হরতালের কারণে রাস্তাঘাট প্রায় ফাঁকা। মাঝেমধ্যে দ্রুতবেগে ছুটে যাচ্ছে দুই-একটি ব্যাটারিচালিত রিকশা। এ সময় হঠাৎ চোখে পড়ল একটি অ্যাম্বুলেন্স আর সাদা রঙের একটি পিকআপ ভ্যান। প্রায় কাছাকাছি দূরত্বে পাশাপাশি চলছে খুব ধীরগতিতে। ভ্যানের ওপর দাঁড়িয়ে আছেন কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবী। তাঁদের সবার গায়ে জড়ানো লাল রঙের হাফ জ্যাকেট। তাতে রেড ক্রিসেন্টের লোগো। ভ্যান ও অ্যাম্বুলেন্সের সামনে ব্যানারে লেখা রয়েছে: ‘জরুরি প্রাথমিক চিকিৎসা’।
গতকাল রোববার দুপুরে চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশ এলাকার প্রবর্তক মোড় দিয়ে যাচ্ছিল এ দুটি যান এবং স্বেচ্ছাসেবীরা। তাঁরা নগরে হরতালের সময় বিভিন্ন সহিংসতায় আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসেবা দিতেই ছুটে বেড়াচ্ছেন। এর সার্বিক পৃষ্ঠপোষকতায় রয়েছে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি চট্টগ্রাম সিটি ইউনিট।
রাজধানী ঢাকায় গত ২৪ অক্টোবর থেকে এ সেবাকার্যক্রম শুরু হয়েছে। চট্টগ্রামে গতকালই প্রথমবারের মতো এ ধরনের ভিন্নধর্মী আয়োজন নিয়ে হাজির হন স্বেচ্ছাসেবীরা।
এ প্রসঙ্গে স্বেচ্ছাসেবী দলের অন্যতম সদস্য চট্টগ্রাম যুব রেড ক্রিসেন্টের যুবপ্রধান কাজী তাওফিকুল আজম বলেন, ‘চট্টগ্রাম নগরে আজই প্রথম আমাদের সেবাকার্যক্রম চালু করেছি। আমরা হরতালের সময় নগরের সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ জায়গাগুলোতে যাব। সেখানে বিভিন্ন সহিংসতায় আহত সাধারণ মানুষ, সংবাদকর্মী, রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা দেব।’
যুবপ্রধান আরও জানান, গতকাল সকালে হরতালের সময়ে নগরের এ কে খান মোড়ে সংঘটিত সংঘর্ষে আহত তিনজন পুলিশ সদস্যকে তাঁরা প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা দিয়েছেন। জানা যায়, হরতালের সময়ে প্রতিদিন দুই পালা করে চিকিৎসাসেবা দেবে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির দুটি দল (টিম)। একটি সকাল সাতটা থেকে বিকেল তিনটা এবং অপরটি বেলা তিনটা থেকে রাত আটটা। প্রতিটি দলে থাকছেন সাতজন করে স্বেচ্ছাসেবী। একই সঙ্গে একটি করে ভ্যান ও অ্যাম্বুলেন্স।
রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি চট্টগ্রাম সিটি ইউনিটের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য সাফকাত জাহান বললেন, ‘আমরা সবার জন্য এবং সবার সহযোগিতায় কাজ করছি। এটি বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ঢাকার একটি প্রকল্প। আমরা চট্টগ্রামে পুলিশ প্রশাসন এবং সব রাজনৈতিক দলের কাছে আমাদের কাজে সহযোগিতা চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছি। কারণ সাম্প্রতিক হরতালের সময়ে কখনো রিকশাশ্রমিক, কখনো শিশু আহত হতে দেখিছি। কিন্তু সময়মতো চিকিৎসাসেবা না পেয়ে তারা মারাত্মক পরিণতির দিকে চলে গেছে। এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং মানবিক আবেদনে সাড়া দিতেই আমরা চার দিনের হরতাল কমসূচিকে বেছে নিয়েছি।’
চট্টগ্রাম প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএর শিক্ষার্থী স্বেচ্ছাসেবী রিমা খানম জানালেন, পাঁচ বছর ধরে তিনি রেড ক্রিসেন্টের সেবা কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত। মানবতার সেবাকে ব্রত হিসেবে নিয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি এ ধরনের কাজে সহযোগিতা করে চলেছেন।
সূত্র - প্রথম আলো

