সম্ভবত খুব শিগগির জৈবপ্রযুক্তি এবং চিকিৎসা গবেষণায় ঘটতে যাচ্ছে বেশ অভাবনীয় এক পরিবর্তন। অন্তত নিউক্লিক অ্যাসিড রিসার্চ সাময়িকীর অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত এক গবেষণার প্রতিবেদনে এমনটাই জানাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট গবেষণার প্রধান এবং আমেরিকার দ্য স্ট্রিপস্ রিসার্চ ইনস্টিটিউট (টিএসআরআই) এর রসায়নের অধ্যাপক কার্লোস এফ বারবাস।
মার্কিন বিজ্ঞানীরা ডিএনএ বিন্যাসক্রম পরিবর্তনের কাজে একটি শক্তিশালী নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের পদ্ধতি খুঁজে পেয়েছেন। তাদের দাবি, এই পদ্ধতিটি ডিএনএ বিন্যাসক্রম পরিবর্তনের জন্য আগে ব্যবহৃত যেকোনো প্রযুক্তির তুলনায় অনেক বেশি কার্যকর হবে। আর তাই, জৈবপ্রযুক্তি ও চিকিৎসার ক্ষেত্রে ঘটবে অভাবনীয় পরিবর্তন। এ প্রসঙ্গে কার্লোস এ বারবাস বলছেন, “যে কোনো ডিএনএ বিন্যাসক্রম পরিবর্তনের কাজে নতুন এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা যাবে। এটি জীববিজ্ঞান গবেষণায় যে পরিবর্তন আনবে যা হয়তো কোনোদিন কেউ কল্পনাও করেননি।”
ডিএনএ হচ্ছে জীবদেহের গঠন ও কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণকারী আণবিক একক জিনের ধারক ও বাহক। জীববিজ্ঞানীরা কোনো নির্দিষ্ট উদ্ভিদ বা প্রাণীকোষের ডিএনএ সংশ্লিষ্ট একগুচ্ছ প্রোটিন বিভিন্ন প্রয়োজনে পরিবর্তন, পরিবর্ধন, প্রতিস্থাপন ও অপসারণ করে থাকেন। কখনো কখনো এসব কোষের জিনের নকশাতেও পরীক্ষামূলক পরিবর্তন আনেন তারা। সাধারণত জৈবপ্রযুক্তি ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের গবেষণা এবং জিনগত বিভিন্ন রোগের চিকিৎসার কারণে প্রয়োজন হয় এই ধরণের পরিবর্তনের। এসব ক্ষেত্রেই নতুন উদ্ভাবিত এই প্রযুক্তি বা পদ্ধতিটি পূর্ববর্তী বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা দূর করবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীরা।
জীবন্ত প্রাণীকোষের ডিএনএ বিন্যাসক্রম পরিবর্তনে এক পরিপূর্ণ অর্জন করতে পারা অণুজীব বিজ্ঞানীদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। নতুন এই পদ্ধতিটি উদ্ভাবনের ফলে তাদের স্বপ্ন রূপ নিতে যাচ্ছে বাস্তবে। এর আগে চারা গাছে বিভিন্ন রোগ সংক্রমণের জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়া থেকে উৎপাদিত প্রোটিন নিয়ন্ত্রণে সক্ষম হয়েছিলেন গবেষকেরা। এক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কয়েকটি জিনের তৎপরতা বাড়িয়ে দিয়ে আক্রমণকারী ব্যাকটেরিয়াকে দুর্বল করে দেয়া হয়। বিজ্ঞানীরা দেখতে পেয়েছেন যে নির্দিষ্ট কয়েকটি প্রোটিন পরিবর্তনের কৌশল অবলম্বনের মাধ্যমে ডিএনএ নকশায় প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা সম্ভব।
সূত্র - natunbarta.com

