বাংলাদেশ সরকার ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রতিরোধযোগ্য শিশুমৃত্যু বন্ধ করার আনুষ্ঠানিক অঙ্গীকার করেছে। এই সময়ের মধ্যে শিশুমৃত্যুর হার প্রতি হাজারে জীবিত জন্মে ২০-এ নামিয়ে আনার সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হবে।
গতকাল রোববার রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হক সরকারের পক্ষে অঙ্গীকারের এই ঘোষণা দেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, ইউএসএআইডি, সেভ দি চিলড্রেন, জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) ও আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি) যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
‘২০৩৫ সাল নাগাদ প্রতিরোধযোগ্য শিশুমৃত্যুর অবসান: বাংলাদেশের অঙ্গীকার’ শীর্ষক ঘোষণাপত্র পাঠ করার আগে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য খাতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ অর্জন আছে, যা দেশের ও বিদেশের অনেক মানুষ জানেন না। তিনি এই সময়ের মধ্যে প্রতিরোধযোগ্য শিশুমৃত্যুর অবসানে সাত দফা কর্মসূচি এবং ছয় দফা কৌশলগত কর্মপন্থা পড়ে শোনান।
অনুষ্ঠানে বলা হয় বাংলাদেশে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মৃত্যুর কারণ নিউমোনিয়া, জন্মকালীন শ্বাসকষ্ট, নবজাতকের সংক্রমণ, ডায়রিয়া, জন্মকালীন কম ওজন ও পানিতে ডোবা। ঘোষিত অঙ্গীকারে উল্লিখিত কারণগুলো থেকে শিশুদের রক্ষার কর্মসূচি ও কৌশলের কথা বলা হয়েছে। দেশে এখন প্রতি হাজারে জীবিত জন্মের ৫৩টি শিশুর মৃত্যু হয়।
প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী বলেন, শিশুমৃত্যুর কারণ ও এর প্রতিকার সম্পর্কে মানুষের জ্ঞানের অভাব নেই। এখন দরকার সম্মিলিতভাবে কাজে নেমে পড়া।
সরকারের উদ্যোগের প্রশংসা করে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজীনা বলেন, বাংলাদেশের অঙ্গীকার রক্ষার জন্য কার্যকর সুশাসন ও নাগরিক সমাজের সক্রিয়তা প্রয়োজন। অনুষ্ঠানে ইউনিসেফের এ দেশীয় প্রতিনিধি প্যাসকেল ভিলনোভ বলেন, বাংলাদেশের অঙ্গীকার উচ্চাভিলাষী, তবে অর্জনযোগ্য। আর এই ধরনের অঙ্গীকারের ঘোষণা দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারকে ধন্যবাদ দেন বিশ্বব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত এ দেশীয় পরিচালক ক্রিস্টিন কাইমস।
এর আগে অনুষ্ঠানের মূল বক্তব্য উপস্থাপনায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা) সৈয়দ আবু জাফর মো. মুসা বলেন, শিশুমৃত্যু ধনী পরিবারের চেয়ে দরিদ্র পরিবারে, শহরের চেয়ে গ্রামে বেশি। দেশের কিছু এলাকায় শিশুমৃত্যুর হার এখনো অনেক বেশি। প্রসবকালে দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মীর উপস্থিতি আগের চেয়ে বাড়লেও দেশের কিছু এলাকায় তা কম। দক্ষ জনবলের স্বল্পতা, মানসম্পন্ন সেবা, দুর্গম এলাকায় সেবা পৌঁছানো, দক্ষতা বাড়ানো এবং কার্যকর তদারকি ও মূল্যায়ন—এসব অঙ্গীকার অর্জনের চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।
সূত্র - প্রথম আলো

