চারদিকে দাঁড়িয়ে দর্শকের চোখে বিস্ময়। এ বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছেন নেত্রকোনার মদন উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা ক্ষিতীন্দ্র চন্দ্র বৈশ্য (৬১)। উপজেলা পরিষদের পুকুরে গতকাল শনিবার টানা ১৫ ঘণ্টা ৫ মিনিট সাঁতার কেটে বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছেন তিনি।
দেওয়ান জাহের বখ্ত ওয়াকফ এস্টেট ও মদন পৌরসভার উদ্যোগে গতকাল এক সাঁতার প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন ইউএনও মোহামঞ্চদ সফিউল আলম ও পৌর মেয়র দেওয়ান মোদাচ্ছের হোসেন।
মদন পৌরসভা ও এলাকাবাসী জানান, গতকাল ভোর সাড়ে ছয়টায় সাঁতার শুরু করে রাত নয়টা ৩৫ মিনিট পর্যন্ত একনাগাড়ে সাঁতার কেটেছেন ক্ষিতীন্দ্র। এ সময় পুকুর পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা শত শত দর্শক তা উপভোগ করেন। ক্ষিতীন্দ্র ছাত্রজীবনে ১৯৭০ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সাঁতার প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে দেশ-বিদেশে একাধিক রেকর্ড গড়েন। সাঁতারে অবদানের জন্য ১৯৭৫ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁকে গণভবনে রুপার নৌকা দিয়ে পুরস্কৃত করেন। তিনি ১৯৭৫ সালে পদার্থবিদ্যা ও ১৯৭৯ সালে ফলিত পদার্থবিদ্যা ও ইলেকট্রনিকস বিভাগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর পাস করেন। তিনি ২০১২ সালে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর ওই বছর থেকেই সেখানে এএনএস কনসালট্যান্ট হিসেবে কর্মরত আছেন।
তিনি ১৯৭০ সালে জাহাঙ্গীরপুর উন্নয়ন কেন্দ্রের পুকুরে ১৫ ঘণ্টা, ১৯৭৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল পুকুরে ৯৩ ঘণ্টা ১১ মিনিট (জাতীয় রেকর্ড), ১৯৭৬ সালে জগন্নাথ হল পুকুরে ১০৮ ঘণ্টা পাঁচ মিনিট (নতুন রেকর্ড), ১৯৮০ সালে ভারতের ভাগিরথী নদীতে ৭৪ কিলোমিটার সাঁতার প্রতিযোগিতায় নবম স্থান অর্জন করেন।
মদন পৌরসভার মেয়র দেওয়ান মোদাচ্ছের হোসেন বলেন, স্থানীয় তরুণদের সাঁতারে উৎসাহিত করতে ও একই সঙ্গে তাঁর প্রতি সম্মান জানাতে এ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে।
ক্ষিতীন্দ্র চন্দ্র বলেন, ‘সাঁতার শরীর গঠন করে, শরীরের সহনশীলতা বাড়ায়। উপযুক্ত পানির অভাবে বর্তমান প্রজন্ম সাঁতারের মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যায়াম থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাদের সুযোগ করে দিতে সরকারকে এগিয়ে আসা উচিত। ধারাবাহিকতা রক্ষায় ও তরুণদের উৎসাহিত করতে আমি এতে অংশ নিই।’
সূত্র - প্রথম আলো

