ওজন কমানোর জন্য এক ঘণ্টা নয়, ৩০ মিনিটই যথেষ্ট। বিশ্বাস হলো না তো? কিন্তু এটাই সত্যি! যারা এক ঘণ্টা বা তার চেয়ে বেশি সময় ব্যায়াম করেন তারা এসময়টা কমিয়ে অন্য কাজেও লাগাতে পারেন। কারণ ৩০ মিনিটের বেশি সময় ধরে ব্যায়াম করলে তা ওজন কমানোর ক্ষেত্রে তেমন একটা ভূমিকা রাখে না।
সম্প্রতি ডেনমার্কের নতুন একটি সমীক্ষায় এ তথ্য বেরিয়েছে। এতে দেখা যায়, ৩০ মিনিট সময় ধরে ব্যায়ামকারীদের ওজন এক ঘণ্টা ব্যায়ামকারীদের চেয়েও বেশি কমে। এতে আরো বলা হয়, কম সময় ধরে ব্যায়াম করলে শরীরে বেশি এনার্জি থাকে। যা মানুষকে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে উৎসাহিত করে। কিন্তু যারা জিমেই এক ঘণ্টা কাটিয়ে দেন, তারা ক্লান্ত বোধ করে।
বিজ্ঞানীরা এর সপক্ষে যুক্তিও দেখিয়েছেন। স্ক্যান্ডিনেভিয়ান জার্নাল অব পাবলিক হেলথে জরিপটি প্রকাশ করা হয়েছে। এতে অতিরিক্ত ওজনধারী কিন্তু স্বাস্থ্যবান ৬০ জন ডেনিশ লোককে ১৩ সপ্তাহ ধরে পর্যবেক্ষণ করা হয়।
এসময় ৬০ জনের অর্ধেককে দিনে ৩০ মিনিট জগিং, সাইক্লিংসহ বিভিন্ন ধরনের অনুশীলন করতে বলা হয়। বাকি অর্ধেককে দৈনিক এক ঘণ্টা ধরে একই অনুশীলন করতে বলা হয়।
১৩ সপ্তাহ পর দেখা যায়, দিনে গড়ে ৩০ মিনিট অনুশীলনকারীদের ৩.৬ কেজি কমেছে। কিন্তু যারা এক ঘণ্টা অনুশীলন করেছেন তাদের ওজন কমেছে মাত্র দুই দশমিক সাত কেজি।
ইউনিভার্সিটি অব কোপেনহেগেনের অধ্যাপক ও গবেষক ডাক্তার অস্ট্রিড জানান, যারা কম সময় হেঁটেছেন, তাদের মধ্যে এনার্জি বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে এটি তাদের স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনেও অনুপ্রাণিত করেছে। ফলে তারা লিফট ব্যবহার না করে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠেছেন, কুকুরকে হাঁটাতে নিয়েছেন অথবা সাইকেলে করেই কর্মস্থলে গিয়েছেন।
কিন্তু যারা দৈনিক এক ঘণ্টা অনুশীলন করেছেন, তাদের ক্ষেত্রে এ অনুশীলন তেমনটা কাজে লাগেনি। বেশি সময় ধরে অনুশীলন করায় তারা ক্লান্ত হয়েছে। ফলে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের জন্য আগ্রহ বোধ করেননি তারা।
সম্প্রতি আমেরিকান জার্নাল অব হেলথ প্রমোশনে আরেকটি জরিপ প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, মহিলারা অনুশীলনে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করলেও ওজন খুব সামান্যই কমে। এজন্য নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে ব্যায়াম করা বৃথা। সূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস
সুত্র - natunbarta.com

