বাংলাদেশে আত্মহত্যা সবচেয়ে বেশি হয় কীটনাশক পানের মাধ্যমে। এসব কীটনাশকের অন্যতম উপাদান অরগানোফসফরাস কম্পাউন্ড (ওপিসি)। আত্মহত্যা প্রতিরোধে অন্যান্য ব্যবস্থার সঙ্গে কীটনাশকের ব্যবহারও নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
গতকাল সোমবার জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে এক বৈজ্ঞানিক সেমিনারে এ তথ্য উপস্থাপন করা হয়। আজ ১০ সেপ্টেম্বর ‘বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস’। এ উপলক্ষে এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়। দিবসের এবারের স্লোগান ‘আত্মহত্যা প্রতিরোধের প্রধান অন্তরায় কুসংস্কার’।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ পড়েন মনোরোগ চিকিৎসক মুনতাসীর মারুফ। প্রবন্ধে বলা হয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ হচ্ছে, কীটনাশক ও কৃষিকাজে ব্যবহূত সব রাসায়নিকের বোতল বড় কৌটা বা মুখবন্ধ পাত্রে রেখে তালা দিয়ে রাখতে হবে এবং শুধু গৃহকর্তা ছাড়া অন্য কেউ সেটি খুলতে পারবে না, এমন ব্যবস্থা নিতে হবে। কিন্তু বাস্তবে তা হয় না।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সাইকিয়াট্রিস্টের সভাপতি মো. গোলাম রাব্বানী বলেন, আত্মহত্যা ও এর কারণ নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে গবেষণা হওয়া প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক মো. ওয়াজিউল আলম চৌধুরী এবং মো. শাহ আলম, এম এ হামিদ, মোহিত কামাল, ফারুক আলমসহ মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকেরা।
সেমিনারে বলা হয়, গোটা বিশ্বে প্রতি ৪০ সেকেন্ডে একজন আত্মহত্যা করছে। বাংলাদেশেও এই সংখ্যা নেহাত কম নয়। বছরে প্রতি লাখে আট থেকে ১০ জন আত্মহত্যা করছে। মনোরোগ চিকিৎসকেরা বলছেন, মানসিক রোগ নিয়ে সমাজে যে কুসংস্কার রয়েছে, সেটি রোধ করা না গেলে আত্মহত্যার মতো ঘটনা এড়ানো যাবে না।
মো. ওয়াজিউল আলম চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘আত্মহত্যার কারণ হিসেবে আমরা তাৎক্ষণিকতার ওপর জোর দিই। কিন্তু বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, সারা বিশ্বে যত আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে, তার ৫০ শতাংশের কারণ বিষণ্নতা। এ ছাড়া সিজোফ্রেনিয়া, মাদকাসক্তি ও ব্যক্তিত্বের সমস্যা আরও প্রায় ২৫ শতাংশ মৃত্যুর জন্য দায়ী।’
সূত্র- প্রথম আলো

