দিনভর রোজা রাখার পর কেউ ইফতারে ফালুদা পেতে চাইতেই পারেন। তবে, এই আকাঙ্ক্ষা মেটাতে রেস্তোরাঁয় ফালুদা খেতে গিয়ে অবশ্যই সাবধানী হতে হবে। কেননা, মাছ সংরক্ষণের কাজে যে বরফ ব্যবহার করা হয়, সেই বরফ দিয়েই তৈরি হচ্ছে রোজাদারের তৃষ্ণা মেটানোর মজাদার ফালুদা। রেস্তোরাঁর তৈরি ইফতারসামগ্রীতে ভেজাল আর অনাচারের উদাহরণ আছে আরও অনেক। কয়েক দিনের পুরোনো কাবাব বিক্রি করা হচ্ছে হরহামেশাই।
বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) দুটি ভ্রাম্যমাণ আদালত গতকাল সোমবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে নিম্নমানের এ রকম ইফতারসামগ্রী বিক্রির অপরাধে সাতটি রেস্তোরাঁ ও একটি কনফেকশনারিকে সোয়া আট লাখ টাকা জরিমানা করেছেন। রেস্তোরাঁয় সংরক্ষণ করে রাখা খাওয়ার অনুপযোগী খাদ্যগুলো জনসমক্ষে এনে তা ধ্বংসও করেন আদালত।
ভ্রাম্যমাণ আদালত এদিন মতিঝিলের দিল্লি মুসলিম হোটেল, হজরত চন্দ্রপুরী হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট ও ঘরোয় হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টকে দুই লাখ টাকা করে জরিমানা করেন। এ ছাড়া বিএসটিআইয়ের লাইসেন্স ছাড়া বিস্কুট, কেক ও দই তৈরির অপরাধে আরামবাগের কোয়ালিটি ফুডস নামের প্রতিষ্ঠানকে আদালত এক লাখ টাকা জরিমানা করেন।
লালবাগে খোলা ও নোংরা পরিবেশে খাদ্য তৈরির জন্য বিউটি, আল-আমিন ও লাভলী হোটেলকে ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন পৃথক ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে এ এলাকার সাদিয়া হারবাল নামের এক প্রতিষ্ঠানকে স্কিন ক্রিম তৈরির অপরাধে দেড় লাখ টাকা জরিমানা ও প্রতিষ্ঠানটিকে সিলগালা করে দেওয়া হয়।
ঢাকা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী হাকিম সাদিয়া আফসারী ও অমিতাভ পরাগ ওই সব অভিযান পরিচালনা করেন। মতিঝিল থানার পুলিশের সহযোগিতায় অভিযানে বিএসটি-আইয়ের পরিদর্শক জাহিদুর রহমান ও শহিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
১৭ লাখ টাকা জরিমানা: রোববার বিএসটিআই ও র্যাব রাজধানীতে যৌথ অভিযান চালিয়ে অনুমোদনহীন প্রসাধনসামগ্রী বিক্রির দায়ে দুটি প্রতিষ্ঠানকে ১৭ লাখ টাকা জরিমানা করে। অভিযানে উত্তরা ট্রাস্ট ফ্যামিলি নিড ও ঢাকা সুপার স্টোরে অবৈধভাবে আমদানিকৃত সাবান, শ্যাম্পু, পানীয়, চিপস, ত্বকে ব্যবহারের ক্রিম, মিল্ক পাউডার, বিস্কুট, টুথপেস্ট, আফটার শেভ লোশন ও লিপস্টিক উদ্ধার করে। নির্বাহী হাকিম এ এইচ এম আনোয়ার পাশা এ অভিযানের নেতৃত্ব দেন।
ভেজালমুক্ত খাবারের দাবি: সুস্থ জাতি গঠনে ভেজাল ও অস্বাস্থ্যকর খাবারের উৎপাদন, বিপণন ও বিক্রি বন্ধের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও আদি ঢাকাবাসী ফোরাম। ‘নিরাপদ, স্বাস্থ্যকর, ভেজাল রং, মাছি ও ধুলামুক্ত খাদ্য নিশ্চিত করার দাবিতে’ রাজধানীর চকবাজার এলাকায় জনসচেতনতামূলক প্রচারপত্র বিতরণ কর্মসূচিতে গতকাল সোমবার এ দাবি জানানো হয়।
বক্তারা বলেন, সুস্থ জাতি গঠনে খাদ্যের মান ও নিরাপত্তা দুটোই গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য ভেজাল ও বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থমুক্ত মানসম্পন্ন খাদ্য উৎপাদন, বিপণন ও বিক্রয় নিশ্চিত করতে হবে।
কর্মসূচিতে অংশ নেন বাপার সদস্যসচিব জাহেদুর রহমান, যুগ্ম সম্পাদক মিহির বিশ্বাস, আদি ঢাকাবাসী ফোরামের সদস্যসচিব জাবেদ জাহান প্রমুখ।
সূত্র - প্রথম আলো

