home top banner

News

অর্থকষ্টে অভিমানী দেহঘড়ির চলে যাওয়া
19 August,13
 Posted By:   Healthprior21
  Viewed#:   34

অভিমানী দেহঘড়ির বিদায় হয়েছে। ‘মেস্তুরি’র কাছেই চলে গিয়েছে দেহ আর মন। আর আব্দুর রহমান বয়াতির গলায় শোনা যাবে না, ‘মন আমার দেহঘড়ি, সন্ধান করি, কোন মেস্তুরি বানাইয়াছে...’
 
মঙ্গলবার শহীদ মিনারে ফুল দিতে এসে টিভি চ্যানেলের সামনে হয়তো কেঁদে ভাসাবেন অনেকেই। অথচ নিদারুণ অর্থকষ্টের মধ্য দিয়েই জীবনাবসান ঘটলো এই লোকসঙ্গীত শিল্পীর।
 
কুদ্দুস বয়াতি অবশ্য বলতে ছাড়েননি। অভিমানের সুরে বলেছেন, এভাবে যেন আর কোনো শিল্পীকে ওপারে যেতে না হয়। সরকারের কাছে, জ্ঞানীগুণীদের কাছে এ অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
 
জীবদ্দশায় কোনো পুরস্কারে ভূষিত হননি আব্দুর রহমান বয়াতি। কিন্তু থেকেছেন শ্রোতা আর ভক্তদের হৃদয়ে। কিন্তু আব্দুর রহমানকে স্বীকৃতি না দেওয়াতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কুদ্দুস বয়াতি।
 
ছেলে আলম বয়াতি বলেন, ‘আজই কবর দেওয়ার জন্যে ভেবেছিলাম। তবে উচ্চপদস্থরা কালকে শহীদ মিনারে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন।’ এক সময় হতাশার কথা বলেন তিনি।
 
আব্দুর রহমানের পারিবারিক সূত্র জানায়, জাপান বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল থেকে ফ্রি চিকিৎসা ও ব্যয় বহন করা হতো। কিন্তু ওষুধ কিনতে হতো নিজেদের টাকায়।

কয়েক বছর ধরে ওষুধের ব্যয় বহন করতে গিয়েই কয়েক লাখ টাকা ঋণের খড়গে পড়ে পরিবার। মাসে যার খরচ পড়তো প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা।
 
আব্দুর রহমান বয়াতিকে চিকিৎসকরা বেশকিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরামর্শ দিলেও অর্থের অভাবে তা সম্ভব হয়নি। এতে এই লোকশিল্পী অভিমান করেছিলেন। চিকিৎসা করাতে চাইতেন না। ওষুধ দিলেও খেতে চাইতেন না।
 
আলম বলেন, ‘আমি এই ৪৮ বছর বয়সে নিজে রোজগার করে সুন্দরভাবেই চলতে পারবো। কিন্তু ঋণের ভার অনেক বেড়ে গেছে। কিন্তু কাউকে বলতে পারবো না, চাইতে পারবো না।’
 
পরিবার অনুরোধ করেছে, মঙ্গলবার শহীদ মিনারে বিশিষ্টজনরা দেখতে আসলে যদি সেই সময়ও কিছু সাহায্য করে যায়, অর্থকষ্টে থাকা পরিবারটি কিছুটা ঋণ শোধ করতে পারবে।

সোমবার সকাল সাড়ে ৭টায় রাজধানীর সাতমসজিদ রোডে জাপান-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হসপিটালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন আব্দুর রহমান বয়াতি।। তার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর।

বেলা ২টায় জাপান বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালে আসেন আব্দুর রহমানের সহধর্মিণী খাতুন জারা। সিএনজি থেকে নামতে নামতে স্বামী হারানোর বেদনায় আর্তনাদ করে ওঠেন তিনি। বাধঁভাঙ্গা কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে আশপাশের বাতাস। খাতুন জারার মলিন পোশাক বলে দেয় বয়াতির পরিবারের অবস্থা ভালো নয়।

এর আগে বেলা সোয়া একটায় বিরোধীদলীয় খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে আব্দুল রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আসেন বিএনপির সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক সুরকার ও গীতিকার গাজী মাযহারুল আনোয়ার।  এ সময় তিনি বলেন, ‘বাঙালির হাজার বছরের সংস্কৃতিকে ধারণ করেছিলেন বয়াতি। দেশের সংস্কৃতিকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পৌঁছে দিয়েছেন তিনি। কিন্তু আমাদের জন্যে দুঃখের বিষয় এ বয়াতিকে আমরা লালন করতে পারিনি। অর্থাভাবে জীবনের শেষ সময় পার করেছেন তিনি। আরো কোনো শিল্পীকে যেন এভাবে চলে যেতে না হয়, সেদিকে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে।

এছাড়াও বয়াতি পরিবারকে সান্ত্বনা জানাতে আসেন বিএনপি নেতা আমানুল্লাহ আমান, চলচ্চিত্রকার মোরশেদুল ইসলাম ও অভিনেতা আশরাফউদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল প্রমুখ।

এরপর বেলা সোয়া দু’টায় আব্দুর রহমান বয়াতির মরদেহ বারডেম এর হিমঘরে নিয়ে যাওয়া হয়।

সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা জানাতে মঙ্গলবার আবদুর রহমান বয়াতীর মরদেহ সকাল ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেওয়ার আয়োজন করেছে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট।

এরপর তার মরদেহ শিল্পীর ভাড়া বাসা যাত্রাবাড়ীর মাতুয়াইলে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখান থেকে পরে তাকে তার জন্মস্থান সূত্রাপুরের পঞ্চায়েত কবরস্থানে দাফন করা হবে।

শিল্পী আবদুর রহমান বয়াতীর প্রায় পাঁচশ একক অ্যালবাম রয়েছে। ১৯৩৯ সালে ঢাকার সূত্রাপুর থানার দয়াগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন এই বরেণ্য শিল্পী।

আবদুর রহমান বয়াতী ছিলেন একাধারে গীতিকার, সুরকার, সংগীত পরিচালক ও শিল্পী। তার বিখ্যাত গান ‘একটি চাবি মাইরা, দিল ছাইড়া, জনম ভরে চলিতেছে; মন আমার দেহঘড়ি, সন্ধান করি, কোন মেস্তুরি বানাইয়াছে’ আজও শহরে-গ্রামে গেয়ে চলে সাধারণ মানুষ।

তার গানের কথায় দেহতত্ত্ব ছাড়াও মাটি ও মানুষের কথা উঠে এসেছে। এক সময় গান গেয়ে তিনি দেশ-বিদেশের শ্রোতাদের মাতিয়ে রেখেছিলেন।

শুধু তাই নয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ সিনিয়র তাকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানান। সেখানে জমকালো অনুষ্ঠানে গান গেয়ে ব্যাপক প্রশংসা পান তিনি।

সূত্র - বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

Please Login to comment and favorite this News
Next Health News: নিউজিল্যান্ড থেকে আসা শিশুখাদ্য পরীক্ষা করা হবে
Previous Health News: রাজবাড়ীতে ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু

More in News

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় অ্যান্টিবায়োটিক!

সম্প্রতি এক গবেষণায় জানা গেছে, কম বয়সে অ্যান্টিবায়োটিক খেলে পরবর্তী ক্ষেত্রে মানব শরীর বিভিন্ন ধরনের রোগ প্রতিরোধ করতে সক্ষম থাকে৷ কলোম্বিয়ার ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যায়লের এ গবেষণা অনুযায়ী, অন্ত্রে বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া বিরাজ করে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাস্থ্যকর রাখে৷ কিন্তু... See details

ঢাবিতে মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন উদ্বোধন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগ ও বাংলাদেশ ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে  ‘Mental Health Gap in Bangladesh: Resources and Response’ শীর্ষক চার দিনের চতুর্থ মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধন  হয়েছে। বুধবার ঢাকা... See details

৯টি ভয়ংকর সত্যি, যা আপনাকে ডাক্তাররা জানান না!

অনেক সময় কোনো ওষুধ একটি রোগ সারিয়ে তুললে, সেই ওষুধই অন্য একটি অসুখকে আমন্ত্রণ জানিয়ে রাখে। এমনকি এক্স রে রশ্মিও আমাদের শরীরে ক্যান্সারের মতো মারণ রোগের জন্ম দেয়। ওষুধের প্রভাবে কী কী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে ১. ওষুধে ডায়াবিটিস বাড়তে পারে: সাধারণত ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবিটিস হয়।... See details

প্রাকৃতিক ভায়াগ্রা হর্নি গোটউইড

চীনের একটি গাছের নাম হর্নি গোটউইড। এই গাছ থেকেই অদূর ভবিষ্যতে সস্তায় মিলবে ভায়াগ্রার বিকল্প ওষুধ। পুরুষাঙ্গকে দৃঢ়তা প্রদানের জন্য যে যৌগটি দরকার, সেই আইকারিন প্রচুর পরিমাণে রয়েছে হর্নি গোটউইডে। এই উপদানটিকে প্রকৃতিক ভায়াগ্রা হিসেবে শনাক্ত করেছেন ইউনিভার্সিটি অফ মিলানের গবেষক ডা. মারিও ডেল... See details

ব্রেন ক্যানসার থেকে মুক্তি দেবে ‘সোনা’

ব্রেন ক্যানসার চিকিৎসায় এবার ব্যবহৃত হবে সোনা৷ কারণ সোনা নাকি ব্রেন ক্যানসার থেকে মুক্তি  দিতে পারে৷ বিজ্ঞান পত্রিকা ন্যানোস্কেল অনুযায়ী, ব্রেন ক্যানসারের  চিকিৎসার সোনার একটি অতি সুক্ষ টুকরো সাহায্যকারী প্রমাণিত হতে পারে৷ বৈজ্ঞানিকরা একটি সোনার টুকরোকে গোলাকৃতি করে... See details

যৌবন ধরে রাখতে অশ্বগন্ধা

বাতের ব্যথা, অনিদ্রা থেকে বার্ধক্যজনিত সমস্যা। এ সবের নিরাময়ে অশ্বগন্ধার বিকল্প নেই। তেমনটাই তো বলেন বিশেষজ্ঞরা। এমনকি যৌবন ধরে রাখতেও অশ্বগন্ধার উপকারিতা অনস্বীকার্য। ত্বকের সমস্যাতেও দারুণ কাজ দেয় অশ্বগন্ধার ভেষজ গুণ। বিদেশেও এর চাহিদা ব্যাপক। সে কারণেই অশ্বগন্ধা চাষ অত্যন্ত লাভজনক।... See details

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')