অবশেষে অভিনেত্রী মিতা নূরের মৃত্যুর রহস্য প্রকাশ পেলো। তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলেই বলা হলো ময়নাতদন্ত রিপোর্টে। একই সঙ্গে এই অপমৃত্যুর তদন্ত কাজের ইতি টেনে পুলিশও বললো, আত্মহত্যার বাইরে তেমন গুরুত্বপূর্ণ কোনো তথ্যই পাওয়া যায়নি।
এক সপ্তাহ আগে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ মিতা নূরের ময়নাতদন্ত রিপোর্ট গুলশান থানায় পাঠায়।
এর আগে ঢামেক ফরেনসিক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক সোহেল মাহমুদ ২০ আগস্ট মিতা নূরের মৃত্যুকে ‘আত্মহত্যা’ বলে উল্লেখ করে ময়না তদন্ত রিপোর্ট দেন।
গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট আমরা পেয়েছি। রিপোর্টে বলা হয়েছে, আত্মহত্যাজনিত (সুইসাইডাল) কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। তবুও নিহতের স্বামী শাহানূরের বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনাকারী হিসেবে অভিযোগ থাকায় তাকে ছাড়াও সন্দেহভাজন অন্যদের একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এখনও আমরা তার ওপর নজরদারি রেখেছি। আমাদের তদন্ত শেষ হয়নি।
মিতা নূরের মৃত্যুর পর তার বাবা ফজলুর রহমান অভিযোগ করে আসছিলেন- স্বামী শাহনূরের সঙ্গে মিতার প্রায়ই ঝগড়া হতো। স্বামীর নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে এর আগে মিতা আরও দুবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। স্বামীর অত্যাচার-নির্যাতনের ফলেই তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার দিন পুলিশ খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের আলামত ফরেনসিক বিভাগে পাঠায়। সেসময় পুলিশ, ডিবি ও সিআইডি ক্রাইম সিন ইউনিটসহ একাধিক গোয়েন্দা টিমের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেন।
প্রসঙ্গত, ১ জুলাই সকালে রাজধানীর গুলশান-২ নম্বরের ১০৪ নম্বর রোডে ১৬ নম্বর বাসার ড্রয়িং রুমের সিলিংফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় অভিনেত্রী সাবিনা ইয়াসমিন মিতা নূরের (৪২) মৃতদেহ উদ্ধার করে গুলশান থানা পুলিশ।
সূত্র - বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

