রোগীর স্বজনদের হাতে চিকিৎসক লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনার প্রতিবাদ ও বিচারের দাবিতে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে শিক্ষানবিশ চিকিৎসকদের ডাকা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট সোমবারও অব্যাহত ছিল। ধর্মঘটি শিক্ষানবিশ চিকিৎসকরা দাবি আদায়ে হাসপাতাল চত্বরে সভা-সমাবেশ করছেন। ধর্মঘটের কারণে চিকিৎসাসেবা যাতে ব্যাহত না হয় সে জন্য জরুরি স্কোয়াডের চিকিৎসকরা হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছেন।
শিক্ষানবিশ (ইন্টার্নি) চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি ডা. সাইফুজ্জাহান রবি বলেন, 'শিক্ষানবিশ চিকিৎসকরা বারবার মার খাচ্ছেন। আমরা নিরাপদ কর্মস্থল চাই।' তিনি বলেন, ফরিদপুরের জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়ে অবিলম্বে আমাদের দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। তিনি আরো বলেন, দাবি না মানা পর্যন্ত ধর্মঘট চলবে।
স্মারকলিপি পেশ করার পর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে শিক্ষানবিশ চিকিৎসকরা একটি মৌন মিছিল বের করেন। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।
ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক আবু হেনা মোরশেদ জামান বলেন, পুলিশকে আসামি ধরতে বলা হয়েছে। তিনি বলেন, হাসপাতাল ক্যাম্পাসে নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। আপাতত সেখানে পুলিশ পাহারা বাড়ানো হচ্ছে।
ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. ওমর ফারুক খান বলেন, 'আমরা ধর্মঘটি চিকিৎসকদের সঙ্গে আলোচনা করছি। আশা করছি দ্রুত একটা সমাধানে আসা যাবে। শিক্ষানবিশ চিকিৎসকদের ধর্মঘটের কারণে যাতে রোগীদের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত না হয় সে জন্য জরুরি স্কোয়াডে চিকিৎসকের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।'
ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বিভাগে গত শনিবার সন্ধ্যায় অ্যাবরশনজনিত জটিলতায় আক্রান্ত রোজিনা আক্তার নামের এক রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর স্বজনরা কর্তব্যরত শিক্ষানবিশ চিকিৎসক মাহফুজকে লাঞ্ছিত করে পালিয়ে যায়। এ ঘটনার প্রতিবাদে রবিবার দুপুর থেকে শিক্ষানবিশ চিকিৎসক পরিষদ অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক দেয়।
সূত্র - কালের কণ্ঠ

