হঠাৎ করে শুরু হলো আপনার শ্বাসকষ্ট অথবা দেখা দিল হার্টের সমস্যা, কী করবেন আপনি? উত্তর সোজা, ‘কেন ডাক্তার দেখাবো!’ কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, আগে থেকেই কী করে বুঝবেন আপনি অসুস্থ হতে চলেছেন? যারা একা থাকেন, তারা অজ্ঞান হয়ে গেলেই বা কী করে বাইরে থেকে সাহায্য পেতে পারেন? অথবা রোগী কী করে বুঝবেন, যে ফিজিওথেরাপিস্ট-এর নজরদারি ছাড়াই সে ঠিকমতো ব্যায়াম করছে কি না?
জার্মানির ফ্রাউনহোফার ইন্সটিটিউটের ক্রিস্টিয়ান হোফমান ঠিক এই সব প্রশ্নেরই উত্তর খুঁজছেন। আর এরই পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এমন একটি পোশাক তৈরি করছেন, যার মাধ্যমে সমাধান হবে সব ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যার। যার নাম দিয়েছেন তিনি ‘বুদ্ধিমান পোশাক’।
ক্রিস্টিয়ান হোফমান বলেন, “রোগী যখন নিজের বাসায় ব্যায়াম করেন, তখন সেটা ঠিকমতো হচ্ছে কি না তা বোঝার উপায় নেই। তখন ফিজিওথেরাপিস্টের কাছে ছুটতে হয়। ডাক্তারের সামনে ব্যায়াম করলে তিনি বলে দিতে পারেন, সেটা ঠিকমতো হচ্ছে কি না। যা অনেক সময় সাপেক্ষ। তবে আমার এই জ্যাকেট পরলে কিন্তু আর সমস্যা নেই৷ বাসায় ব্যায়াম করলেও ডিজিটাল পদ্ধতিতে থেরাপিস্ট নজর রাখতে পারবেন এবং প্রয়োজনে পরামর্শও দিতে পারবেন।”
ইলেক্ট্রোড, পরিমাপ যন্ত্র, বিশেষ রেকর্ডারসহ মোট ১১টি সেন্সর সমৃদ্ধ এই জ্যাকেটটি দেখতে আর পাঁচটা স্পোর্টস জ্যাকেটের মতোই। প্রায় পাঁচ বছর ধরে হোফমান ও তার গবেষক দল ‘বুদ্ধিমান’ পোশাক তৈরির কাজ করছেন।
হোফমানের তৈরি নতুন টি-শার্টেও সেন্সর বসানো হয়েছে। তবে সাধারণ পাল্স মাপার যন্ত্রের মতো শুধু হৃদযন্ত্রের স্পন্দন নয়, এতে নিঃশ্বাস-প্রশ্বাসও মাপা যায়। ফলে খেলোয়াড় ও ফিজিওথেরাপির রোগীদের শক্তি ও চাপ নেয়ার ক্ষমতা প্রায় নিখুঁতভাবে জানা যায়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর দেখা গেছে, এই জামা এখনই বড় আকারে উৎপাদন করা সম্ভব।
হোফমান বলেন, ‘‘প্রযুক্তিগত দিক থেকে এই ব্যবস্থা কাজ করছে। এবার চাই শুধু একজন নির্মাতা, যে এই পণ্য বাজারে আনবে।”
বাজারে আসা পর্যন্ত হোফমান ও তার সহকর্মীরা আরো এমন ‘বুদ্ধিমান' পোশাক তৈরির কাজে ব্যস্ত। যেমন সেন্সর লাগানো গালিচা বা দমকল কর্মীদের বিশেষ পোশাক। এতে আগুন নেভানোর সময় সেন্সরের মাধ্যমে দূর থেকে তাদের বিপদের মাত্রা বোঝা যাবে। ফলে ভয়াবহ যেকোনো সমস্যা এড়ানো সম্ভব হবে।
সূত্র - natunbarta.com

