home top banner

News

‘প্রতি বছর প্রসবকালে ১৫ হাজার মায়ের মৃত্যু হয়’
02 July,13
 Posted By:   Healthprior21
  Viewed#:   51

বাংলাদেশে প্রতিলাখে ১৯৪ প্রসূতির মৃত্যু ঘটে। যার ফলে প্রতিবছর প্রসবকালে ১৫ হাজার মায়ের মৃত্যু হয়। এছাড়াও অপ্রশিক্ষিত ধাত্রীর হাতে শতকরা ৮০ শতাংশ সন্তানের মৃত্যু হয় ২০১১ সালের সরকারি গবেষণায় উঠে এসেছে।


সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ ও এশিয়া ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘চর ও উপকূলীয় অঞ্চলের মাতৃস্বাস্থ্য এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা: সমস্যা ও জনগণের প্রত্যাশা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ তথ্য দেয়া হয়।

আলোচনা সভায় চর ও উপকূলীয় অঞ্চলের বিশেষ করে সন্দ্বীপ, পটিয়া, কাজীপুর ও উল্লাপাড়া উপরে একটি গবেষণা তুলে ধরা হয়। গবেষণাপত্রটি উপাস্থাপন করেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক প্রফেসর মেসবাহ কামাল এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সালমা আক্তার।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, সংসদ সদস্য হাবিবুন নাহার, প্রফেসর ডা. সিরাজুল আকবর, স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সামিনা চৌধুরী, এবং চার এলাকার প্রতিনিধিরা। সভাপতিত্ব করেন নারী নেত্রী রোকেয়া কবির।

সন্দ্বীপ
গবেষনায় বলা হয়, সন্দ্বীপে স্বাস্থ্য ও পরিকল্পনা বিভাগে ১২০ জন মাঠকর্মী এবং ২৪ জন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ধাত্রী রয়েছে। তবে বেশিরভাগ প্রশিক্ষণবিহীন ধাত্রীদের ওপর নির্ভর করতে হয়। কারন, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ধাত্রীরা পাঁচ হাজার টাকা হাতে না পাওয়া পর্যন্ত সেবা দেন না। কমিউনিটি ক্লিনিকে ডাক্তার না থাকায় গত এক বছরে ১২ জন মায়ের মৃত্যু ঘটেছে।

এছাড়াও বাল্যবিবাহকে মাতৃমৃত্যুর কারণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কারণ অপ্রাপ্ত বয়সে নারীর গর্ভধারণের ফলে মৃত্যু ঘটে। ৬৫ শতাংশ নারীর বিয়ে হয় ১৮ বছর বয়সে।

গবেষণায় ওঠে এসেছে, বাড়িতে ৯৬.৫ শতাংশ শিশুর জন্ম হয় বাড়িতে যাদের মধ্যে ৮৮.৪ শতাংশ অপ্রশিক্ষিত ধাত্রীদের হাতে আর প্র্রশিক্ষিত ধাত্রীতের হাতে ৮.১ শতাংশ শিশুর জন্ম হয়। এছাড়া ১.৭ জন শিশুর জন্ম হয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, ০.৬ শতাংশ জেলা হাসপাতালে এবং ১.২ শতাংশ প্রাইভেট ক্লিনিকে।
প্রতিবছর স্কুল থেকে .৯ শতাংশ বাদ পড়েছে। ঝরে পড়েছে ১৪.২ শতাংশ।

পটিয়া
পটিয়ায় ১৬.৭ শতাংশ মাতৃমৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে প্রসূতির কারণে। এ এলাকায় ৭০.৫ শতাংশ শিশুর জন্ম হয় বাড়িতে যার ৪৪.৪ শতাংশ অপ্রশিক্ষিত ধাত্রীদের হাতে। ২৬.১ শতাংশ প্রশিক্ষিত ধাত্রীদের হাতে। এছাড়া ১৬.৩ জন শিশুর জন্ম হয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, ৯.৮ শতাংশ জেলা হাসপাতালে এবং ৩.৩ শতাংশ প্রাইভেট ক্লিনিকে।
পটিয়ায় স্কুল থেকে ছেলে মেয়েদের মধ্যে ১০ শতাংশ ঝরে পড়েছে।

কাজীপুর
কাজীপুরে মৃত্যুহার খুবই কম। তার মধ্যেও যেসব মৃত্যুঘটে তা বাল্যবিবাহের কারণে। এ এলাকায় ৯৮ শতাংশ শিশুর জন্ম হয় বাড়িতে যার ৯৫.৯ শতাংশ অপ্রশিক্ষিত ধাত্রীদের হাতে। ২.১ শতাংশ প্রশিক্ষিত ধাত্রীদের হাতে। এছাড়া .৭ জন শিশুর জন্ম হয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, .৭ শতাংশ জেলা হাসপাতালে এবং .৭ শতাংশ প্রাইভেট ক্লিনিকে।

উল্লাপাড়া
কাজীপুরেও মৃত্যুর পেছনে বাল্যবিবাহকে দায়ী করা হয়েছে। এ এলাকায় ৮৪.৮ শতাংশ শিশুর জন্ম হয় বাড়িতে যার ৭৯.৭ শতাংশ অপ্রশিক্ষিত ধাত্রীদের হাতে। ৫.১ শতাংশ প্রশিক্ষিত ধাত্রীদের হাতে। এছাড়া ৭.২ জন শিশুর জন্ম হয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, ৪.৩ শতাংশ জেলা হাসপাতালে এবং ৩.৬ শতাংশ প্রাইভেট ক্লিনিকে। অন্যদিকে প্রতিবছর ২৬.৫ শতাংশ মা প্রজননস্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যায় ভুগছে বলেও জানান।

উল্লাপাড়ায় বাদ পড়েছে ৫-১০ শতাংশ। আর ঝরে পরেছে ৭ শতাংশ।

এ সময় গবেষণার পরিপ্রেক্ষিতে শনাক্ত সমস্যা সমাধানে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অপারেশন থিয়েটারের জন্য সার্জন নিয়োগ দেয়া, সিজারিয়ান অপারেশন চালু, আল্ট্রাসনোগ্রামের ব্যবস্থা করা, ব্যবহারোপযোগী অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা, সি-অ্যাম্বুলেন্স হিসেবে ব্যবহৃত স্পিডবোট সচল ও স্টিমার সার্ভিস নিয়মিত করার সুপারিশ জানানো  হয়। এছাড়া নৌ-পরিবহণ বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হাবিবুন নাহার এমপি’র হাতে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

 

সূত্র - নতুন বার্তা

Please Login to comment and favorite this News
Next Health News: চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ড গেলেন দুদক চেয়ারম্যান
Previous Health News: খাদ্যে ভেজালের শাস্তি ৭ থেকে ১৪ বছর কারাদণ্ড

More in News

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় অ্যান্টিবায়োটিক!

সম্প্রতি এক গবেষণায় জানা গেছে, কম বয়সে অ্যান্টিবায়োটিক খেলে পরবর্তী ক্ষেত্রে মানব শরীর বিভিন্ন ধরনের রোগ প্রতিরোধ করতে সক্ষম থাকে৷ কলোম্বিয়ার ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যায়লের এ গবেষণা অনুযায়ী, অন্ত্রে বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া বিরাজ করে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাস্থ্যকর রাখে৷ কিন্তু... See details

ঢাবিতে মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন উদ্বোধন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগ ও বাংলাদেশ ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে  ‘Mental Health Gap in Bangladesh: Resources and Response’ শীর্ষক চার দিনের চতুর্থ মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধন  হয়েছে। বুধবার ঢাকা... See details

৯টি ভয়ংকর সত্যি, যা আপনাকে ডাক্তাররা জানান না!

অনেক সময় কোনো ওষুধ একটি রোগ সারিয়ে তুললে, সেই ওষুধই অন্য একটি অসুখকে আমন্ত্রণ জানিয়ে রাখে। এমনকি এক্স রে রশ্মিও আমাদের শরীরে ক্যান্সারের মতো মারণ রোগের জন্ম দেয়। ওষুধের প্রভাবে কী কী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে ১. ওষুধে ডায়াবিটিস বাড়তে পারে: সাধারণত ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবিটিস হয়।... See details

প্রাকৃতিক ভায়াগ্রা হর্নি গোটউইড

চীনের একটি গাছের নাম হর্নি গোটউইড। এই গাছ থেকেই অদূর ভবিষ্যতে সস্তায় মিলবে ভায়াগ্রার বিকল্প ওষুধ। পুরুষাঙ্গকে দৃঢ়তা প্রদানের জন্য যে যৌগটি দরকার, সেই আইকারিন প্রচুর পরিমাণে রয়েছে হর্নি গোটউইডে। এই উপদানটিকে প্রকৃতিক ভায়াগ্রা হিসেবে শনাক্ত করেছেন ইউনিভার্সিটি অফ মিলানের গবেষক ডা. মারিও ডেল... See details

ব্রেন ক্যানসার থেকে মুক্তি দেবে ‘সোনা’

ব্রেন ক্যানসার চিকিৎসায় এবার ব্যবহৃত হবে সোনা৷ কারণ সোনা নাকি ব্রেন ক্যানসার থেকে মুক্তি  দিতে পারে৷ বিজ্ঞান পত্রিকা ন্যানোস্কেল অনুযায়ী, ব্রেন ক্যানসারের  চিকিৎসার সোনার একটি অতি সুক্ষ টুকরো সাহায্যকারী প্রমাণিত হতে পারে৷ বৈজ্ঞানিকরা একটি সোনার টুকরোকে গোলাকৃতি করে... See details

যৌবন ধরে রাখতে অশ্বগন্ধা

বাতের ব্যথা, অনিদ্রা থেকে বার্ধক্যজনিত সমস্যা। এ সবের নিরাময়ে অশ্বগন্ধার বিকল্প নেই। তেমনটাই তো বলেন বিশেষজ্ঞরা। এমনকি যৌবন ধরে রাখতেও অশ্বগন্ধার উপকারিতা অনস্বীকার্য। ত্বকের সমস্যাতেও দারুণ কাজ দেয় অশ্বগন্ধার ভেষজ গুণ। বিদেশেও এর চাহিদা ব্যাপক। সে কারণেই অশ্বগন্ধা চাষ অত্যন্ত লাভজনক।... See details

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')