home top banner

News

চিকিৎসক, প্রকৌশলীরাই বেশি বেকার
07 March,14
Tagged In:  doctors employment   Posted By:   Healthprior21
  Viewed#:   9

বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষিতরাই সবচেয়ে বেশি বেকার। চাকরির বাজারে কেবল ভালো অবস্থানে আছে স্নাতক ও এর সমপর্যায়ের ডিগ্রিধারীরা। এর বেশি লেখাপড়া করলেও চাকরির বাজারে সুবিধা করতে পারছেন না উচ্চ ডিগ্রিধারীরা। 

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশে সবচেয়ে বেশি বেকার চিকিৎসক ও প্রকৌশলীরা। আর বেকারত্বের দিক থেকে তৃতীয় অবস্থানে আছেন স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারীরা। 

বিবিএস সম্প্রতি বাংলাদেশ শ্রমশক্তি জরিপ ২০১০-এর পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেই প্রতিবেদনেই বেকারত্বের এই চিত্র পাওয়া গেছে। অথচ দেশে চিকিৎসক বা প্রকৌশলী হতেই সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করতে হয়। 

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বেকারদের মধ্যে চিকিৎসক-প্রকৌশলীদের হার ১৪ দশমিক ২৭ শতাংশ। এ মধ্যে নারী চিকিৎসক-প্রকৌশলীদের অবস্থা আরও খারাপ। তাঁদের মধ্যে বেকারত্বের হার প্রায় ৩১ শতাংশ। এর পরেই আছেন উচ্চমাধ্যমিক ডিগ্রিধারীরা। তাঁদের ক্ষেত্রে বেকারত্বের হার ১৩ দশমিক ৭৪ শতাংশ। আর বেকারদের মধ্যে তৃতীয় স্থানে আছেন স্নাতকোত্তররা, ১০ দশমিক ২৫ শতাংশ। 

এই প্রসঙ্গে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষণা পরিচালক জায়েদ বখত প্রথম আলোকে বলেন, এটা খুবই আশ্চর্যজনক তথ্য। চিকিৎসকদের বেকার থাকার সুযোগ দেখি না। কেননা, এমবিবিএস ডিগ্রি লাভের পর সব চিকিৎসকই সপ্তাহে কমপক্ষে এক ঘণ্টা চেম্বারে রোগী দেখেন। তবে প্রকৌশলীদের ক্ষেত্রে বেকার থাকার সামান্যতম সুযোগ থাকে। কারণ, তাঁদের পেশাটাই চাকরিনির্ভর। চাকরি না পেলে বেকার। জরিপের সময় চিকিৎসক বা প্রকৌশলীরা হতাশা কিংবা অন্য কোনো কারণে প্রকৃত তথ্য না দিতে পারেন বলে তিনি মনে করেন। 

জরিপ আরও বলছে, স্নাতক ডিগ্রিধারীরাই চাকরি কিংবা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বেশি সম্পৃক্ত থাকেন। স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রিধারীদের মধ্যে মাত্র দশমিক ৫০ শতাংশ বেকার। আর কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা গ্রহণকারীদের কেউ বেকার থাকেন না। 

বিবিএসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, এ দেশের বাস্তবতায় স্নাতক ডিগ্রিধারীদের মধ্যে ভালো চাকরির প্রত্যাশা কম থাকে। তাই যেকোনো ধরনের চাকরি পেলেই তাঁরা করেন অথবা ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। আর স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারীদের মধ্যে চাকরির প্রত্যাশা বেশি থাকে। তাই সন্তোষজনক চাকরি না পাওয়ায় বেকার জীবন যাপন করেন। 

তবে অশিক্ষিত বা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই এমন ব্যক্তিদের মধ্যে বেকারত্বের হার বেশ কম। ১০০ অশিক্ষিত ব্যক্তির মধ্যে মাত্র তিনজনেরও কম বেকার থাকেন। বিবিএসের হিসাবে এই হার ২ দশমিক ৮২ জন। মূলত দেশের কৃষি খাতের শ্রমবাজারে তাঁরা কাজ করে থাকেন। 

তবে অশিক্ষিত বা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই এমন নারীদের প্রায় ৯৬ শতাংশই কৃষি কিংবা অন্য খাতের সঙ্গে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত রয়েছেন। এ ছাড়া প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়েছেন এমন ব্যক্তিদের মধ্যেও বেকারত্বের হার এক অঙ্কের ঘরে। 

বিবিএসের কর্মকর্তারাই বলছেন, এই জরিপের সবচেয়ে কৌতূহলোদ্দীপক বিষয় হচ্ছে চিকিৎসক ও প্রকৌশলীদের মধ্যে উচ্চ বেকারত্বের পরিসংখ্যান। তবে বিবিএসের সাবেক পরিচালক (শিল্প ও শ্রম শাখা) শামসুল আলম এই জরিপ প্রকল্পের পরিচালক ছিলেন। তিনি প্রথম আলোকে গত রোববার বলেন, চিকিৎসক কিংবা প্রকৌশলীরা নিজেদের কর্মজীবন নিয়ে সন্তুষ্ট না থাকায় জরিপের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের সময় অনেকেই নিজেদের বেকার বলে দাবি করেছেন। এ জন্য হয়তো চিকিৎসক কিংবা প্রকৌশলীদের মধ্যে বেকারত্বের হার বেশি। 

বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) রেজিস্ট্রার এ জেড এম বাসুনিয়া এ বিষয়ে প্রথম আলোকে বলেন, দেশের কোনো চিকিৎসকই বেকার নন। সবাই সপ্তাহে এক ঘণ্টার বেশি কাজ করেন। তাঁর মতে, পেশাজীবী হওয়ায় চিকিৎসকেরা চাকরি না করলেও বেকার হন না। তাঁরা চেম্বারে রোগী দেখতে পারেন, আয় করতে পারেন। 

বেকারত্বের নতুন তথ্য: বাংলাদেশে মোট বেকারের সংখ্যা নিয়ে দুই ধরনের পরিসংখ্যান রয়েছে। এক হিসাবে দেশে বেকারের সংখ্যা মাত্র ২৫ লাখ ৬৮ হাজার। এই সংখ্যা দেশের মোট শ্রমশক্তির মাত্র সাড়ে ৪ শতাংশ। তবে বিবিএসের এই হিসাব কেউই মানতে চান না। কারণ, বেকারত্বের এই হার উন্নত অনেক দেশের তুলনায় কম। ফলে বিবিএস নতুন আরেকটি হিসাব প্রকাশ করেছে জরিপের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনে। 

নতুন হিসাবে দেশে বেকারের সংখ্যা ৮০ লাখ ২৫ হাজার, যা মোট শ্রমশক্তির ১৪ দশমিক ১৬ শতাংশ। বিবিএসের হিসাবে দেশে ২৫ লাখ ৬৭ হাজার কর্মহীনের বাইরেও আরও ৫৪ লাখ ৫৮ হাজার মানুষ আছেন, যাঁরা গৃহে সপ্তাহে অন্তত ১৫ ঘণ্টার কম কাজ করেন কিন্তু কোনো মজুরি পান না। বেকারদের মধ্যে আবার নারীদের সংখ্যাই অনেক বেশি। পুরুষ বেকারের হার ৬ দশমিক ৬৩ শতাংশ, আর নারী বেকার ৩১ দশমিক ৪৯ শতাংশ। অর্থাৎ গৃহস্থালির কাজে মজুরি পান না সাড়ে ৪৪ লাখ নারী।

তবে, এর বাইরে দেশে আছে বিপুলসংখ্যক অর্ধবেকার। বিবিএসের হিসাবে তা এক কোটি নয় লাখ ৮৬ হাজার, যা মোট শ্রমশক্তির ২০ দশমিক ৩১ শতাংশ। সংজ্ঞা অনুযায়ী, যারা সপ্তাহে ৩৫ ঘণ্টার কম কাজ পান বা করেন।

সূত্র - প্রথম আলো

Please Login to comment and favorite this News
Next Health News: আইসিডিডিআরবির গবেষণা স্ত্রীকে মারার অধিকার পুরুষের আছে!
Previous Health News: এইচআইভি থেকে ‘মুক্ত’ দ্বিতীয় মার্কিন শিশু

More in News

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় অ্যান্টিবায়োটিক!

সম্প্রতি এক গবেষণায় জানা গেছে, কম বয়সে অ্যান্টিবায়োটিক খেলে পরবর্তী ক্ষেত্রে মানব শরীর বিভিন্ন ধরনের রোগ প্রতিরোধ করতে সক্ষম থাকে৷ কলোম্বিয়ার ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যায়লের এ গবেষণা অনুযায়ী, অন্ত্রে বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া বিরাজ করে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাস্থ্যকর রাখে৷ কিন্তু... See details

ঢাবিতে মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন উদ্বোধন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগ ও বাংলাদেশ ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে  ‘Mental Health Gap in Bangladesh: Resources and Response’ শীর্ষক চার দিনের চতুর্থ মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধন  হয়েছে। বুধবার ঢাকা... See details

৯টি ভয়ংকর সত্যি, যা আপনাকে ডাক্তাররা জানান না!

অনেক সময় কোনো ওষুধ একটি রোগ সারিয়ে তুললে, সেই ওষুধই অন্য একটি অসুখকে আমন্ত্রণ জানিয়ে রাখে। এমনকি এক্স রে রশ্মিও আমাদের শরীরে ক্যান্সারের মতো মারণ রোগের জন্ম দেয়। ওষুধের প্রভাবে কী কী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে ১. ওষুধে ডায়াবিটিস বাড়তে পারে: সাধারণত ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবিটিস হয়।... See details

প্রাকৃতিক ভায়াগ্রা হর্নি গোটউইড

চীনের একটি গাছের নাম হর্নি গোটউইড। এই গাছ থেকেই অদূর ভবিষ্যতে সস্তায় মিলবে ভায়াগ্রার বিকল্প ওষুধ। পুরুষাঙ্গকে দৃঢ়তা প্রদানের জন্য যে যৌগটি দরকার, সেই আইকারিন প্রচুর পরিমাণে রয়েছে হর্নি গোটউইডে। এই উপদানটিকে প্রকৃতিক ভায়াগ্রা হিসেবে শনাক্ত করেছেন ইউনিভার্সিটি অফ মিলানের গবেষক ডা. মারিও ডেল... See details

ব্রেন ক্যানসার থেকে মুক্তি দেবে ‘সোনা’

ব্রেন ক্যানসার চিকিৎসায় এবার ব্যবহৃত হবে সোনা৷ কারণ সোনা নাকি ব্রেন ক্যানসার থেকে মুক্তি  দিতে পারে৷ বিজ্ঞান পত্রিকা ন্যানোস্কেল অনুযায়ী, ব্রেন ক্যানসারের  চিকিৎসার সোনার একটি অতি সুক্ষ টুকরো সাহায্যকারী প্রমাণিত হতে পারে৷ বৈজ্ঞানিকরা একটি সোনার টুকরোকে গোলাকৃতি করে... See details

যৌবন ধরে রাখতে অশ্বগন্ধা

বাতের ব্যথা, অনিদ্রা থেকে বার্ধক্যজনিত সমস্যা। এ সবের নিরাময়ে অশ্বগন্ধার বিকল্প নেই। তেমনটাই তো বলেন বিশেষজ্ঞরা। এমনকি যৌবন ধরে রাখতেও অশ্বগন্ধার উপকারিতা অনস্বীকার্য। ত্বকের সমস্যাতেও দারুণ কাজ দেয় অশ্বগন্ধার ভেষজ গুণ। বিদেশেও এর চাহিদা ব্যাপক। সে কারণেই অশ্বগন্ধা চাষ অত্যন্ত লাভজনক।... See details

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')