লিভার দেহের সর্ববৃহৎ অঙ্গ। এর ওজন মাত্র দেড় কেজি। শরীরের সকল শক্তির উৎস এই লিভার। লিভারকে ৮টি অংশে ভাগ করা হয়েছে। প্রত্যেকটি আলাদা আলাদা ইউনিট। আছে নিজস্ব কর্ম পরিধি। বিধাতা এই অংশের যে রহস্য তৈরি করেছে তা সত্যিই এক অভাবনীয় সৃষ্টি রহস্য। আসুন আজ আমরা লিভারকে জেনে নেই লিভার নানাবিধ রোগে আক্রান্ত হবার সুযোগ অনেক বেশি, আবার এই লিভারই সকল রোগের বিরুদ্ধে সংগ্রামে অবতীর্ণ হয়ে দেহকে রোগমুক্ত করে রাখে।
এই অসুখের নাম লিভার ক্যান্সার। লিভার ক্যান্সার সাধারণত দুই প্রকার যথা:
১. ক্যান্সারজনিত ও
২. ক্যান্সারজনিত নয়
ক্যান্সারজনিত রোগের প্রকোপ অনেক বেশি। তাই এই রোগের হাত থেকে রক্ষার উপায় জানতে হবে। এই রোগ সব বয়সের লোকের মাঝে দেখা যায়। বাচ্চাদের ক্ষেত্রে এর হার বেশি।
রোগের লক্ষণসমূহ:
পেট ফুলে আছে। হাত দিয়ে ধরলে মনে হয় একটা বড় চাকা শক্ত হাতে লাগে। যা সব সময় ব্যথার মতো অনূূভূত হয়। এর সাথে খাওয়ার রুচি কমে যায়। শরীরের ওজন কমতে থাকে। বুকে ও পেটে ব্যথা থাকে। বমি হ,য় জ্বর হয়, শরীরের শক্তি কমতে থাকে, জন্ডিস দেখা দেয়, পেট ও পায়ে পানি এসে যায়।
পরীক্ষাসমূহ:
রক্তে টিউমার মার্কার বাড়তে থাকে। আলট্রাসউন্ড দ্বারা এই রোগ নির্ণয় অনেক সময় সহজতর হয়ে যায়। রক্তে বিলিরুবীনের পরিমাণ বাড়তে থাকে। এলবুমিন, প্রোটিনের পরিমাণ কমতে থাকে। হিমোগ্লোবিন কমে যায়।
এই অবস্থায় রোগ নির্ণয়ের জন্য আরো অনেক আধুনিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা নিতে হবে। যার প্রায় সবই আমাদের দেশে আছে। সঠিক রোগ নির্ণয় সঠিক চিকিৎসার পূর্বশর্ত।
চিকিৎসা:
সার্জারির দ্বারা এই রোগ নিরাময় করা সম্ভব। তার আগে রোগীকে তৈরি করে নিতে হবে। লিভার ক্যান্সার রোগীর শরীরে অনেক কিছুর অভাব থাকে।
সার্জারি:
লিভারের কোন অংশে এই ক্যান্সার আছে নির্ণয়ের পর সার্জারি করার সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বলা হয়ে থাকে, লিভার প্রায় ৭০ ভাগ কেটে ফেলা যায়। মাত্র ৩০ ভাগ লিভার নিয়ে একজন মানুষ সুস্থ জীবন-যাপন করতে পারে।
সার্জারি করলে সফলতা অনেক বেশি। আধুনিক বিশ্বের প্রযুক্তি প্রয়োগ বাংলাদেশে শুরু হয়েছে।
এই প্রযুক্তির দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে যে, ১ সে: মি: আকারের টিউমার, ৪-৫ মি: মি: সাইজের টিউমার যা লিভারে রয়েছে এবং অপারেশনের পূর্বের অন্যান্য সকল পরীক্ষা দ্বারা এই টিউমার নির্ণয় সম্ভব হয় নাই। তা এখন নির্ণয় করা যাচ্ছে। এর দ্বারা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আকারের লিভার ক্যান্সার নির্ণয় সম্ভব হচ্ছে। এবং সার্জারির দ্বারা সারিয়ে ফেলা সম্ভব হচ্ছে। তাই এর সফলতা আমরা রোগীকে দিতে সক্ষম।
সূত্র - দৈনিক ইনকিলাব

