আড়িয়ল বিল থেকে প্রতিদিন অবাধে শামুক নিধন চলছে। দোহার ও নবাবগঞ্জ অংশের দুবলী, মরিচপট্টি, শ্রীনগরের রাঢ়িখাল ও কেয়টখালী এলাকায় এই বিলে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলছে শামুক আহরণ। অবাধে শামুক আহরণের ফলে বিলের জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা করছেন পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা।
স্থানীয় লোকজন জানান, প্রতিদিন প্রায় ২০ টন শামুক এই বিল থেকে আহরণ করা হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা তা নিয়ে যাচ্ছেন দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায়। সেখানকার ঘেরগুলোতে চিংড়ির খাবার হিসেবে এই শামুক ব্যবহার করা হচ্ছে।
এলাকাবাসী জানান, জুন মাসে বোরো মৌসুম শেষ হওয়ার পরপরই বর্ষাকালে পানি বাড়তে থাকার সময় থেকে এই বিলে শামুক আহরণ শুরু হয়। অক্টোবরে পানি কমা শুরু করার আগ পর্যন্ত এই নিধন চলতে থাকে। বিলের বিভিন্ন স্থানে রাস্তার পাশে ব্যবসায়ীরা এসে এগুলো কিনে নিয়ে যান।
সম্প্রতি বিলের নবাবগঞ্জের দুবলী, মরিচপট্টি, মদনখালী ও শ্রীনগরের রাঢ়িখাল এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, ছোট ছোট অর্ধশত নৌকা নিয়ে স্থানীয় দরিদ্র লোকজন জাল, সরু কাপড়সহ অন্যান্য সরঞ্জাম দিয়ে শামুক তুলছেন। দুবলী গ্রামের হাশেম শেখ বলেন, ‘বর্ষাকালে আমাগো কোন কাম না থাহায় হামু বেইচ্যা সংসার চলে।’ মো. দুলাল বলেন, তাঁরা এক বস্তা শামুক ২৫০-৩০০ টাকা বিক্রি করেন। সারা দিনে একজনের পক্ষে দুই বস্তার বেশি কুড়ানো সম্ভব হয় না।
দুবলী এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, মরিচপট্টি গ্রামের মো. আনিস, তোফাজ্জল মাঝি, আবদুর রহিম ও শ্রীনগরের বালাশুর গ্রামের মো. আজাদ শামুকভর্তি বস্তা কিনে নিচ্ছেন। আনিস বলেন, ‘বস্তা প্রতি এক-দেড় শ টাকা পেলেই মাল ছেড়ে দিই। এগুলো খুলনাসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন অঞ্চলের চিংড়িঘেরগুলোতে সরবরাহ করা হয়।’ এই বিল থেকে প্রতিদিন প্রায় ২০ টন শামুক দেশের দক্ষিণাঞ্চলে যায় বলে জানান তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক আবুল বাসার বলেন, শামুক ময়লা জাতীয় জিনিস খায়। এতে পানি পরিষ্কার থাকে। শামুক তুললে পানিতে দূষণ ঘটবে। অণুজীব কমে যাবে। মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণী ও উদ্ভিদের ক্ষতি হবে। ব্যাপক হারে শামুক আহরণের কারণে বিলের জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়বে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের ঢাকা কার্যালয়ের প্রকল্প পরিচালক অপরূপ চৌধুরী বলেন, আড়িয়ল বিলে শামুক আহরণ ঠেকাতে তাঁরা ব্যবস্থা নেবেন।
সূত্র - প্রথম আলো

