অন্যের স্পার্ম বা শুক্রাণু নিয়ে সন্তান জন্ম দেয়ার ধারণা ও চর্চা খুব বেশি দিনের নয়। পশ্চিমা দুনিয়ার জীবন চর্চা ও সংস্কৃতির সংকট থেকে এধরনের পদ্ধতি বা প্রযুক্তি উদ্ভাবন রীতিমত অনিবার্য হয়ে গেছে সেখানে।
ইউরোপ ও আমেরিকার বাইরে এটি এখনো কৌতুহল হলেও পশ্চিমে এর বাণিজ্যিক ব্যবহার ও পুঁজিকরণ নিয়ে রীতিমত প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে গেছে। ভারত যেমন করে গর্ভ ভাড়ার দেয়ার ক্ষেত্রে বিশ্বখ্যাতি অর্জন করে ফেলেছে, তেমনি মার্কিন দুনিয়াও সেই খ্যাতির যাত্রা শুরু করে দিয়েছে।
ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রস্তাবিত পিতা-মাতার ডিএনএ নিয়ে একসঙ্গে মিশ্রণ করে প্রক্রিয়াকরণ করা। সেইসঙ্গে পিতা-মাতা বা কোন নারী-পুরুষের পরস্পরের শুক্রাণু-ডিম্বাণুর মিশ্রণ করে যে বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সন্তান জন্ম হবে সেই ‘ডিজিটাল শিশুর’ রোগ ব্যাধি শনাক্ত করা নিয়েও সেবা বা বাণিজ্য শুরু হয়ে গেছে।
গত ডিসেম্বরেই মার্কিন মুলুকে এই রকম হাজার হাজার ‘ভার্চুয়াল শিশু’ নিয়ে কারবার করতে জিনেপিক নামের প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করেছে।
নিউইয়র্কে জিনেপিকস প্রাথমিকভাবে শুক্রাণুদাতার উপর গুরুত্বারোপ করে কাজ শুরু করেছে। সেই সঙ্গে সন্তান জন্মদানে তাদের সম্ভাব্য ক্লায়েন্ট (গ্রাহক) নারীকে বের করা এবং দুই ভিন্ন নারী-পুরুষের শুক্রাণু-ডিম্বাণু মিশ্রণের ফলে কিভাবে জেনেটিক ধারাক্রম ও ফলাফল তৈরি হয় সেগুলা পর্যবেক্ষণ করাসহ অন্ত:সত্তা হওয়ার আগে ওই নারীকে সেবা দিয়ে যাওয়া তাদের কাজ।
নিউইয়র্কের জিনেপিকস এর সহকারী প্রতিষ্ঠাতা এনি মরিস বিবিসিকে বলেন, “আমরা শুধুমাত্র ব্যবসা করছি। আমাদের ব্যবসা শুধু যেসব সম্ভাব্য মায়েরা সন্তান নেয়ার জন্য শুক্রাণুদাতাদের গ্রহণ করছেন সেসব মায়েদেরকে এই বিশোধিত শুক্রাণুর ক্যাটালগ দেয়া। এই ক্যাটালগটি শুক্রাণুদাতাতের নিজস্ব জেনেটিক প্রোফাইলের ভিত্তিতে করা হয়।”
শুক্রাণুদানকারী পুরুষরা প্রায়ই এভাবে ‘ডিজিটাল শিশু’ উৎপাদনে সাহায্য করে থাকেন। কিন্তু তাতে করে এসব শিশু নানারকম মনোদৈহিক ডিসঅর্ডার ও রোগ ব্যাধির ঝুঁকিও বহন করতে পারে।
সেকারণে শুক্রাণুদানকারীদের বিশেষ প্রকিয়ায় পরিশ্রুত করার কাজও করবে এই জিনেপিক। অর্থাৎ শুক্রাণুর বিশোধন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে জেনেটিক্যালি যা সুন্দরভাবে ম্যাচ করে তাকেই কেবল বেছে নেয়া হবে।
ডিএনএ থেকে শুরু করে শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিশ্রণ-প্রক্রিয়াকরণসহ পুরো আয়োজনটাই নিয়ন্ত্রিত হবে কম্পিউটারে। কিন্তু এসব নিয়ে ঘোরতর নৈতিক আপত্তি তুলেছেন ডিএনএ বিশেষজ্ঞ ও জেনেটিক বিজ্ঞানীরা।
সূত্র - poriborton.com

