পাহাড়ি আম 'বুকসেলাই' চাষ করে ভাগ্য বদলেছেন বান্দরবানের অনেক চাষী। মায়ানমারের জাত হিসাবে পরিচিত এই আম খেতে বেশ সুস্বাদু। দিনে দিনে এর চাহিদা বাড়ায় এবং বাগানে পোকার আক্রমণ কম হওয়ায় জুম চাষের পরিবর্তে পাহাড়ি জনগোষ্ঠী ক্রমেই এই আম চাষে ঝুঁকে পড়েছেন।
মায়ানমারে এই আম 'রাংগোয়াই' নামে পরিচিত। বার্মিজ ভাষায় 'রাংগোয়াই' অর্থ 'বুকে শিরদাঁড়ার মতো সেলাই'। সম্ভবত ফলের গড়নের সঙ্গে সাদৃশ্যের কারণেই এমন নামকরণ। একটি আগাম জাত হিসেবে পরিচিত এই আমের শাঁস দেখতে লালচে-হলুদ ও আঁশযুক্ত। সেপ্টেম্বরের শেষ পর্যন্ত এটি বাজারে পাওয়া যায়। খেতে বেশ সুস্বাদু হওয়ায় বাজারে এর চাহিদাও রয়েছে প্রচুর। বর্তমানে জেলায় চার ধরনের বুকসেলাই আমের চাষ হচ্ছে। চলতি মৌসুমে প্রায় তিন হাজার ছয়শ' হেক্টর জমিতে এই আমের চাষ হয়েছে বলে জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।
জেলা শস্য উত্পাদন বিশেষজ্ঞ আলতাফ হোসেন জানান, জেলায় বুকসেলাই (রাংগোয়াই) আম চাষ কখন থেকে শুরু হয়েছে সেটির সঠিক কোনো পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি। তবে প্রায় ১৫/২০ বছর আগে নাইক্ষ্যংছড়ি-থানছি সীমান্ত হয়ে প্রতিবেশী রাষ্ট্র মায়ানমার থেকে এই জাতটি এদেশে প্রবেশ করে বলে ধারণা করা হয়।
কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, স্থানীয় জাতগুলোর তুলনায় বুকসেলাই জাতের আমে পোকার আক্রমণ অনেক কম। যার কারণে স্থানীয় চাষীরা আমটি চাষ করে বাজারে বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন। স্বল্প সময়ে অধিক লাভজনক হওয়ায় এই আমের চাষ তিন পার্বত্য জেলায় দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। তবে চলতি মৌসুমে বান্দরবানে বুকসেলাই আমের চাষ হয়েছে সবচেয়ে বেশি। উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় সাড়ে তিন হাজার মেট্রিক টন।
বর্তমানে জেলার হাট-বাজারগুলো বুকসেলাই আমে সয়লাব হয়ে গেছে। স্থানীয়দের চাহিদা মিটিয়ে প্রতি সপ্তাহে বান্দরবান থেকে ৮/৯ মিনি ট্রাক আম চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। খুচরা ব্যবসায়ীরা প্রতিকেজি ৬০/৭০ টাকায় কিনে বাজারে ১০০/১২০ টাকায় বিক্রি করছেন।
স্থানীয় আম ব্যবসায়ী আবুল কালাম জানান, এবার প্রায় সাত লাখ টাকায় বুকসেলাই আমের দশটি বাগান কিনেছি। চট্টগ্রাম এবং কুমিল্লায় নিয়ে গিয়ে বিক্রি করি। এবার আমের ফলন ভালো হওয়ায় মোটামুটি লাভবান হয়েছি।
তবে চাষীরা বলছেন ভিন্ন কথা। স্থানীয় আম চাষী সাম লিয়াম বম ও চথোয়াই মারমা বলেন, পাহাড়ে স্বল্প সময়ে বুকসেলাই আম চাষ দ্রুত বেড়েছে। এবারই প্রথম পোকার আক্রমণের কারণে এই আম বিক্রি করে দাম পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক চাষী জানেই না পোকা কিভাবে দমন করতে হয়। সরকারিভাবে চাষীদের পোকা দমনে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সূত্র - দৈনিক ইত্তেফাক

