কারখানাটিকে নমনীয় ইস্পাতের (এমএস) রড তৈরির জন্য ছাড়পত্র দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। তা অমান্য করে কারখানাটি দীর্ঘদিন ধরে লোহার পিণ্ড তৈরি করছে। এ জন্য বায়ু শোধনের ফিল্টারযুক্ত চিমনিও ব্যবহার করছে না। এই অপরাধে ২০১২ সালের ১ জুলাই কারখানাটিকে সাড়ে সাত লাখ টাকা জরিমানাও করা হয়েছিল।
কিন্তু কারখানা কর্তৃপক্ষ ছাড়পত্রের শর্ত ও পরিবেশ আইন লঙ্ঘন করে এখনো ফিল্টারযুক্ত চিমনি ব্যবহার না করেই পুরোনো ব্যবহূত লোহা গলিয়ে লোহার পিণ্ড তৈরি করছে। এতে কারখানার দূষিত কালো ধোঁয়া সরাসরি আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। ধোঁয়ার সঙ্গে লোহার ছাই এসে পড়ছে বাড়ির ছাদ, ঘরের দেয়াল ও ফসলের জমিতে।
প্রতিষ্ঠানটির নাম সাইকা স্টিল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। কারখানার ব্যবস্থাপক মো. শাহিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের পরিবেশগত ছাড়পত্র রয়েছে। স্ক্র্যাব (ব্যবহূত লোহা) গলানোর সময় ধোঁয়া হলেও ১০ মিনিট পরই ঠিক হয়ে যায়।’ তবে এমএস রড তৈরির ছাড়পত্র আছে, নাকি লোহার পিণ্ড (ইংগট) তৈরির ছাড়পত্র আছে—সে ব্যাপারে তিনি কিছু বলেননি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, টঙ্গীর চেরাগআলী-ভাদাম সড়কের পাশে মাদাফা এলাকায় সাইকা স্টিল ইন্ডাস্ট্রিজ। কারখানার উত্তর দিকে একটি মসজিদ, হাজি কালু মিয়া আদর্শ মহিলা মাদ্রাসা ও বসতবাড়ি। পশ্চিমে ধান চাষের জমি। অপর দুদিকে বসতবাড়ি।
কারখানার কর্মীরা জানান, ২০০২ সালে কারখানাটি স্থাপন করা হয়। কারখানার পশ্চিম দিকে পুরোনো লোহা গলানোর চুল্লি। এতে প্রতিবার আট মেট্রিক টন লোহা গলানো যায়। লোহা গলানোর সময় চুল্লির তাপমাত্রা এক হাজার ৮০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট থাকে। গলিত লোহা ডাইসে ঢেলে রড তৈরির মোটা পিণ্ড বানানো হয়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বিপুল পরিমাণ লোহা একসঙ্গে গলানোয় উৎপাদিত ধোঁয়া সরু চিমনি দিয়ে বের হতে পারে না। ধোঁয়া কারখানার টিনের চালের ফাঁক দিয়ে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। চিমনিতে বায়ু শোধনের ফিল্টার না থাকায় দূষিত বায়ু সরাসরি বাতাসে মিশে যাচ্ছে। ওই পরিবেশেই শ্রমিকেরা কোনো নিরাপত্তা পোশাক পরিধান না করেই ঝুঁকিপূর্ণভাবে এক হাজার ৮০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রার চুল্লির পাশে কাজ করছেন।
কারখানার আশপাশের ১৩ জন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তাঁরা নাম প্রকাশ করতে চাননি। তাঁরা জানান, কারখানার ধোঁয়ার ঝাঁজালো গন্ধে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। চোখ জ্বালাপোড়া করে। শিশুরা কান্নাকাটি করে। এ ব্যাপারে তাঁরা কারখানা কর্তৃপক্ষকে বলেও প্রতিকার পাননি। এরপর তাঁরা একাধিকবার টঙ্গী পৌরসভায় (বর্তমানে বিলুপ্ত হয়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশনে অন্তর্ভুক্ত) লিখিত অভিযোগ দিলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
কারখানার মালিকের কাছে ৫ শতাংশ জমি বিক্রি করেছিলেন মো. আজিজ মিয়া। তিনি বলেন, ‘তারা (কারখানা কর্তৃপক্ষ) বলেছিল গার্মেন্টস করবে। যদি জানতাম স্টিল মিল করবে, তাহলে তাদের কাছে জমি বিক্রি করতাম না।’
যোগাযোগ করা হলে পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট) মো. আলমগীর প্রথম আলোকে বলেন, দূষিত ধোঁয়া শোধনের জন্য ফিল্টারযুক্ত চিমনি ব্যবহার না করে এভাবে স্ক্র্যাব গলানো পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। ওই কারখানার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সূত্র - প্রথম আলো

