চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিভিন্ন গবেষণায় প্রাণীকুলের ওপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানোর পদ্ধতি বেশ পুরোনো। মানবমস্তিষ্কের বিভিন্ন রোগের গবেষণায়ও এমন পরীক্ষা চালানো হয়ে থাকে। তবে এসব গবেষণা প্রায়ই পক্ষপাতদুষ্ট ও অসম্পূর্ণ হয়ে থাকে বলে মার্কিন বিজ্ঞানীরা গত মঙ্গলবার অভিযোগ করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক জন আইওয়ানিডিস ও তাঁর সহযোগীরা বলছেন, বিভিন্ন ওষুধ প্রাণীকুলের ওপর প্রয়োগ করে সাফল্য পাওয়া গেলেও মানবদেহে সেগুলো অকার্যকর হয়েছে।
প্লস বায়োলজি সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, পক্ষপাতদুষ্ট গবেষণায় অর্থের অপচয় হয়। এ ছাড়া চিকিৎসা নিতে এসে রোগীরাও এ ধরনের গবেষণার মাধ্যমে উদ্ভাবিত ওষুধ সেবনের পরিণামে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। মানুষের মস্তিষ্কের অসুখ-বিসুখের চিকিৎসা আবিষ্কারের লক্ষ্যে প্রাণীকুলের ওপর পরিচালিত পরীক্ষামূলক গবেষণাসমূহে পক্ষপাতদুষ্টতার উল্লেখযোগ্য নজির পাওয়া গেছে।
গবেষকেরা এ ক্ষেত্রে আগে সম্পন্ন হয়েছে এমন ১৬০টি গবেষণার ফলাফল বিশ্লেষণ করেন। মানুষের ধমনির রোগ, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ, স্মৃতিভ্রংশ (আলঝেইমার) ও মেরুদণ্ডে আঘাত প্রভৃতি রোগের চিকিৎসাসংক্রান্ত গবেষণায় বিভিন্ন প্রাণীর ওপর পরিচালিত এক হাজার ৪১১টি গবেষণার ফলাফলও বিশ্লেষণ করে দেখা হয়। অন্তত চার হাজার প্রাণীর ওপর এসব রোগের ওষুধ পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ করা হয়েছিল। এসব গবেষণার মধ্যে মাত্র আটটিতে মানুষের চিকিৎসায় কার্যকর ফলাফল পাওয়া গেছে। আর কেবল দুটি গবেষণায় ‘মোটামুটি সন্তোষজনক’ ফলাফল এসেছে। বাকি সব গবেষণায় বিভিন্ন ধরনের সমস্যা ও অসম্পূর্ণতা রয়ে যায়। এসব অসম্পূর্ণতার মধ্যে দুর্বল গবেষণাপদ্ধতি, অত্যন্ত সীমিত পরিসর, প্রচারমুখী মনোভাব প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।
গবেষকদের মতে, মানুষের জন্য তৈরি বিভিন্ন ওষুধ প্রাণীকুলের ওপর পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করা হয় মূলত কার্যকারিতা যাচাইয়ের জন্য। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, প্রাণীর ওপর কার্যকর হলেও এসব ওষুধ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মানুষের ক্ষেত্রে ব্যর্থ হচ্ছে। এর মানে হলো, পরীক্ষামূলক প্রয়োগের গবেষণায় ত্রুটি রয়ে যাচ্ছে। মানবদেহ ও অন্য প্রাণীদেহের গঠনগত পার্থক্য এই ব্যর্থতার একটা কারণ হতে পারে। কিন্তু তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হচ্ছে, গবেষণায় অসম্পূর্ণতা এবং প্রচারমুখী মনোভাবের কারণে দ্রুত প্রতিবেদন প্রকাশের প্রবণতা।
এই ব্যর্থতা দূরীকরণে বিজ্ঞানীরা সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা-গবেষকদের বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছে বিকল্প পদ্ধতি অনুসরণ, খ্যাতিসম্পন্ন সাময়িকীতে (জার্নাল) নিবন্ধ প্রকাশ, গবেষণায় সতর্কতা ও সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা প্রভৃতি।
সূত্র - প্রথম আলো

