টেলিভিশনে বিজ্ঞাপন দিয়ে মানব দেহের জন্য ক্ষতিকর উচ্চ মাত্রার প্রিজারভেটিভযুক্ত সেজান ম্যাঙ্গো জুস প্রিজারভেটিভ মুক্ত বলে বাজারজাত করছে সজীব কর্পোরেশন। খাদ্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ইন্সটিটিউটের ল্যাবরেটরি টেস্টে বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে।
এ অপরাধে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ভেজাল খাদ্য পণ্য উৎপাদন, বিক্রি ও বাজারজাত করার অভিযোগে মামলা হয়েছে বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতে। যার মামলা নম্বর ৮১/২০১৩।
একই অপরাধে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আগেও তিনটি মামলা হয়েছে। এর একটিতে দোষ স্বীকার করায় জরিমানা আদায় করে সতর্ক করে আদালত। বাকি দুইটি চলমান আছে।
আদালতের নথিতে দেখা যায়, ১৬ এপ্রিল ২০১৩ ঢাকা সিটি কর্পোরেশন দক্ষিণ অঞ্চল -১ এর খাদ্য নমুনা সংগ্রহকারী কুটি মিয়া ২নং বঙ্গবন্ধু এভিনিউ, দোকান নং-জি-৯১, গুলিস্তানের ‘গুলিস্তান ফার্স্ট ফুড’ থেকে সেজান ম্যাঙ্গো জুসের তিনটি প্যাকেট সংগ্রহ করেন।
এরপর প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার মো. টিটুর সামনে প্যাকেট তিনটি তিন ভাগ করে এক ভাগ ম্যানেজারের কাছে সিলগালা করে জমা দেওয়া হয়। অন্য দুইভাগের একভাগ ডিসিসির স্বাস্থ্য বিভাগে সংরক্ষণ করা হয়।
ডিসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রি.জে. আব্দুল্লাহ আল হারুনের সই করা এক পত্রের মাধ্যমে বাকি নমুনাটি এনালাইটিক্যাল সার্ভিস সেল, বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ, ড. কুদরত-এ-খুদা রোড, ধানমন্ডি, ঢাকায় ২১ এপ্রিল ২০১৩ ইং তারিখে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়।
সম্পূর্ণ প্রিজারভেটিভ মুক্ত বলে বাজারজাত করা সজীব কর্পোরেশনের ‘সেজান ম্যাঙ্গো জুস’ পরীক্ষার পর এত উচ্চ মাত্রার প্রিজারভেটিভ আছে বলে ল্যাব টেস্টে প্রমাণিত হয়। অথচ প্রতিষ্ঠানটি টেলিভিশন ও পত্রিকায় প্রতারণার মাধ্যমে তা উৎপাদন, বিপণন ও বাজারজাত করে আসছিল।
এই জুস প্যাকের গায়ে লেখা আছে, এতে ম্যাঙ্গো পাল্প, পানি, চিনি, সাইট্রিক অ্যাসিড (ই-৩৩০),ভিটামিন সি (ই-৩০০),ভিটামিন-এ (ই-১৬০), স্টাবিলাইজার (ই-৪১৫) এবং ন্যাচারাল ম্যাংগো ফ্লেভার, ইন টেক কোলাবেরেশন উইথ সেজান ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, পাকিস্তান মর্মে লেখা রয়েছে। অথচ ল্যাবরেটরি টেস্টে এর কোন কিছুরই যথার্থতা পাওয়া যায়নি।
অথচ বাংলাদেশ খাদ্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ইন্সটিটিউটের ল্যাব টেস্টে প্রমাণিত হয়েছে, সেজান জুসের প্রতিটি প্যাকেটে রয়েছে উচ্চমাত্রার প্রিজারভেটিভ সোডিয়াম বেনজোয়েট ১৪৬ মাত্রায় এবং সালফার অক্সাইড ১২.৮ মাত্রায়। যা মানব শরীরের জন্য অতিমাত্রায় ক্ষতিকর।
ল্যাব টেস্টের রিপোর্ট পাওয়ার পর ডিসিসির খাদ্য পরিদর্শক কামরুল হাসান সেজান ম্যাঙ্গো জুসের বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান সজীব কর্পোরেশনের বিরুদ্ধে মামলা করেন বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতে। মামলার নমুনার সঙ্গে সেজান জুসের টেলিভিশনে প্রচারিত বিজ্ঞাপনের ও ডিভিডি কপি জমা দেওয়া হয়।
খাদ্য পরিদর্শক কামরুল হাসান মামলার প্রমাণাদি আদালতে জমা দেওয়ার সময় লিখিত আকারে অভিযোগ করেন, টেলিভিশনে বিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছে সেজান ম্যাঙ্গো জুস সম্পূর্ণ প্রিজারভেটিভবিহীন আসল জুস। আবার প্রিজারভেটিভ দিয়েই জুসটি সংরক্ষণ করা হচ্ছে। যা বিশুদ্ধ খাদ্য বিধি বহির্ভুত উৎপাদন ও বিপণনের মাধ্যমে দেশের আপামর জনসাধারণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল। এটা বিশুদ্ধ খাদ্য বিধি ১৯৬৭ এর ২০ ধারার পরিপন্থি।
এর ভিত্তিতে বিশুদ্ধ খাদ্য বিধি ১০৬৭ ও বাংলাদেশ খাদ্য আইন অধ্যাদেশ ১৯৫৯ই সংশোধিত ২০০৫ এর ৬(১)খ, ১৮(১), ১৯(১), ধারার স্পষ্ট লঙ্ঘন। যা ৪৪ ধারার শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে আদালতে উল্লেখ করেছেন প্রসিকিউটর কামরুল হাসান।
তিনি আদালতে উল্লেখ করেন, এটা সেজান জুসের চতুর্থতম অপরাধ। প্রথমবারের অপরাধে সজীব কর্পোরেশনের বিরুদ্ধে মামলা নম্বর ৮১/১১ তে দোষ স্বীকার করায় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করে সতর্ক করে আদালত। ১৩৬/১২ ও ২৩০/১২ নম্বর মামলা আদালতে চলমান আছে।
মামলায় উৎপাদন ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানের মালিক সজীব কর্পোরেশনের মূল প্রতিষ্ঠান হাসেম ফুডের মালিক আবুল হাসেম, প্রডাকশন ম্যানেজার বেল্লাল হোসেন, বিক্রয় প্রতিষ্ঠানের মালিক মো. মোস্তাক ও বিক্রয় প্রতিষ্ঠানের মালিক মো. টিটুকে আসামি করা হয়েছে।
সূত্র - বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

