নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার লক্ষ্মণখোলা এলাকায় ওয়াসার দুর্গন্ধযুক্ত ময়লা পানি পান করে অসুস্থ হয়ে গত তিন দিনে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় লোকজন ও কাউন্সিলর বিষয়টি নিশ্চিত করলেও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে দুজনের মৃত্যু নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে দুর্গন্ধযুক্ত দূষিত পানি পান করে লক্ষ্মণখোলার তিন শতাধিক বাসিন্দা গুরুতর অসুস্থ হয়ে বর্তমানে ঢাকার মহাখালীর আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্রসহ (আইসিডিডিআরবি) বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছেন। গণ-অসুস্থতার ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন দুটি চিকিৎসা দল গঠন করেছে।
লক্ষ্মণখোলার একাধিক বাসিন্দা জানান, কয়েক দিন ধরে ওয়াসার পানিতে ময়লা-আবর্জনা পাওয়া যাচ্ছিল। পানি ছিল দুর্গন্ধযুক্ত। গত মঙ্গলবার থেকে লোকজনের মধ্যে ডায়রিয়া, পেটের পীড়াসহ বিভিন্ন রোগ দেখা দেয়।
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর লক্ষ্মণখোলার বাসিন্দা এনায়েত হোসেন, শহীদুল্লাহ ও রমিজ মিয়া জানান, ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গত বুধবার গভীর রাতে মারা যান লক্ষ্মণখোলার রেহানা বেগম (২৮) ও সিরাজুল ইসলাম (৬০)। গত বৃহস্পতিবার দক্ষিণ লক্ষ্মণখোলার আফসার আলী (৬৫) ও গতকাল শুক্রবার সকাল আটটার দিকে মারা যান ফিরোজা বেগম (৭৫)।
দক্ষিণ লক্ষ্মণখোলা এলাকায় চিকিৎসা দলের দায়িত্বে থাকা সহকারী চিকিৎসা কর্মকর্তা চন্দ্রা সাহা জানান, দূষিত পানির কারণে মঙ্গলবার থেকে ডায়রিয়া মহামারি আকার ধারণ করেছে। গতকাল সকাল থেকে দুই শতাধিক রোগী তাঁদের কাছে চিকিৎসা নিয়েছেন।
এদিকে গতকাল বিকেলে উত্তর লক্ষ্মণখোলার পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করতে গিয়ে এলাকাবাসীর তোপের মুখে পড়েন ঢাকা ওয়াসার মডস জোন-১-এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবদুল মান্নানসহ ঢাকা ওয়াসার কর্মকর্তারা।
আবদুল মান্নান বলেন, অপরিকল্পিতভাবে পাইপলাইন নেওয়ার কারণে এ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। সিটি করপোরেশন কোনো কোনো এলাকায় ওয়াসার পাইপলাইনের ওপর দিয়ে নর্দমা নিয়ে গেছে। এতে পাইপ ছিদ্র হয়ে ময়লা পানি যাচ্ছে।
বন্দর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বদরুন নাহার বলেন, ‘আমরা দুজনের মৃত্যুর খবর পেয়েছি। আরও কেউ মারা গেছেন কি না তার খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে ওয়াসাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।’
সূত্র -প্রথম আলো

