চিকিৎসক না থাকায় পাঁচ মাস ধরে পঞ্চগড় শহরে অবস্থিত মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রে প্রসূতিদের অস্ত্রোপচার বন্ধ রয়েছে। এতে মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র পরিবারের প্রসূতিরা বিপাকে পড়েছেন। অনেক ক্ষেত্রে তাঁরা ক্লিনিকে গিয়ে অতিরিক্ত টাকা খরচ করে সন্তান প্রসব করছেন।
মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রের অবেদনবিদ অধীনন্দ্রনাথ সরকারকে গত ৬ মার্চ লালমনিরহাটে বদলি করা হয়। অবেদনবিদ না থাকায় চিকিৎসা কর্মকর্তা মাজেদ আলী শেখকেও গত মাসে বদলি করা হয়। এরপর কেন্দ্রটি চিকিৎসকশূন্য হয়ে পড়ে। গত পাঁচ মাসেও এখানে কোনো চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়নি।
গত মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিন দেখা যায়, এ কেন্দ্রে অনেক নারী ও শিশু চিকিৎসার জন্য এসেছে। স্বাস্থ্য পরিদর্শিকা শাহানাজ বেগম তাঁদের চিকিৎসা দিচ্ছেন। তিনি জানান, এখানে প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৫০ জন মা ও শিশু চিকিৎসাসেবা নিতে আসে। চিকিৎসক না থাকায় এখানে অস্ত্রোপচার (সিজারিয়ান অপারেশন) করা যাচ্ছে না। তবে স্বাভাবিক প্রসবসহ অন্যান্য সেবা চালু আছে। গত পাঁচ মাসে এ কেন্দ্রে ৬৫ জন প্রসূতির স্বাভাবিক প্রসব করানো হয়েছে।
দুর্বার নেটওয়ার্কের উপদেষ্টা আকতারুন নাহার বলেন, জেলা সদরের এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পাঁচ মাস ধরে চিকিৎসক না থাকায় এলাকার দরিদ্র পরিবারের প্রসূতিরা বিপাকে পড়েছেন। তাঁরা ক্লিনিকে গিয়ে অতিরিক্ত টাকা খরচ করে অস্ত্রোপচার করাতে বাধ্য হচ্ছেন।
বোদা উপজেলার ভুল্লীপাড়া গ্রামের ভ্যানচালক দছিম উদ্দিন তাঁর স্ত্রী মুন্নী আকতারকে (২৫) নিয়ে সম্প্রতি এ কেন্দ্রে এসে ফিরে যান। তিনি জানান, ওই কেন্দ্রে অস্ত্রোপচার বন্ধ থাকায় তিনি ভীষণ বিপদে পড়েছেন। তিনি পাঁচ হাজার টাকা খরচ করে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে তাঁর স্ত্রীকে অস্ত্রোপচার করিয়েছেন।
জেলা পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মিজানুর রহমান জানান, মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রে চিকিৎসক নিয়োগের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। অস্ত্রোপচার বন্ধ থাকলেও স্বাভাবিক প্রসবসহ অন্য সব সেবা চালু আছে। তবে বেশি সমস্যা হলে প্রসূতিদের পঞ্চগড় সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
সূত্র - প্রথম আলো

