কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কারণে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে খাদ্যনিরাপত্তায় উদাহরণ। তবে ধানের উৎপাদন বেশি হওয়ায় কয়েক বছর ধরে কৃষক দাম কম পেয়েছেন। কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকার পাঁচ বছরে খাদ্য মজুতের পরিমাণ ১৪ লাখ টন থেকে বাড়িয়ে ১৯ লাখ টনে উন্নীত করেছে। বর্তমান ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে আগামী ২০১৫ সালের মধ্যে মজুতক্ষমতা ২১ লাখ টন ছাড়িয়ে যাবে।
গতকাল মঙ্গলবার তথ্য অধিদপ্তরের সন্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে খাদ্যমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক এসব কথা বলেছেন। সরকারের পাঁচ বছরে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরতে এই সংবাদ সন্মেলনের আয়োজন করা হয়। এ সময় খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মুশফেকা ইফফাৎ ও খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আহমদ হোসেন খান এবং মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, গত পাঁচ বছরে দেশে খাদ্য উৎপাদন ৫০ লাখ টন বেড়েছে। গত দুই বছর ধরে দেশে সামান্য কিছু সুগন্ধি চাল ছাড়া কোনো চাল আমদানি করতে হচ্ছে না। জাতিসংঘের সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) অনুযায়ী ২০১৫ সালের মধ্যে চরম দারিদ্র্যের পরিমাণ অর্ধেকে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। বাংলাদেশ ২০১২ সালের মধ্যেই সেই লক্ষ্যে পৌঁছেছে। এই অর্জনের জন্য বাংলাদেশ বিশ্ব কৃষি ও খাদ্য সংস্থা (এফএও) থেকে বিশেষ সম্মাননা পেয়েছে।
উৎপাদনে এত সফলতা সত্ত্বেও কেন চলতি বছর বোরো মৌসুমে সরকারের ধান-চালের সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হলো না—সাংবাদিকেরা এই প্রশ্ন তুললে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এখনো আমাদের ধান-চাল ও গম মিলিয়ে মোট মজুত ১১ লাখ টনের ওপরে আছে। এই মজুতে ঝুঁকিপূর্ণ নয়। চলতি আমন মৌসুমে সরকার কৃষককে ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিশ্চিত করতে সংগ্রহমূল্য বাড়াচ্ছে। এতে আমনেও সংগ্রহ ভালো হবে, কৃষক ভালো দাম পাবেন।
সরকারের আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে বলতে গিয়ে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি ও এর দাম নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রেখে তা সাধারণের জন্য সহজলভ্য করতে পেরেছি। কিন্তু পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণে এখনো বাংলাদেশ বিশ্বে অনেক পিছিয়ে আছে। আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় এলে ও মন্ত্রীর দায়িত্ব পেলে সেদিকে বেশি মনোযোগ দেবেন বলে খাদ্যমন্ত্রী রাজ্জাক জানান।
সূত্র - প্রথম আলো

