সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলায় চিকিৎসকের অভাবে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম ভেঙে পড়েছে। শাহজাদপুর পৌরসভা ও ১৩টি ইউনিয়নের উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের মধ্যে শুধু সদর ইউনিয়নে একজন চিকিৎসক আছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকদের নয়টি পদ থাকলেও আছেন ছয়জন। ওই হাসপাতালে অবেদনবিদের পদটি ৩০ জুন থেকে শূন্য হয়ে পড়ায় প্রসূতিসহ সব ধরনের অস্ত্রোপচার বন্ধ হয়ে গেছে।
শাহজাদপুর স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, উপজেলার প্রায় পাঁচ লাখ জনবসতির জন্য একটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ১৪টি উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র আছে। এসব চিকিৎসা কেন্দ্রে ২৩টি চিকিৎসকের পদ রয়েছে। এর মধ্যে ১৬টি পদই শূন্য। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তার (আরএমও) পদ গত মাস থেকে শূন্য। জুনিয়র কনসালট্যান্ট মেডিসিন পদটি শূন্য তিন মাস ধরে। হাসপাতালের ছয়জন চিকিৎসকের মধ্যে জুনিয়র কনসালট্যান্ট গাইনি সিলভিয়া হোসেন ও জুনিয়র কনসালট্যান্ট সার্জন রাশেদা খাতুন মাঝেমধ্যে হাসপাতালে আসেন বলে একাধিক রোগী, চিকিৎসক, স্বাস্থ্য কর্মী ও এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন।
এ ছাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নৈশ প্রহরী ও ঝাড়ুদারের ছয়টি পদই শূন্য। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি হরতালের সময় পিকেটাররা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একমাত্র অ্যাম্বুলেন্সটি পুড়িয়ে দেওয়ার পর থেকে রোগী পরিবহন বন্ধ রয়েছে।
বেতিকান্দি ইউনিয়নের পরিবার কল্যাণ পরিদর্শক তসলিমা খাতুন অভিযোগ করেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দরিদ্র প্রসূতি মায়েদের জন্য সরকারের ডিএসএফ প্রকল্পটি চালু থাকলেও এটি কোনো উপকারে আসছে না। কোনো গর্ভবতী মায়ের সন্তান প্রসবে জটিলতা দেখা দিলে চিকিৎসক (অবেদনবিদ) নেই বলে তাদের বাইরের ক্লিনিকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সেখানে ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকই অর্থের বিনিময়ে চিকিৎসা করে থাকেন।
হাসপাতালে অবেদনবিদ না থাকায় জুনিয়র কনসালট্যান্ট সার্জন রাশেদা খাতুন হাসপাতালে না এসে উপজেলার বিভিন্ন ক্লিনিকে নিয়মিত অস্ত্রোপচার করেন বলে জানা গেছে।
চিকিৎসকদের বক্তব্য: চিকিৎসক সিলভিয়া হোসেন বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে রোববার ও সোমবার টানা দায়িত্ব পালন করেছি। এ কারণে মঙ্গলবার আমার সাপ্তাহিক ছুটি ছিল। হরতাল থাকায় বুধবার উপস্থিত হতে পারিনি। বিষয়টি স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. আবদুল আওয়ালকে মৌখিকভাবে জানিয়েছিলাম।’
সিলভিয়া বলেন, ‘গত মে ও জুন মাস বিনা বেতনে ছুটিতে ছিলাম। পরে পরীক্ষার জন্য পাঁচ দিন ছুটিতে ছিলাম। এলাকাবাসী আগে আমাকে নিয়মিত দেখলেও ছুটির কারণে না দেখায় অভিযোগ করছে যে আমি নিয়মিত থাকি না। তাঁদের অভিযোগ সত্য নয়।’ চিকিৎসক রাশেদার মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি ফোন ধরেনি।
চিকিৎসকের অভাবে চিকিৎসা সেবা কিছুতা ব্যাহত হচ্ছে বলে স্বীকার করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. আবদুল আওয়াল। তিনি বলেন, চিকিৎসক সিলভিয়া রোববার টানা দায়িত্ব পালন করেছেন। সেই হিসেবে তাঁর সোমবার ছুটি নেওয়ার কথা, মঙ্গলবার নয়। বুধবার অনুপস্থিত থাকার ব্যাপারে তিনি কোনো ছুটি নেননি। রাশেদা মঙ্গলবার অনুপস্থিত থাকার ব্যাপারে কোনো ছুটি নেননি।
আওয়াল বলেন, ইউনিয়ন পর্যায়ে একজন ছাড়া সব চিকিৎসক তদবির করে কেউ প্রেষণে বদলি হয়ে গেছেন। যে কারণে ইউনিয়ন পর্যায়ের উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর পদ প্রায় শূন্য হয়ে গেছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অবেদনবিদসহ সব শূন্যপদ পূরণ করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
সূত্র - প্রথম আলো

