ভারত পেঁয়াজের ন্যূনতম রপ্তানিমূল্য টনপ্রতি ৬৫০ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করে দিয়েছে। অর্থাৎ এর চেয়ে কম দামে পেঁয়াজ রপ্তানি করা যাবে না।
শুধু তা-ই নয়, পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ন্যাশনাল অ্যাগ্রিকালচারাল কো-অপারেটিভ মার্কেটিং ফেডারেশন অব ইন্ডিয়াকেও (নাফেদ) প্রতিবেশী পাকিস্তান ও ইরান থেকে পেঁয়াজ আমদানি করতে বলেছে। বুধবার উচ্চপর্যায়ের এক আন্তমন্ত্রক সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে অর্থ, বাণিজ্যসহ বিভিন্ন মন্ত্রকের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সরবরাহে ঘাটতির কারণে দেশের সর্বত্র পেঁয়াজের দাম কয়েক দিনে কেজিপ্রতি ১০ থেকে ১৫ রুপি বেড়ে যাওয়ায় কেন্দ্রীয় সরকার পণ্যটির রপ্তানিমূল্য বেঁধে দিয়েছে। কেজিপ্রতি পেঁয়াজের দাম কোথাও ৬০ রুপি আবার কোথাও ৯০ রুপি। কয়েক দিনের মধ্যে তা ১০০ রুপিতে উঠবে, এমন আশঙ্কাও করা হচ্ছে।
দেশীয় বাজারে মূল্য স্থিতিশীল হয়ে ওঠার পরিস্থিতিতে এক বছরের কিছু বেশি সময় আগে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার পেঁয়াজের ন্যূনতম রপ্তানিমূল্যের সীমা তুলে দিয়েছিল।
এদিকে পেঁয়াজসহ বিভিন্ন শাকসবজির দাম বাড়ার কারণে গত জুলাই মাসে পাইকারি মূল্য সূচকের (ডব্লিউপিআই) ভিত্তিতে নির্ণিত মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ, যা গত পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। আগের মাস জুনে এই হার ছিল ৪ দশমিক ৮৬ শতাংশ।
এদিকে পশ্চিমবঙ্গ সরকার গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে কলকাতার নয়টি এলাকায় ৩৫ রুপি কেজিদরে পেঁয়াজ বিক্রি শুরু করেছে। তবে প্রতিজনকে ৫০০ গ্রামেরবেশি পেঁয়াজ দেওয়া হচ্ছে না।
পেঁয়াজের দাম বাড়া নিয়ে বুধবার ভারতীয় সংসদ লোকসভায় প্রশ্ন তোলেন সিপিএম সাংসদ পি করুণাকরণ। এর জবাবে কেন্দ্রীয় ক্রেতা সুরক্ষা, খাদ্য ও গণবণ্টনমন্ত্রী কে ভি টমাস জানান, রাজ্য সরকারগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের পথ খুঁজে বের করা হবে।
কে ভি টমাস জানান, চলতি বছর পেঁয়াজের উৎপাদন কম হওয়ায় এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। তবে সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই। তিনি আরও জানান, ১৮ আগস্ট দিল্লিতে কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শারদ পাওয়ারের সঙ্গে আলোচনা করে এই সমস্যা সমাধানের একটি পথ পাওয়া যাবে বলে তাঁরা আশা করেন।
চলতি ২০১৩-১৪ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে ভারত পাঁচ লাখ টন পেঁয়াজ রপ্তানি করেছে। আগের ২০১২-১৩ অর্থবছরে রপ্তানি করে ২০ লাখ টন আর উৎপাদন হয় এক কোটি ৭০ লাখ টন পেঁয়াজ। দেশের মোট পেঁয়াজ উৎপাদনের ৮০ শতাংশই হয় মহারাষ্ট্র ও কর্ণাটক রাজ্যে।
সূত্র - প্রথম আলো

