ফিলিপাইনে টাইফুন হাইয়ানে নিহত বেশ কিছু লাশ গতকাল বৃহস্পতিবার গণকবর দেওয়া হয়েছে। প্রলয়ংকরী টাইফুনের তাণ্ডবের পর বেঁচে যাওয়া নিঃস্ব ও অভুক্ত মানুষ ত্রাণের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। অনেকে খাদ্য, পানি ও ওষুধের গুদাম লুট করছে। ত্রাণ তৎপরতা জোরদার করা নিয়ে চাপে পড়েছে সরকার।
গতকাল সন্ধ্যার দিকে ত্রাণবাহী মার্কিন রণতরি ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন ফিলিপাইনের উপকূলে পৌঁছার কথা ছিল। গত শুক্রবার হাইয়ানের আঘাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলীয় তাকলোবান শহরের ক্ষুধার্ত ও তৃষ্ণার্ত লাখো মানুষ গতকাল ত্রাণের আশায় মার্কিন রণতরির জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল।
হাইয়ানের তাণ্ডবে এক কোটি ১০ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তাবিষয়ক প্রধান ভ্যালেরি অ্যামোস গতকাল বলেন, দুর্গত ব্যক্তিরা ত্রাণের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। তাদের এখনই জরুরি ত্রাণ-সহায়তা দেওয়া দরকার। ইতিমধ্যে অনেক দেরি হয়ে গেছে।
দুর্গত এলাকায় হাজারো মানুষ খাদ্য ও পানির অভাবে মানবেতর জীবন যাপন করছে। আহত ও অসুস্থ অনেকে ধ্বংস হয়ে যাওয়া বাড়িঘরের আঙিনায় অসহায় অবস্থায় রয়েছে।
তাকলোবান নগরের মেয়র আলফ্রেড রোমালদেজ বলেন, শত শত মানুষ অভুক্ত। খাদ্য আর পানির আশায় তারা দলে দলে ছুটছে বিধ্বস্ত বিমানবন্দরের দিকে। সেখানে ত্রাণবাহী বিমান নামছে। ত্রাণের আশায় প্রতীক্ষা করছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় লোকবল ও যানবাহনের অভাবে ত্রাণ বিতরণে সমস্যা হচ্ছে। সকালে একটি ট্রাকে লাশ উদ্ধার করা হয়। বিকেলে ওই ট্রাকে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করতে হচ্ছে।
তাকলোবান শহর কর্তৃপক্ষ জানায়, ইতিমধ্যে দুই হাজার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। জাতিসংঘের আশঙ্কা, হাইয়ানের তাণ্ডবে শুধু এই শহরেই ১০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তবে প্রেসিডেন্ট বেনিগনো অ্যাকুইনো বলেন, এ সংখ্যা আড়াই হাজারের মতো হবে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিশেষজ্ঞরা হুঁশিয়ার করে বলেন, দুর্গত এলাকায় বিশুদ্ধ খাবার পানির তীব্র সংকট। ফলে মানুষ দূষিত পানি পান করছে, এতে ওই এলাকায় ডায়রিয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে ত্রাণের জন্য শত শত মানুষ তাকলোবান শহরের কাছের আলানগালাংয়ে গত মঙ্গলবার একটি সরকারি চালের গুদাম লুট করে। এ ছাড়া মঙ্গলবার লেইতি প্রদেশের পালো শহরে ব্যক্তিমালিকানাধীন খাদ্য, পানি ও ওষুধের দুটি গুদাম লুট হয়। এএফপি ও বিবিসি।
সূত্র - প্রথম আলো

