সাভারে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বর্বরোচিত হামলায় শারীরিক প্রতিবন্ধী শামীম হোসেন ফকির (২৫) মারা গেছেন।
শনিবার সকাল ৭টায় সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত শামীম ঢাকার ধামরাই থানার ফোর্ডনগর গ্রামের মৃত ফারুক হোসেনের ছেলে।
নিহতের পরিবার জানায়, গত মঙ্গলবার রাত ১০ টার দিকে সাভার বাজার রোডের উৎসব প্লাজার সামনে মোবাইল ফোনে ফ্লেক্সি লোড করতে যান প্রতিবন্ধী শামীম ও তার বন্ধু রাজীব মোল্লা। একই সময় সেখানে যান সাভার থানা ছাত্রলীগের আহবায়ক জাহিদুল ইসলাম ফয়সাল ও যুগ্ম আহ্বায়ক জনি। এসময় ফয়সাল তার মোবাইল ফোনে আগে ফ্লেক্সিলোড করে দিতে বললে প্রতিবন্ধী শামীম প্রতিবাদ করেন।
এসময় কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা প্রতিবন্ধী শামীম ও তার বন্ধু রাজিবকে রড দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুতর জখম করে ফেলে রেখে যায়। এসময় সেখানে উপস্থিত লোকজন শামীমকে সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। চিকিৎসকরা তার অবস্থার খারাপ দেখে আইসিউতে ভর্তি করেন।
তবে রাজিবকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় শামীমের মা বিউটি আক্তার বাদী হয়ে থানা ছাত্রলীগের আহবায়ক জাহিদুল ইসলাম ফয়সাল ও যুগ্ম আহ্বায়ক জনির নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনাম ৩-৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা (নং-৪১) দায়ের করেন।
এদিকে এনাম মেডিকেল কলেম হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) চার দিন লাইফ সার্পোটে থাকার পর শনিবার সকালে মারা যান প্রতিবন্ধী শামীম হোসেন।
এসময় নিহতের পরিবারের লোকজনসহ এলাকাবাসী শামীমের লাশ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন। একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলে শামীমকে হারিয়ে তার মা বিউটি আক্তার বার বার মূর্ছা যাচ্ছেন।
নিহতের ছোট ভাই শুভও একজন প্রতিবন্ধী। তিনি বাংলানিউজকে জানান, দুই ভাই এক বোনের মধ্যে প্রতিবন্ধী শামীম হোসেন ছিলেন সবার বড়। বাবা না থাকায় বড় ভাই শামীম সাভার বাজার রোড এলাকায় একটি দোকান নিয়ে কাঠ-বাঁশ ভাড়া দেওয়ার ব্যবসা করে সংসারের খরচ জোগাতেন। কিন্তু ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের এমন বর্বরোচিত হামলায় পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম বড় ভাইকে হারিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন তিনি।
শামীম ফকিরের মা বিউটি বেগম বাংলানিউজকে জানান, আমার ছেলেটা শারীরিক প্রতিবন্ধী। তার ঘাড় ও শরীরের কিছু অংশ সব সময় ডানদিকে বাকা থাকতো। আর এই ডানদিকে বাঁকা থাকাই কাল হয়ে দাঁড়ালো শামীমের জীবনে।
তিনি হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘আমি থানায় মামলা করার পরও আসামিরা সরকার দলীয় লোক হওয়ায় পুলিশ তাদের গ্রেফতার করছে না।’
এ বিষয়ে সাভার উপজেলা প্রতিবন্ধী উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, ‘শারীরিক প্রতিবন্ধী শামীম ছিলেন পরিবারে একমাত্র উপার্জনক্ষম। তার পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি হত্যাকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে ফাঁসি দেওয়া হোক।’
এ ব্যাপারে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তফা কামাল বাংলানিউজকে বলেন, নিহত শামীমের লাশটি থানায় আনা হয়েছে। এ ঘটনায় শামীমের মা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
তিনি আরো বলেন, ‘আসামি যে দলেরই হোক না কেন সে পুলিশের কাছে আসামি, তাই আমরা আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছি আসামিদের গ্রেফতার করতে। আশা করছি খুব শিগগিরই আসামীদের গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।’
উল্লেখ্য, সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ধ্বসে যাওয়া রানা প্লাজায় ২০০৯ সালে প্রকাশ্যে আব্দুল্লাহ নামের এক যুবককে গুলি করে হত্যার অভিযোগ রয়েছে এই ছাত্রলীগ নেতা ফয়সালের বিরুদ্ধে। এছাড়া সম্প্রতি এক ব্যবসায়ী পাওনা টাকা চাইতে গেলে ফয়সাল ও তার ভাইসহ তার ক্যাডাররা ওই ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সুত্র - বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

