গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার তেলিরচালা এলাকায় গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে একটি তৈরি পোশাক কারখানায় রাতের নাশতা খেয়ে ৫০০ শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এ ঘটনায় তাঁদের সহকর্মীরা বিক্ষোভ করেছেন।
এর আগে আশুলিয়ায় একটি তৈরি পোশাক কারখানায় নাশতা খেয়ে ও পানি পান করে পরপর তিন দিন শ্রমিকেরা অসুস্থ হয়ে পড়েন। এর আগে গাজীপুরের আরও কয়েকটি ঘটনায় পানি পান করে ও নাশতা খেয়ে কয়েক দফা শ্রমিক অসুস্থ হওয়ার ঘটনা ঘটে। সফিপুর মডার্ন হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আল আমিন জানান, খাদ্যে বিষক্রিয়ায় তাঁরা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। অসুস্থ ব্যক্তিদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
কারখানার শ্রমিক ও পুলিশ জানায়, উপজেলার তেলিরচালা এলাকার সেজাদ সোয়েটার লিমিটেড কারখানার শ্রমিকদের গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে টিফিন দেওয়া হয়। টিফিনে ছিল ডিম, রুটি, পেটিস ও কলা। টিফিন খেয়ে শ্রমিকেরা যথারীতি কাজে যোগ দেন। এর প্রায় এক ঘণ্টা পর রাত সাড়ে আটটার দিকে কয়েকজন শ্রমিকের বমি ও পেটের ব্যথা শুরু হয়। এরপর ধীরে ধীরে পুরো কারখানার শ্রমিকেরা অসুস্থ হতে থাকেন।
পরে কারখানা কর্তৃপক্ষ দ্রুত যানবাহনের ব্যবস্থা করে তাঁদের সফিপুর জেনারেল হাসপাতাল, সফিপুর মডার্ন হাসাপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করে। বাসি-পচা খাবার দেওয়ার অভিযোগ তুলে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা কারখানার সামনে বিক্ষোভ করেন। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে শ্রমিকদের বুঝিয়ে এবং খাবার সরবরাহ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে শ্রমিকেরা শান্ত হন।
সফিপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি শ্রমিক জাকির হোসেন ও আসমা আক্তার জানান, টিফিন খাওয়ার সময় ডিম ও কেক থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল। এ কারণে অনেকেই ওই খাবার খাননি। তবে বেশির ভাগ শ্রমিক ওই খাবার খেয়েছেন। কারখানার সহকারী উৎপাদন কর্মকর্তা (এপিএম) বছির উদ্দিন বলেন, টিফিনগুলো যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কারখানায় সরবরাহ করে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মৌচাক পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) সৈয়দ আজহারুল ইসলাম জানান, শ্রমিকদের বুঝিয়ে শান্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া কারখানা কর্তৃপক্ষকে খাদ্য সরবরাহ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
সূত্র - প্রথম আলো

