ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান হাসপাতালে বাক্সবন্দী কোটি টাকার যন্ত্র সরবরাহ করেছে। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বাক্স খুলে দেখে ভেতরে ফাঁকা, যন্ত্র নেই। ঘটনাটি ঘটেছে জাতীয় হূদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে।
গত বুধবার সন্ধ্যার দিকে পুরানা পল্টনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হাসান এন্টারপ্রাইজের লোকজন অটোক্লেভ যন্ত্র (যন্ত্রপাতি জীবাণুমুক্ত করার যন্ত্র) রেখে যায় হূদরোগ চিকিৎসার এই বিশেষায়িত হাসপাতালে। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা দেড়টার দিকে হাসপাতালের সার্ভে কমিটির তিন সদস্যসহ সংশ্লিষ্টরা যন্ত্র দেখার উদ্যোগ নেন। বাক্সের এক পাশ খুলে দেখেন, ফাঁকা।
হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল শাফী মজুমদার গতকালই স্বাস্থ্য সচিব এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে লিখিতভাবে ঘটনাটি জানিয়েছেন এবং শেরেবাংলা নগর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। এ ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সচিবকে পরিচালক লিখেছেন, ২৭ জুন স্টোর কর্মকর্তা এ কে এম ইকরামুল কবির ও স্টোরকিপার মো. সিরাজুল ইসলামের সামনে সার্ভে কমিটি সরবরাহ করা যন্ত্রটি সরেজমিন পরিদর্শনে যায়। কমিটির সদস্যরা বাক্স খুলে দেখেন, অটোক্লেভ যন্ত্রটি বাক্সের ভেতরে নেই। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। চিঠিতে তিনি হাসান এন্টারপ্রাইজের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ এনেছেন।
গতকাল সন্ধ্যায় হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, নিচতলায় বহির্বিভাগের নিরাপত্তাপ্রহরীদের কক্ষের পাশে বিরাট এক বাক্স স্বচ্ছ পলিথিনে মোড়ানো। বাক্সের চারপাশে ফুলের টব। বাক্সের ওপর কোনো চিহ্ন, লেখা বা স্টিকার নেই।
শাফী মজুমদার প্রথম আলোকে বলেন, এক দেশের যন্ত্রের পরিবর্তে অন্য দেশের যন্ত্র দেওয়ার কথা শোনা যায়। যন্ত্রাংশ কম দেওয়ার অভিযোগও শোনা যায়। কিন্তু এ রকম ঘটনা দেখা যায়নি, শোনা যায়নি।
গতকাল রাতে হাসান এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মহিউদ্দীনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তাঁর প্রতিষ্ঠান হূদরোগ হাসপাতালে এর মধ্যে কোনো যন্ত্র সরবরাহ করেনি। তিনি মুঠোফোনের সংযোগ কেটে দেন, পরে আর ফোন ধরেননি।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের লোকেরা বুধবার বাক্সের সঙ্গে চালান ও অন্যান্য কাগজপত্র দিয়ে গেছে। তাদের পাওনা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এখনো পরিশোধ করেনি। সার্ভে কমিটি ছাড়পত্র দেওয়ার পর পাওনা পরিশোধ করার কথা।
সূত্র - প্রথম আলো

