ধূমপায়ী ধূমপান করে শ্বাস ছাড়ার সময় বেশ ধোঁয়া ছেড়ে দেন বাতাসে। সেই ধোঁয়ার সঙ্গে যোগ হয় সিগারেট জ্বলার সময়, সিগারেট থেকে সরাসরি নির্গত ধোঁয়া। ধূমপায়ীদের আশপাশে থাকা অধূমপায়ী লোকের শরীরে এ ধোঁয়া ঢুকে যায় শ্বাসের মাধ্যমে তাদের অনীহা সত্ত্বেও। এটাই পরোক্ষ ধূমপান। পরোক্ষ ধূমপান হতে পারে বাসা-বাড়িতে। বাবা ধূমপান করছেন, পাশে সন্তানরা, হতে পারে অফিসে বা কর্মস্থলে। আপনি ধূমপান করছেন না। কিন্তু পাশের সহকর্মী করছেন_ হতে পারে রেস্টুরেন্টু, যানবাহনে, বাজারে এবং জনসমাগম হয় এরূপ অন্যান্য স্থানে। ধূমপায়ীদের ছেড়ে দেয়া ধোঁয়া এবং জ্বলন্ত সিগারেট থেকে সরাসরি ধোঁয়া এ দুই ধোঁয়ার মাধ্যমে তামাকে থাকা সব বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থই বাতাসে ছড়িয়ে যায়। শ্বাসের মাধ্যমে ধূমপায়ীর আশপাশে থাকা অধূমপায়ীর শরীরে এসব রাসায়নিক পদার্থ প্রবেশ করে। কারণ হয়ে দাঁড়ায় অধূমপায়ীর শরীর ক্ষতিকর। পরোক্ষ ধূমপান প্রত্যক্ষ ধূমপানের মতোই ক্ষতিকর। পরোক্ষ ধূমপানের কারণে সঙ্গে সঙ্গে কিছু স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে। যাদের অ্যালার্জি বেশি তাদের অ্যালার্জির লক্ষণ বেড়ে যেতে পারে। যেমন হাঁচি আসা, কাশি হওয়া, চোখ জ্বালা, চোখ দিয়ে পানি পড়া, নাক ঝরা, নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া ইত্যাদি। যাদের হাঁপানি আছে তাদের হাঁপানি অ্যাটাক হতে পারে, শ্বাসকষ্ট বেড়ে যেতে পারে। পরোক্ষ ধূমপানের জন্য দীর্ঘদিন পরও শরীরে সমস্যা দেখা দিতে পারে। এটা অবশ্য নির্ভর করবে একজন কী হারে এবং কতদিন পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হচ্ছে তার ওপর। দীর্ঘদিন পরোক্ষ ধূমপান করলে কী কী স্বাস্থ্য সমস্যা হতে পারে? হতে পারে ফুসফুসের ক্যান্সার, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ব্রঙ্কাইটিস, শ্বাসতন্ত্রের ইনফেকশন, গর্ভপাত, বাচ্চার জন্মগত ত্রুটি ইত্যাদি। দেখা গেছে, বাসা-বাড়িতে ধূমপান করলে বাড়ির অধূমপায়ী সদস্যদের পরোক্ষ ধূমপানের কারণে ফুসফুসের ক্যান্সারের সম্ভাবনা ২০ থেকে ৩০ শতাংশ বেড়ে যায়। কর্মক্ষেত্রে পরোক্ষ ধূমপায়ীদের এ সম্ভাবনাও প্রায় ২০ শতাংশ। বাসা-বাড়িতে পরোক্ষ ধূমপায়ী শিশুদের হাঁপানি, ব্রঙ্কাইটিস ও ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা বেশি, অন্যান্য অ্যালার্জি হওয়ার আশঙ্কাও যথেষ্ট। দুই বছরের কমবয়সী শিশুদের শ্বাসনালির বা ফুসফুসের ইনফেকশন হওয়ার সম্ভাবনাও বেশি। সুতরাং পরোক্ষ ধূমপানের প্রশ্নে শিশু ও মহিলাদের কথা একটু বেশি মনে রাখতে হবে। পরোক্ষ ধূমপানের কারণে আমেরিকায় প্রতিবছর প্রায় তিন হাজার অধূমপায়ী ফুসফুসের ক্যান্সারে মারা যায়। এবং প্রায় ৩ লাখ শিশু শ্বাসনালি বা ফুসফুসের রোগে ভোগে। সুতরাং যারা সরাসরি ধূমপান করেন না, পরোক্ষভাবে ধূমপান করিয়ে তাদের শরীরের ক্ষতি করা কোনো মতেই কাম্য নয়।
সুত - যায়যায়দিন

