খাদ্যমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, নিরাপদ খাদ্য আইনে সন্দেহজনক ভেজাল খাদ্য পরীক্ষার জন্য সুনির্দিষ্ট ল্যারেটরি থাকবে। যথাযথ মান অনুসরণ করে এ ল্যারেটরিতে খাদ্যের ভেজাল ও রাসায়নিক পদার্থের উপস্থিতি পরীক্ষা করা হবে।
বৃহস্পতিবার সুপারমার্কেট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন নেতৃবৃন্দ মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত করতে এলে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, “বাদী ও বিবাদী উভয়ই পরীক্ষা পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে পারবে। ফলে কেউই হয়রানির শিকার হবে না।”
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, “সরকার খাদ্যে ভেজাল ও রাসায়নিক দ্রব্য মিশ্রণ প্রতিরোধে নিরাপদ খাদ্য আইন প্রণয়ন করছে। খাদ্যে ভেজাল ও রাসায়নিক দ্রব্য সংমিশ্রণের বিষয়টি গোটা জাতিকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। ইতোমধ্যেই মন্ত্রিসভা আইনটির অনুমোদন দিয়েছে।”
তিনি বলেন, “আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে সংসদের আগামী অধিবেশন তা উপস্থাপন করা হবে। শুধু আইন করে খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধ করা অত্যন্ত কঠিন কাজ। ভেজাল প্রতিরোধ করতে হলে আইন প্রয়োগের সঙ্গে সঙ্গে জনগণের মধ্যে সচেতনতা ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।”
সুপারমার্কেট ওনার্স নেতৃবৃন্দ জানান, একটি একক আইন ও প্রতিষ্ঠান না থাকায় বর্তমানে বিএসটিআই, সিটি করপোরেশন, ভোক্তা অধিকার অধিদফতরসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন সময় খাদ্যের ভেজাল পরীক্ষার জন্য সুপারমার্কেটে পরিদর্শন করে থাকে।
পৃথক এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে এবং পরীক্ষার মানেও তারতম্য হয়। ফলে সুপারমার্কেট মালিকদের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। নেতৃবৃন্দ বলেন, সুপারমার্কেট মালিকগণ নিজ নিজ দোকানের খাদ্যে ফরমালিনের উপস্থিতি পরীক্ষার জন্য বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা প্রতিষ্ঠানের কিট ব্যবহার করছেন। কিন্তু পরিদর্শেনে আসা সংস্থাগুলো এ কিটের পরীক্ষাকে মানেন না।
নিরাপদ খাদ্য আইনে একক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে খাদ্যের মান নিয়ন্ত্রণ করা এবং ভেজাল ও রাসায়নিক পদার্থের সংমিশ্রণ পরীক্ষা করা হলে ব্যবসায়ীগণ উপকৃত হবেন। সুপারমর্কেট ওনার্স নেতৃবৃন্দ নিরাপদ খাদ্য আইন প্রণেয়নের উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং আইনের যথাযথ বাস্তবায়নে সর্বাত্মক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন।
এ সময়ে খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ ইউনিটের মহাপরিচালক নাসের ফরিদ ও সুপারমার্কেট ওনার্স নেতৃবৃন্দের মধ্যে কাজী নাবিল আহমেদ, কাজী ইনাম আহমেদ, মো. জাকির হোসেন, মোহাম্মদ সলিমুল্লাহ, মতিউর রহমান, খালেদ কাদের, আন্দ্রে কাইলিউক ও শাহীন খান উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র - নতুন বার্তা ডটকম

