহস পাই, যেখানে ডোনার লিস্টের দরকার পড়বে না।

৩. বিভিন্ন ক্রনিক রোগের চিকিত্সায় রিজেনারেটিভ মেডিসিন অভূতপূর্ব ভূমিকা রাখতে পারে।

রিজেনারেটিভ মেডিসিন সম্পর্কে জানতে হলে প্রথমেই স্টেম সেল সম্পর্কে ধারণাটা পরিষ্কার করতে হবে।

স্টেম সেল হচ্ছে এক ধরনের মাতৃকোষ যার দেহের যেকোনো কোষে রূপান্তরিত হওয়ার ক্ষমতা থাকে অর্থাত্ এরা আনস্পেশালাইজড! এদের স্বতন্ত্র বৈশষ্ট্যি হচ্ছে এরা প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন স্পেশালাইজড সেলে (যেমন কার্ডিয়াক মাসল সেল, নিউরন, যকৃত্ কোষ ইত্যাদি) পরিণত হতে পারে। এরা সংখ্যাবৃদ্ধি করতে পারে; সংখ্যাবৃদ্ধি করে আরও অনেক স্টেম সেল যেমন গঠন করতে পারে, তেমনি দেহের চাহিদামতো প্রায় যেকোনো কোষে পরিণত হতে পারে। ভ্রূণ থেকে সংগ্রহ করা স্টেম সেল সব ধরনের কোষে রূপান্তরিত হওয়ার ক্ষমতা রাখলেও মানবদেহ থেকে নেওয়া স্টেম সেল কেবল নির্দিষ্ট কিছু অঙ্গ গঠন করতে পারে।

টিসু্য বা অঙ্গ রিজেনারেট করার প্রক্রিয়াকে সহজভাবে বলা যায় প্রোটিন সুগার অণু আর বিভিন্ন ফাইবারের মিশ্রণ তৈরি করে, তা দ্বারা রোগীর দেহ থেকে সংগ্রহ করা স্টেম সেলকে পুনরুত্পাদন করা এবং উত্পাদিত কোষগুলোকে জিন প্রকেৌশলের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত অঙ্গের আকৃতি প্রদান করা।

বর্তমানে রিজেনারেটিভ মেডিসিন নিয়ে কাজ করছেন এমন বিজ্ঞানীদের লক্ষ্য হলো গবেষণার মাধ্যমে একে এমন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া, যেন ভবিষ্যতে এমন এক সময় আসে যখন কোনো অঙ্গ প্রতিস্থাপনের দরকার পড়বে না। ইতোমধ্যে ল্যাবে তৈরি করা ব্লাডার শরীরে নিয়ে দিব্যি কিছু মানুষ হেঁটে বেড়াচ্ছেন! এছাড়াও সম্প্রতি জাপানে তৈরি করা সম্ভব হয়েছে যকৃত্ কোষ। কিডনি তৈরি করাও সম্ভব হয়েছে। স্কটল্যান্ডে কৃত্রিম রক্ত তৈরি করার অনুমোদন পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। হূদরোগ, লিউকেমিয়া ও ব্রেস্ট ক্যান্সারে এই থেরাপি প্রয়োগ করে সুফল পাওয়া গেছে। অদূর ভবিষ্যতে অগ্নাশয়, হার্ট, নিউরন তথা মস্তিষ্কের মতো অপেক্ষাকৃত জটিল অঙ্গ উত্পাদন করার আশা করছেন বিজ্ঞানীরা।

যদিও এখনো সাফল্যের মুখ দেখেছে স্বল্পসংখ্যক সার্জারিই, তবুও হাল ছাড়ছেন না কেউ। কেননা গবেষণাগুলো এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। ভবিষ্যতে এই রিজেনারেটিভ মেডিসিন যেসব ক্ষেত্রে অবদান রাখতে পারবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, তার মাঝে প্রধান হচ্ছে ক্যান্সার, টাইপ ওয়ান ডায়াবেটিস, সেরিব্রাল প্যালসি, স্পাইনাল কর্ড ইনজুরি, ট্রমাটিক ব্রেইন ইনজুরি, শ্রবণশক্তি হ্রাস, হার্ট ফেইলিয়র, স্ট্রোক, বিভিন্ন চক্ষুরোগ, মাসকুলার ডিস ট্রফি, পারকিনসনস ডিজিজ, রক্ত বাহিকা পুনর্গঠন, গভীর ক্ষত সারিয়ে তোলা ইত্যাদি। বিজ্ঞানীরা স্বপ্ন দেখেন এক সময় মেডিসিনের এ শাখাকে এতটা উন্নত করা যাবে, যখন সুনিয়ন্ত্রিত জিন প্রকেৌশলের মাধ্যমে তৈরি করা স্টেম সেলকে দেহে ইনজেক্ট করেই রোগীর দেহে নতুন ও উন্নত কোষ, টিসু্য বা অঙ্গ উত্পাদন করে তাকে সুস্থ করে তোলা যাবে। কে জানে, হয়তো এই রিজেনারেটিভ মেডিসিনই হবে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভবিষ্যত!
সূত্র - bd-pratidin.com

Please Login to comment and favorite this News
Next Health News: Y chromosome: Why men contribute so little
Previous Health News: ঢাকা মেডিকেলের বরখাস্ত হওয়া চিকিত্সক আটক

More in News

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় অ্যান্টিবায়োটিক!

সম্প্রতি এক গবেষণায় জানা গেছে, কম বয়সে অ্যান্টিবায়োটিক খেলে পরবর্তী ক্ষেত্রে মানব শরীর বিভিন্ন ধরনের রোগ প্রতিরোধ করতে সক্ষম থাকে৷ কলোম্বিয়ার ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যায়লের এ গবেষণা অনুযায়ী, অন্ত্রে বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া বিরাজ করে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাস্থ্যকর রাখে৷ কিন্তু... See details

ঢাবিতে মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন উদ্বোধন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগ ও বাংলাদেশ ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে  ‘Mental Health Gap in Bangladesh: Resources and Response’ শীর্ষক চার দিনের চতুর্থ মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধন  হয়েছে। বুধবার ঢাকা... See details

৯টি ভয়ংকর সত্যি, যা আপনাকে ডাক্তাররা জানান না!

অনেক সময় কোনো ওষুধ একটি রোগ সারিয়ে তুললে, সেই ওষুধই অন্য একটি অসুখকে আমন্ত্রণ জানিয়ে রাখে। এমনকি এক্স রে রশ্মিও আমাদের শরীরে ক্যান্সারের মতো মারণ রোগের জন্ম দেয়। ওষুধের প্রভাবে কী কী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে ১. ওষুধে ডায়াবিটিস বাড়তে পারে: সাধারণত ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবিটিস হয়।... See details

প্রাকৃতিক ভায়াগ্রা হর্নি গোটউইড

চীনের একটি গাছের নাম হর্নি গোটউইড। এই গাছ থেকেই অদূর ভবিষ্যতে সস্তায় মিলবে ভায়াগ্রার বিকল্প ওষুধ। পুরুষাঙ্গকে দৃঢ়তা প্রদানের জন্য যে যৌগটি দরকার, সেই আইকারিন প্রচুর পরিমাণে রয়েছে হর্নি গোটউইডে। এই উপদানটিকে প্রকৃতিক ভায়াগ্রা হিসেবে শনাক্ত করেছেন ইউনিভার্সিটি অফ মিলানের গবেষক ডা. মারিও ডেল... See details

ব্রেন ক্যানসার থেকে মুক্তি দেবে ‘সোনা’

ব্রেন ক্যানসার চিকিৎসায় এবার ব্যবহৃত হবে সোনা৷ কারণ সোনা নাকি ব্রেন ক্যানসার থেকে মুক্তি  দিতে পারে৷ বিজ্ঞান পত্রিকা ন্যানোস্কেল অনুযায়ী, ব্রেন ক্যানসারের  চিকিৎসার সোনার একটি অতি সুক্ষ টুকরো সাহায্যকারী প্রমাণিত হতে পারে৷ বৈজ্ঞানিকরা একটি সোনার টুকরোকে গোলাকৃতি করে... See details

যৌবন ধরে রাখতে অশ্বগন্ধা

বাতের ব্যথা, অনিদ্রা থেকে বার্ধক্যজনিত সমস্যা। এ সবের নিরাময়ে অশ্বগন্ধার বিকল্প নেই। তেমনটাই তো বলেন বিশেষজ্ঞরা। এমনকি যৌবন ধরে রাখতেও অশ্বগন্ধার উপকারিতা অনস্বীকার্য। ত্বকের সমস্যাতেও দারুণ কাজ দেয় অশ্বগন্ধার ভেষজ গুণ। বিদেশেও এর চাহিদা ব্যাপক। সে কারণেই অশ্বগন্ধা চাষ অত্যন্ত লাভজনক।... See details

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')