home top banner

News

সাড়ে তিনখানা ঘোড়ার শক্তি নিয়ে দৌড়ান বোল্ট
19 August,13
 Posted By:   Healthprior21
  Viewed#:   28

বিশ্বের চিরকালের দ্রুততম মনুষ্য হওয়ার বিপদ হলো, মানুষটিকে নিয়ে রীতিমতো গবেষণা শুরু হয়ে যায়৷ একটা মানুষ ১০০ মিটার ৯ দশমিক ৫৮ সেকেন্ডে দৌড়ায় কী করে, সেটা জানার আগ্রহ তো শুধু অ্যাথলিট কিংবা ফ্যানদেরই নয়৷
 
ইউসেইন বোল্টের স্প্রিন্ট একটা দেখার মতো ব্যাপার৷ এক মিটার ৯৫ সেন্টিমিটার লম্বা হওয়ার দরুন বোল্টের দৌড়শৈলিটা অন্যান্য দৌড়বীরদের চেয়ে কিছুটা আলাদা৷ তার স্টার্টটা খুব বিস্ফোরক নয়, কেননা দৈর্ঘ্যের কারণে বোল্টের ওজনও বেশি৷ ওই পরিমাণ ‘মাস'-কে শূন্য থেকে দৌড়ের গতিতে আনতে সময় লাগবে বৈকি৷

এছাড়া বোল্ট তার নিজের দৌড়ের নকশাটা চেনেন – সে জন্য সূচনায় কিংবা শেষে তার বেশি তাড়াহুড়ো করার দরকার পড়ে না৷ শূন্য দশমিক ১৮০ সেকেন্ডের স্টার্টকে বাকি ১০০ মিটার দৌড়বীরদের তুলনায় প্রায় ‘ধীরেসুস্থে' বলা চলে৷ কাজেই দৌড় শুরু হবার পর প্রথমে অপর কোনো স্প্রিন্টারই সামনে থাকে – যদিও বেশিক্ষণের জন্য নয়৷

বোল্ট তার লম্বা লম্বা পা ফেলে কিছুক্ষণের মধ্যেই লিড নিয়ে নেন৷ পায়ের তলা থেকে কোমর অবধি বোল্টের পায়ের দৈর্ঘ্য হল এক মিটার দশ সেন্টিমিটার৷ দৌড়ের সময় পা ফেলেন প্রতি বারে দু'মিটার ৯৫ সেন্টিমিটার৷ তার গড় পদক্ষেপই হলো দুই মিটার ৪৩ সেন্টিমিটার৷ জার্মানির ‘ডি প্রেসে' পত্রিকায় ২০১২ সালে প্রকাশিত একটি রিপোর্ট অনুযায়ী এর অর্থ দাঁড়াচ্ছে, বোল্টের ১০০ মিটার দৌড়তে ৪১ বার পা ফেলতে হয়, অন্যদের ৪৩ বার পা ফেলা লাগে৷ কাজেই বোল্ট তো জিতবেনই!

পদার্থবিদ ও নিউরোফিজিসিস্টরা বোল্টের দৌড় নিয়ে চর্চা করেছেন৷ কেউ আবিষ্কার করেছেন, বোল্টের পরিবার আফ্রিকা থেকে আসার কারণে তার নাভি ইউরোপীয়দের থেকে তিন সেন্টিমিটার বেশি উঁচুতে৷ এর ফলে বোল্টের শরীরের ‘মাধ্যাকর্ষণ বিন্দু'-ও অনেক উঁচুতে – যা তার বিশেষ দৌড়শৈলির আরেকটি কারণ৷ সব মিলিয়ে দশ থেকে বিশ পা যাবার পরই বোল্ট তার সর্বোচ্চ গতি – ঘণ্টায় প্রায় ৪৩ কিলোমিটার! – অর্জন করেন৷

বোল্ট ২০০৯ সালের যে দৌড়ে ৯ দশমিক ৫৮ সেকেন্ডের বিশ্বরেকর্ড করেন, বার্লিনের সেই স্প্রিন্ট নিয়ে পদার্থবিদরা গবেষণা করেছেন৷ এমনকি তাদের সে বিশ্লেষণের ফলাফল ইউরোপিয়ান জার্নাল অফ ফিজিক্স'এ ছাপা হয়েছে – এ বছরই৷ জার্মানির স্যুডডয়েচে সাইটুং পত্রিকা বিজ্ঞানীদের সিদ্ধান্তের পূর্ণ বিবরণ প্রকাশ করে৷

আধুনিক যুগ, আধুনিক প্রযুক্তি৷ বোল্টের দৌড়ের প্রতি সেকেন্ডের দশমাংশ লেজার দিয়ে মাপা হয়েছিল৷ তা থেকে বিজ্ঞানীরা ফিনিশিং লাইন পার হওয়ার সময় বোল্টের গতি নির্ধারণ করতে পেরেছেন: সেকেন্ডে ১২ দশমিক ২ মিটার বা ঘণ্টায় ৪৩ দশমিক ৯ কিলোমিটার৷ দৌড়ে বোল্টের শরীরের প্রয়োজন পড়ে ৮১৫ দশমিক ৮ নিউটন শক্তি - যা কিনা ৮৩ দশমিক ২ কিলোগ্রাম ওজন তোলার সমান৷ সবচেয়ে বেশি শক্তি – এক হাজার নিউটন – লাগে স্টার্টের সময়৷ দৌড়ের সময় চূড়ান্ত শক্তি হল ২,৬২০ ওয়াট কিংবা ৩ দশমিক ৫১ অশ্বশক্তি৷

অর্থাৎ সাড়ে তিনখানা ঘোড়ার শক্তি নিয়ে দৌড়ন ইউসেইন বোল্ট৷ সূত্র: ডিডব্লিউ।

সূত্র - natunbarta.com

 

Please Login to comment and favorite this News
Next Health News: বিশ্বজুড়ে রোগীদের সেবা
Previous Health News: ‘মায়ের দুধ খাওয়ালে ৩১ শতাংশ নবজাতকের মৃত্যুরোধ সম্ভব’

More in News

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় অ্যান্টিবায়োটিক!

সম্প্রতি এক গবেষণায় জানা গেছে, কম বয়সে অ্যান্টিবায়োটিক খেলে পরবর্তী ক্ষেত্রে মানব শরীর বিভিন্ন ধরনের রোগ প্রতিরোধ করতে সক্ষম থাকে৷ কলোম্বিয়ার ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যায়লের এ গবেষণা অনুযায়ী, অন্ত্রে বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া বিরাজ করে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাস্থ্যকর রাখে৷ কিন্তু... See details

ঢাবিতে মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন উদ্বোধন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগ ও বাংলাদেশ ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে  ‘Mental Health Gap in Bangladesh: Resources and Response’ শীর্ষক চার দিনের চতুর্থ মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধন  হয়েছে। বুধবার ঢাকা... See details

৯টি ভয়ংকর সত্যি, যা আপনাকে ডাক্তাররা জানান না!

অনেক সময় কোনো ওষুধ একটি রোগ সারিয়ে তুললে, সেই ওষুধই অন্য একটি অসুখকে আমন্ত্রণ জানিয়ে রাখে। এমনকি এক্স রে রশ্মিও আমাদের শরীরে ক্যান্সারের মতো মারণ রোগের জন্ম দেয়। ওষুধের প্রভাবে কী কী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে ১. ওষুধে ডায়াবিটিস বাড়তে পারে: সাধারণত ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবিটিস হয়।... See details

প্রাকৃতিক ভায়াগ্রা হর্নি গোটউইড

চীনের একটি গাছের নাম হর্নি গোটউইড। এই গাছ থেকেই অদূর ভবিষ্যতে সস্তায় মিলবে ভায়াগ্রার বিকল্প ওষুধ। পুরুষাঙ্গকে দৃঢ়তা প্রদানের জন্য যে যৌগটি দরকার, সেই আইকারিন প্রচুর পরিমাণে রয়েছে হর্নি গোটউইডে। এই উপদানটিকে প্রকৃতিক ভায়াগ্রা হিসেবে শনাক্ত করেছেন ইউনিভার্সিটি অফ মিলানের গবেষক ডা. মারিও ডেল... See details

ব্রেন ক্যানসার থেকে মুক্তি দেবে ‘সোনা’

ব্রেন ক্যানসার চিকিৎসায় এবার ব্যবহৃত হবে সোনা৷ কারণ সোনা নাকি ব্রেন ক্যানসার থেকে মুক্তি  দিতে পারে৷ বিজ্ঞান পত্রিকা ন্যানোস্কেল অনুযায়ী, ব্রেন ক্যানসারের  চিকিৎসার সোনার একটি অতি সুক্ষ টুকরো সাহায্যকারী প্রমাণিত হতে পারে৷ বৈজ্ঞানিকরা একটি সোনার টুকরোকে গোলাকৃতি করে... See details

যৌবন ধরে রাখতে অশ্বগন্ধা

বাতের ব্যথা, অনিদ্রা থেকে বার্ধক্যজনিত সমস্যা। এ সবের নিরাময়ে অশ্বগন্ধার বিকল্প নেই। তেমনটাই তো বলেন বিশেষজ্ঞরা। এমনকি যৌবন ধরে রাখতেও অশ্বগন্ধার উপকারিতা অনস্বীকার্য। ত্বকের সমস্যাতেও দারুণ কাজ দেয় অশ্বগন্ধার ভেষজ গুণ। বিদেশেও এর চাহিদা ব্যাপক। সে কারণেই অশ্বগন্ধা চাষ অত্যন্ত লাভজনক।... See details

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')