রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কয়েকটি বিভাগে অস্ত্রোপচার করাতে আসা রোগীদের বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। রোগীদের অস্ত্রোপচারের পালা আসতে দুই থেকে তিন মাসও লেগে যাচ্ছে।
হাসপাতালে অবেদনবিদের সংকট এবং জ্যেষ্ঠ অবেদনবিদেরা অস্ত্রোপচারকক্ষে (ওটি) না যাওয়ায় রোগীদের দুর্ভোগ বাড়ছে। তবে অবেদনবিদ বিভাগ থেকে দাবি করা হয়েছে, লোকবল কম থাকার কারণে রোগীদের দুর্ভোগ হচ্ছে। অধ্যাপকেরা অস্ত্রোপচারের সময় জ্যেষ্ঠ অবেদনবিদদের সহযোগিতা চাইলেও তাঁরা তা করেন না। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হাসপাতালে অবেদনবিদদের মধ্যে একজন অধ্যাপক, তিনজন সহকারী অধ্যাপক, তিনজন জ্যেষ্ঠ কনসালটেন্ট, পাঁচজন কনিষ্ঠ কনসালটেন্ট ও ১৪ জন ডিপ্লোমা শিক্ষার্থী রয়েছেন। এঁদের মধ্যে অধ্যাপক, সহাকারী অধ্যাপক ও জ্যেষ্ঠ কনসালটেন্টরা অস্ত্রোপচারকক্ষে অবেদনের কাজ করেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।
বুধবার হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগে গিয়ে দেখা গেছে, অনেক রোগী এক মাসেরও বেশি সময় ধরে অস্ত্রোপচারের জন্য হাসপাতালে অবস্থান করছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর থেকে নজরুল ইসলাম (৫০) নামের এক রোগী অস্ত্রোপচারের জন্য ৯ জুন এই বিভাগে এসে ভর্তি হন। তিনি এখনো অস্ত্রোপচারের সিরিয়াল পাননি।
হাসপাতালের একটি সূত্র জানায়, একজন অধ্যাপক অস্ত্রোপচার করতে গেলে সেখানে একজন জ্যেষ্ঠ অবেদনবিদ থাকতে হবে মর্মে পরিচালক কার্যালয় থেকে চার মাস আগে অবেদন বিভাগে একটি চিঠি দেওয়া হয়। লিখিতভাবে জানানোর পরও জ্যেষ্ঠ অবেদনবিদেরা তা মানেননি।
অভিযোগ উঠেছে, হাসপাতালে অস্ত্রোপচারে সহযোগিতা না করলেও অবেদনবিদেরা বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে গিয়ে কাজ করেন।
হাসপাতালের অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান বি কে দাম বলেন, শুধু কনিষ্ঠ অবেদনবিদদের নিয়ে তাঁদের কাজ করতে হয়। এতে করে সকালে তাঁদের ওটিতে পাওয়া গেলেও বিকেলে ও সন্ধ্যায় আর কাজ করা যাচ্ছে না।
রোগীদের দুর্ভোগের কথা নিশ্চিত করে অবেদনবিদ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ইনতেখাব আলম বলেন, এই বিভাগে কমপক্ষে আরও ১০ জন অবেদনবিদ প্রয়োজন। জ্যেষ্ঠরা একাডেমিক, অন কল, জটিল রোগী ও অস্ত্রোপচারকক্ষে প্রশিক্ষণের দায়িত্ব পালন করেন। এর পরও অধ্যাপক পর্যায়ে চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচার করতে গেলে জ্যেষ্ঠ অবেদনবিদদের চান। কিন্তু জ্যেষ্ঠ অবেদনবিদেরা না যাওয়ায় চিকিৎসকদের মধ্যে একটা ক্ষোভ রয়েছে।
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইদুর রহমান বলেন, জ্যেষ্ঠদের ওটি করার ব্যাপারে তিনি অধ্যক্ষের সঙ্গেও আলোচনা করেছেন।
সূত্র - প্রথম আলো

