home top banner

News

আমি খুন করিনি, বন্ধুরা করেছে: ঐশী
19 August,13
 Posted By:   Healthprior21
  Viewed#:   236

বাবা ছিল ব্যাকডেটেড (সেকেলে)। আমার সঙ্গে তাঁর ম্যাচ করত না (মিলত না)। আর মা আমার সব কথাই বাবাকে বলে দিত। কোনো ফ্রিডম (স্বাধীনতা) ছিল না। আমি বোর (বিরক্ত) হয়ে গেছিলাম।’
পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) পরিদর্শক মাহফুজুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না রহমান হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া তাঁদেরই মেয়ে ঐশী রহমান পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এভাবেই ঘটনার বিবরণ দিয়েছে। এ কারণেই সে বাবা-মাকে হত্যা করেছে কি না, পুলিশ কর্মকর্তাদের এ প্রশ্নের জবাবে ঐশী বলে, ‘আমি বাবা মাকে খুন করিনি। সেটা আমি করতে পারি না। আমার বন্ধু জনি ও জনির এক পরিচিত তাঁদের খুন করেছে। আমি শুধু কফির সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়েছিলাম।’
তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তারা প্রথম আলোকে বলেন, ঐশীর এমন বক্তব্য শুনে তাঁরা বিস্মিত। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁরা মনে করছেন, এ হত্যাকাণ্ডে ঐশী ও তার বন্ধুরা জড়িত। লাশ দুটি বাথরুমে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যেতে সহায়তা করেছে গৃহকর্মী খাদিজা খাতুন ওরফে সুমি।
রাজধানীর মিন্টো রোডে পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে আজ ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, এ হত্যার সঙ্গে ঐশীর সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর সঙ্গে জড়িত আরও দুজনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

গত শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর পল্টন থানার চামেলীবাগের ভাড়া ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে বাথরুম থেকে মাহফুজুর রহমান ও তাঁর স্ত্রীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। গতকাল শনিবার তাঁদের ময়মনসিংহের গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়। এ মামলায় ঐশী, গৃহকর্মী খাদিজা ও ঐশীর বন্ধু মিজানুর রহমান ওরফে রনিকে গ্রেপ্তারের পর পাঁচদিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। ঐশীর আরেক বন্ধু পারভেজকে আজ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।

মনিরুল বলেন, ঐশীর বাবার শরীরে দুটি ও মায়ের শরীরে ১১টি ছুরিকাঘাতের চিহ্ন আছে। এতে মনে হচ্ছে, মায়ের প্রতি তার ক্ষোভ ছিল বেশি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাহফুজ বদলি হয়ে আসার পর ঐশীকে ঢাকার একটি স্কুলে ভর্তি করে দেন। সেখানে ফল খারাপ করায় তাকে একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে ভর্তি করা হয়। চলতি বছর সে ওই স্কুল থেকে ‘ও’ লেভেলের দুই পার্টের পরীক্ষা শেষ করেছে। কিন্তু এরপর সে অমনোযোগী হয়ে ওঠে, পড়াশোনা ঠিকমতো করত না। এ নিয়ে মা-বাবার সঙ্গে তার রাগারাগি শুরু হয়।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, ঐশীর পরিচিত দুই তরুণ ইয়াবার খুচরা বিক্রেতা। উঠতি তরুণ-তরুণীদের কাছে ইয়াবা বিক্রি করত তারা। এরা আবার একটি নাচের দলের সদস্য। দেড় বছর আগে একটি নাচের অনুষ্ঠানেই পরিচয় হয় ঐশীর সঙ্গে।

গৃহকর্মী সুমি পুলিশকে বলেছে, ঐশীকে সে প্রায় সময় ট্যাবলেট খেতে দেখেছে। প্রায় সময় সকালেই বাসা থেকে বের হয়ে যেত সে। কখনো গভীর রাতে ফিরত। এতে বাবা-মা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। এরপর থেকে ঐশীর চলাফেরায় কড়াকড়ি আরোপ করেন মা-বাবা। অনুমতি ছাড়া যেন সে বাইরে বের হতে না পারে, সে জন্য বাসার নিরাপত্তাকর্মীদের বলে দেন তাঁর বাবা।

পুলিশ কর্মকর্তারা বলেন, গত বুধবার সকালে ঐশী তার মাকে জানায়, সে ভালো হয়ে গেছে, আর অবাধ্য হবে না। মা বিষয়টি তার বাবাকে জানান। বাবা খুশি হয়ে সকালেই তাকে নিয়ে রমনা পার্কে হাঁটতে যান। এভাবে বিশ্বাস স্থাপনের পর ঐশী বুধবার বিকেলে মাকে বাইরে যাওয়ার কথা জানায়। মা তাকে যেতে অনুমতি দেন। এই সুযোগে বাসা থেকে বের হয়েই ঐশী বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করে, আবার বিকেলে ফিরে আসে। পুলিশের ধারণা, এ সময় খুনের পরিকল্পনা পাকাপোক্ত করা হয়।

গৃহকর্মী সুমি জিজ্ঞাসাবাদে বলে, ঐশী এর আগেও একবার কফির সঙ্গে বাবা-মাকে ঘুমের ওষুধ দিয়েছিল। তবে ঐশী পুলিশকে বলেছে, মেরে ফেলার জন্য সে এটা করেনি।

কে ছুরিকাঘাত করল: তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে ঐশী বলেছে, সে শুধু কফিতে চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে তা খাইয়ে বাবা-মাকে অচেতন করেছে। হত্যা করেছে তার বন্ধু জনি ও জনির পরিচিত একজন। ঐশীর দাবি, বুধবার রাতে গাড়ি নিয়ে জনিসহ দুজন তাদের বাসায় আসে। এরপর তাদের বাসায় লুকিয়ে রাখা হয়। মা-বাবা অচেতন হওয়ার পর তারা হত্যাযজ্ঞ চালায়।

যে কারণে আত্মসমর্পণ: জিজ্ঞাসাবাদে ঐশী পুলিশ কর্মকর্তাদের বলেছে, হত্যাকাণ্ডের পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে গৃহকর্মী ও ছোট ভাইকে নিয়ে সে বাসা থেকে বের হয়ে বিকেল পর্যন্ত অটোরিকশা নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় যায়। এ জন্য অটোরিকশাকে দেড় হাজার টাকা দেওয়া হয়। বিকেলে অটোরিকশাচালক নির্দিষ্ট করে জানতে চান, তারা কোথায় যাবে। জবাবে ঐশী বিপদে পড়ার কথা জানায়। এরপর চালক তাদের আশ্রয় দেন। ঐশীসহ তিনজনই ওই রাতে মুগদায় ওই চালকের বাসায় ছিল।

পরদিন সকালে চালকের বাসা থেকে বের হয়ে আসে ঐশী। এরপর ছোট ভাইকে কাকরাইল থেকে একটি রিকশাযোগে বাসায় পাঠিয়ে দেয়। ঐশী চলে যায় বাড্ডায় বন্ধুর বাসায়। গতকাল শনিবার সকালে ঐশী উত্তরায় তার খালুর বাসায় যায়। কিন্তু ওই বাসা তালাবদ্ধ ছিল। বাসার নিচে হকারদের দিয়ে যাওয়া পত্রিকায় সে দেখে, তার মা-বাবার খুনের ঘটনা ছাপা হয়েছে। তখনই সে আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নেয়। গতকাল শনিবার বেলা দুইটার দিকে উত্তরা থেকে পল্টন থানায় চলে আসে ঐশী।

মনিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, কোথাও নিরাপদ আশ্রয় না পেয়ে ঐশী আত্মসমর্পণ করেছে।

ঐশীর মামা রবিউল প্রথম আলোকে বলেন, ঐশীর আট বছর বয়সী ভাই ঐহী পুলিশের হেফাজতে আছে।

সূত্র - প্রথম আলো

Please Login to comment and favorite this News
Next Health News: গর্ভে নয়, শিশুটি বেড়ে উঠেছিল ডিম্বাশয়ে
Previous Health News: HIV patients told by Pentecostal pastors 'to rely on God'

More in News

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় অ্যান্টিবায়োটিক!

সম্প্রতি এক গবেষণায় জানা গেছে, কম বয়সে অ্যান্টিবায়োটিক খেলে পরবর্তী ক্ষেত্রে মানব শরীর বিভিন্ন ধরনের রোগ প্রতিরোধ করতে সক্ষম থাকে৷ কলোম্বিয়ার ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যায়লের এ গবেষণা অনুযায়ী, অন্ত্রে বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া বিরাজ করে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাস্থ্যকর রাখে৷ কিন্তু... See details

ঢাবিতে মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন উদ্বোধন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগ ও বাংলাদেশ ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে  ‘Mental Health Gap in Bangladesh: Resources and Response’ শীর্ষক চার দিনের চতুর্থ মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধন  হয়েছে। বুধবার ঢাকা... See details

৯টি ভয়ংকর সত্যি, যা আপনাকে ডাক্তাররা জানান না!

অনেক সময় কোনো ওষুধ একটি রোগ সারিয়ে তুললে, সেই ওষুধই অন্য একটি অসুখকে আমন্ত্রণ জানিয়ে রাখে। এমনকি এক্স রে রশ্মিও আমাদের শরীরে ক্যান্সারের মতো মারণ রোগের জন্ম দেয়। ওষুধের প্রভাবে কী কী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে ১. ওষুধে ডায়াবিটিস বাড়তে পারে: সাধারণত ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবিটিস হয়।... See details

প্রাকৃতিক ভায়াগ্রা হর্নি গোটউইড

চীনের একটি গাছের নাম হর্নি গোটউইড। এই গাছ থেকেই অদূর ভবিষ্যতে সস্তায় মিলবে ভায়াগ্রার বিকল্প ওষুধ। পুরুষাঙ্গকে দৃঢ়তা প্রদানের জন্য যে যৌগটি দরকার, সেই আইকারিন প্রচুর পরিমাণে রয়েছে হর্নি গোটউইডে। এই উপদানটিকে প্রকৃতিক ভায়াগ্রা হিসেবে শনাক্ত করেছেন ইউনিভার্সিটি অফ মিলানের গবেষক ডা. মারিও ডেল... See details

ব্রেন ক্যানসার থেকে মুক্তি দেবে ‘সোনা’

ব্রেন ক্যানসার চিকিৎসায় এবার ব্যবহৃত হবে সোনা৷ কারণ সোনা নাকি ব্রেন ক্যানসার থেকে মুক্তি  দিতে পারে৷ বিজ্ঞান পত্রিকা ন্যানোস্কেল অনুযায়ী, ব্রেন ক্যানসারের  চিকিৎসার সোনার একটি অতি সুক্ষ টুকরো সাহায্যকারী প্রমাণিত হতে পারে৷ বৈজ্ঞানিকরা একটি সোনার টুকরোকে গোলাকৃতি করে... See details

যৌবন ধরে রাখতে অশ্বগন্ধা

বাতের ব্যথা, অনিদ্রা থেকে বার্ধক্যজনিত সমস্যা। এ সবের নিরাময়ে অশ্বগন্ধার বিকল্প নেই। তেমনটাই তো বলেন বিশেষজ্ঞরা। এমনকি যৌবন ধরে রাখতেও অশ্বগন্ধার উপকারিতা অনস্বীকার্য। ত্বকের সমস্যাতেও দারুণ কাজ দেয় অশ্বগন্ধার ভেষজ গুণ। বিদেশেও এর চাহিদা ব্যাপক। সে কারণেই অশ্বগন্ধা চাষ অত্যন্ত লাভজনক।... See details

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')