‘ইউজার ফি’ (রোগীর পরীক্ষা-নিরীক্ষা বাবদ নেওয়া টাকা) বণ্টনের দাবিতে কর্মীদের কিছু অংশের অব্যাহত আন্দোলনের কারণে জাতীয় হূদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। ৪ জুলাই থেকে ইউজার ফির দাবিতে আন্দোলন শুরু করে সেবিকা, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একটি অংশ।
গতকাল সোমবার আন্দোলনকারীরা প্রশাসনিক ভবনে ঢোকার কলাপসিবল ফটক ভাঙার চেষ্টা করেন। সেখানে দাঁড়িয়ে হইচই করেন। এ ঘটনায় রোগীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তাঁদের দাবি, ইউজার ফি হাসপাতালের সব চিকিৎসক ও কর্মচারীর মধ্যে পদ অনুযায়ী বণ্টন করতে হবে।
বিদ্যমান নিয়মে কেবল পরীক্ষা-নিরীক্ষাসংশ্লিষ্ট বিভাগের চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ইউজার ফির অংশ পান। ঢাকা মেডিকেল ও হূদরোগ হাসপাতালে বিরোধ দেখা দেওয়ায় মন্ত্রণালয় প্রথমে কর্তৃপক্ষকে মৌখিকভাবে বণ্টন বন্ধ রাখতে বলে। পরে ১৪ জুলাই সারা দেশের সরকারি হাসপাতালে এই অর্থ বণ্টন স্থগিত রাখার লিখিত নির্দেশ দেয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। কিন্তু কর্মীরা আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন।
এ বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক আবদুল্লাহ আল সাফী মজুমদার প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি তাঁদের বোঝানোর চেষ্টা করেছি। বলেছি, এটা পুরোটাই মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত। হাসপাতালের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কিছু নেই। আমাদের কাজ কর্মীদের বার্তা মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পৌঁছে দেওয়া। আমরা সেটা করেছি। এখন সিদ্ধান্ত আসা পর্যন্ত সবাইকেই অপেক্ষা করতে হবে।’
পরিচালক আরও বলেন, গতকাল বিক্ষোভের পর কয়েকজন দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এ ধরনের বিক্ষোভ আর করবেন না বলে কথা দিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হাসপাতালের কনফারেন্স কক্ষে একটি অংশের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সভা অনুষ্ঠিত হয়। এরপরে তাঁরা পরিচালকের কাছে স্মারকলিপি দিতে মিছিল নিয়ে যান। কিন্তু হাসপাতালের নিরাপত্তাকর্মীরা প্রশাসনিক ব্লকের কলাপসিবল ফটক বন্ধ করে দিলে তাঁরা হইচই শুরু করেন। কলাপসিবল ফটক ভেঙে ফেলার চেষ্টা করা হয়।
এ বিষয়ে হোস্টেল তত্ত্বাবধায়ক মোশতাক আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের সে রকম কোনো আন্দোলন হচ্ছে না। পরিচালকের নির্দেশে একটা সভা হয়েছে। সেখানে কর্মচারীদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ইউজার ফির টাকা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত সাপেক্ষে বণ্টন করা হবে।’
এ বিষয়ে পরিচালক বলেন, তাঁরা বলেছিলেন, সভা করে হাসপাতালের সবাইকে মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের কথা জানাবেন। কিন্তু এরপর তাঁরা যেটা করেছিলেন, তা করার কথা ছিল না।
সূত্র - প্রথম আলো

