বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের অবহেলায় শনিবার সন্ধ্যায় এক উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় মৃত ব্যক্তির বিক্ষুব্ধ স্বজনেরা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সরকারি বাসভবন ও চেম্বার ভাঙচুর করেছে।
মৃত ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরা জানান, পাথরঘাটা উপজেলার কালমেঘা ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ আকন শনিবার বিকেল সাড়ে পাঁচ টার দিকে বুকে ও পেটে ব্যথা নিয়ে হেঁটে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে কোনো চিকিৎসক না পেয়ে তিনি হাসপাতাল চত্বরে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা আবুল আহসানের সরকারি বাসায় যান এবং সেখানে ৩০০ টাকা ফি দিয়ে ব্যবস্থাপত্র নেন।
এ সময় চিকিৎসক তাঁকে হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেন। এরপর হারুন অর রশিদ হাসপাতালে ভর্তি হয়ে ব্যবস্থাপত্রে দেওয়া ওষুধপত্র হাসপাতালের সামনের একটি ফার্মেসি থেকে নিজেই কিনে আনেন। এর মধ্যে একটি ইনজেকশন দেওয়ার (পুশ) জন্য তিনি জরুরি বিভাগে গিয়ে কোনো লোকজন না পেয়ে বাইরের ফার্মেসির একজন লোক ডেকে এনে ইনজেকশন দেন। এরপর তিনি হাসপাতালের তিন তলায় তাঁর শয্যায় যান এবং এর কিছুক্ষণ পর সন্ধ্যা সাতটার দিকে মারা যান।
এ ঘটনায় তাঁর স্বজনেরা বিক্ষুব্ধ হয়ে রাত সাড়ে সাতটার দিকে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কর্মকর্তার বাসভবনে হামলা চালায় ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এ সময় বিক্ষুব্ধ ব্যক্তিরা বাসভবনে ওই চিকিৎসকের ব্যক্তিগত চেম্বারে ঢুকে পড়ে এবং আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে পাথরঘাটা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
হারুন অর রশিদের বড় ভাই আউয়াল হোসেন অভিযোগ করেন, চিকিৎসায় অবহেলার কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমার ভাই মারা যাওয়ার পর চিকিৎসকেরা তাঁর কাছে আসেন এবং নিজেদের দায় এড়াতে তড়িঘড়ি করে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। অথচ বিকেল থেকে ওর চিকিৎসার ব্যাপারে চিকিৎসক ও সেবিকারা কোনো খোঁজখবর নেননি।’
আবুল আহসান বলেন, ‘রোগী আমার কাছে আসার পর অবস্থা গুরুতর দেখে ব্যবস্থাপত্র দিয়ে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তির জন্য পাঠাই। এরপর তাঁর অবস্থা আরও গুরুতর হলে তাঁকে বরিশালে নেওয়ার পরামর্শ দিই। চিকিৎসায় আমাদের কোনো অবহেলা ছিল না।’
সূত্র - প্রথম আলো

