গতকাল মঙ্গলবার বিশ্বের অন্যান্য স্থানের মত বাংলাদেশেও বিশ্ব শ্বেতী দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে জাতীয় শ্বেতী ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে জাতীয় প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে শ্বেতীরোগ নিয়ে কুসংস্কার সম্পর্কে নানাদিক তুলে ধরে জাতীয় শ্বেতী ফাউন্ডেশনের সভাপতি চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এমইউ কবীর চৌধুরী বলেন, শ্বেতীরোগ কোন ছোঁয়াচে রোগ নয়, কোন অভিশাপও নয়। অনেক ক্ষেত্রে শ্বেতী একটি নিরাময়যোগ্য ব্যাধি। তিনি শ্বেতীরোগ সম্পর্কে জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেন এবং গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষদের দেশের লক্ষ লক্ষ শ্বেতী রোগীর পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে জাতীয় শ্বেতী ফাউন্ডেশনের মহাসচিব ডা. মোড়ল নজরুল ইসলাম, সহ-সভাপতি অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সৈয়দ আফজালুল করিম, সাইন্টিফিক সেক্রেটারি অধ্যাপক ডা. রেজাবিন জায়েদ বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে যুগ্ম সম্পাদক ডা. নিয়াজ মো. শরীফ ও সদস্য অধ্যাপক ডা. মাজহারুল হক খান উপস্থিত ছিলেন।
অধ্যাপক কবীর চৌধুরী বলেন, এটা ত্বকের রং পরিবর্তনজনিত সমস্যা মাত্র। তবে তিনি শিকার করেন কুসংস্কার ও অজ্ঞতার কারণে শ্বেতী নিয়ে জনমনে নানা ভুল ধারণা আছে। তিনি শ্বেতী রোগ সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, অবশ্যই এটা একটি চিকিত্সা যোগ্য ব্যাধি। এই রোগ ছোঁয়াচে-যা সম্পূর্ণ অবান্তর প্রশ্ন। এই রোগের সাথে খাবারের কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি বলেন, চিকিত্সার ব্যাপারে সবচেয়ে বড় প্রয়োজন কাউন্সিলিং অর্থাত্ রোগীর সঙ্গে ডাক্তারের কথোপকথনের মাধ্যমে সম্যক ধারণ দেয়া, যার মাধ্যমে চিকিত্সার বিভিন্ন দিক রোগীকে সহজ ভাষায় বোঝানো। তিনি বলেন, আসুন আমরা দেশের লক্ষ লক্ষ শ্বেতী রোগীর পাশে দাঁড়াই এবং শ্বেতীরোগের কুসংস্কারের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলি।
ডা. মোড়ল নজরুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শ্বেতীরোগ সম্পর্কে নানা কুসংস্কার রয়েছে। অনেকে মনে করেন পূর্বপুরুষের বা পরিবারের কোন সদস্যের অসত্ কর্মের জন্য এই রোগ। আর মেয়েদের এই রোগটি হলে তাদের একদিকে যেমন সামাজিক বিড়ম্বনায় পড়তে হয় অন্যদিকে অনেকের ক্ষেত্রে বিয়ে পর্যন্ত ভেঙ্গে যায়। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে শ্বশুরবাড়িতেও পোহাতে হয় নানা বিড়ম্বনা। অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী বলেন, শ্বেতীরোগ সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করা গেলে অনেক ক্ষেত্রে সামাজিক বিড়ম্বনা হরাস পাবে। অধ্যাপক সৈয়দ আফজালুল করিম বলেন, শ্বেতীরোগ যে কোন খারাপ রোগ নয় এই বার্তাটি সাধারণ মানুষের মধ্যে পৌঁছে দিতে মিডিয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। অধ্যাপক ডা. রেজাবিন জায়েদ বলেন, আশার কথা বিজ্ঞানসম্মত চিকিত্সা দিতে পারলে অনেকক্ষেত্রে শতকরা ৭০ ভাগ পর্যন্ত শ্বেতী ভাল হয়।
সূত্র - প্রথম আলো

