প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যুর হার কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নামিয়ে আনতে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোক্তা, স্বাস্থ্য সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান, নীতিনির্ধারকদের আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও সকল পর্যায়ে জনগণের সচেতনতা, সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং সমন্বিত প্রয়াসের মাধ্যমে মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যুর হার কমিয়ে আনা সম্ভব। খবর বাসসের।
প্রধানমন্ত্রী গতকাল বুধবার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস ২০১৩-এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, হতদরিদ্র মায়েদের গর্ভকালীন, প্রসবকালীন ও প্রসব-পরবর্তী সেবা নিশ্চিত করতে তাঁর সরকার ‘মাতৃস্বাস্থ্য ভাউচার স্কিম’ চালু করেছে।
স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হক, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ উপদেষ্টা সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মুজিবুর রহমান ফকির, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ কে এম আমির হোসেইন ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খন্দকার মোহাম্মাদ শেফায়েতুল্লাহ অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরে বিভিন্ন পর্যায়ে প্রায় আট হাজার জনবল নিয়োগ দিয়েছে এবং আরও প্রায় সাত হাজার চিকিৎসক, পাঁচ হাজার সেবিকা ও তিন হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে গুরুতর রোগীদের জরুরি স্থানান্তরে হেলিকপ্টার কেনার চেষ্টা চলছে।’
প্রধানমন্ত্রী সবার প্রতি প্রত্যেক নবজাতকের নিরাপদ জন্মের ব্যাপারে যত্নশীল হওয়ার এবং মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে সরকারের কর্মসূচিতে সহায়তার আহ্বান জানিয়ে বলেন, গর্ভকালীন ও পরবর্তী সময়ে একজন মায়ের পূর্ণ বিশ্রাম, মানসিক স্বস্তি ও পুষ্টির প্রতি পরিবারের জ্যেষ্ঠ সদস্যদের যত্নশীল হতে হবে।
সাধারণ মানুষের কাছে মাতৃ স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ায় অবদানের জন্য অনুষ্ঠানে মোট ৪৯ জন স্বাস্থ্য সহায়তাকারী, চিকিৎসক, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও সিভিল সার্জনকে নিরাপদ মাতৃত্ব পদক দেওয়া হয়।
ইএনটি ইনস্টিটিউট উদ্বোধন: প্রধানমন্ত্রী গতকাল রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ইএনটি ইনস্টিটিউট উদ্বোধন করেন। ২০০৯ সালে দায়িত্ব গ্রহণের পর বর্তমান সরকার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত এই হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণকেন্দ্রের নির্মাণকাজ শুরু করে।
সূত্র - প্রয়হম আলো

