বহু ব্যাকটেরিয়া প্রচলিত অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হয়ে পড়ায় নতুন ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক তৈরি করা এখন একান্তই জরুরি হয়ে পড়েছে। এর জন্য বিজ্ঞানীরা অনেক দিন ধরেই নতুন কোনো প্রাকৃতিক প্রতিরোধক আবিষ্কার করার কথা ভাবছেন।
ফ্রান্সের ফার্মাসিউটিক্যাল প্রতিষ্ঠান সানোফি ও ফ্রাউনহোফার ইন্সটিটিউট এমনি একটি গবেষণা কেন্দ্র গড়ে তোলার যৌথ উদ্যোগ নিয়েছে৷ এই কেন্দ্রের গবেষকরা খুঁজে বের করতে চান, কোন ধরনের প্রাকৃতিক উপাদান অ্যান্টিবায়োটিকের প্রসারে উপযোগী?
ফ্রাউনহোফার ইন্সটিটিউটের আন্ড্রেয়াস ভিলসিন্সকা জানান, যক্ষ্মার মতো সংক্রামক ব্যাধির বিরুদ্ধে লড়তে হলে অ্যান্টিবায়োটিকের জুড়ি নেই৷ তবে ইতোমধ্যে এই ওষুধটির কার্যকারিতা হ্রাস পাচ্ছে, যা বিশ্বব্যাপী এক বিরাট সমস্যা সৃষ্টি করছে৷ সেজন্যই নতুন ধরনের সক্রমণবিরোধী ওষুধ উদ্ভাবন করতে হবে। বললেন আন্ড্রেয়াস ভিলসিন্সকা।
গত কয়েক বছরে প্রচুর অর্থ এই সব পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ঢালা হয়েছে৷ কিন্তু কার্যকর তেমন কোনো উপাদান আবিষ্কার করা সম্ভব হয় নি৷ এবার প্রকৃতি থেকে শিখতে চান গবেষকরা৷ তারা এমন সব অর্গানিজম নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন, যা মারাত্মক জীবাণুকে প্রতিহত করতে পারে৷
সেক্ষেত্রে পোকামাকড় ও কীপতঙ্গের সম্ভাবনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। এরা গরু, ছাগল, ভেড়াসহ অন্যান্য স্তন্য ও মাংসল প্রাণীর চেয়ে মানুষের স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য বেশি উপকারী। এরা গ্রিনহাউস গ্যাসও কম উৎপাদন করে৷
ফ্রাউনহোফার ইন্সটিটিউটের গবেষকরা বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম ফার্মাসিটিউক্যাল প্রতিষ্ঠান সানোফির সঙ্গে এক যৌথ উদ্যোগে এমন ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কার করতে চান, যা প্রাকৃতিক উপাদানের ওপর নির্ভর করে বৃদ্ধি পায়৷ যেমনটি দেখা গিয়েছিল পেনিসিলিন আবিষ্কারের ক্ষেত্রে৷
গবেষকরা কীটপতঙ্গ থেকে কার্যকর উপাদান বের করতে চেষ্টা করছেন৷ বিশ্বে ১০ লক্ষেরও বেশি প্রজাতির পতঙ্গ রয়েছে৷ সাফল্যের দিক দিয়ে সেরা এইসব ক্ষুদ্র প্রাণী৷
কীটপতঙ্গরা ‘কার্যকর উপাদানের বিশাল এক আধার' বলে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন ফ্রাউনহোফার ইন্সটিটিউটের গবেষক আন্ড্রেয়াস ভিলসিন্সকা। দৃষ্টান্তস্বরূপ তিনি ক্ষত ভালো হওয়ার জন্য এক রকম লার্ভা বা শূককীটের প্রয়োগের কথা উল্লেখ করেন৷ সারা বিশ্বে এটি ওষুধ হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছে৷
ইন্টারনেটের মাধ্যমেও পাওয়া যায় এই কীট৷ এই প্রাণীগুলি ক্ষত ভালো হওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুততর করতে পারে৷ এই প্রক্রিয়াটা কীভাবে হয় সেটা অবশ্য জানা যায় নি৷ তবে এটির লালা ক্ষতের ওপর লাগালে, ১৮ গুণ দ্রুতগতিতে ঘা ভালো হয়ে যায়।
বিশেষ করে সেইসব পতঙ্গই গবেষকদের জন্য আকর্ষণীয়, যেগুলি তাদের পারিপার্শ্বিকতার মধ্যে খাপ খাইয়ে নিতে পারে৷ রোগজীবাণু যেমন ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক ইত্যাদি দ্বারা পরিপূর্ণ৷ জীবাণু প্রতিরোধী উপাদান খুঁজতে এইসব কীটপতঙ্গ বেশি কার্যকরী৷ যেমন ‘ব়্যাট টেল লার্ভা'৷ এই লার্ভা মলমূত্র, নর্দমা বা অত্যন্ত নোংরা জায়গায় থাকতে পারে৷
তাই এই কীটের ইমিউন সিস্টেমও সেরা৷ সহজে অসুস্থও হয় না৷ “আমরা এগুলি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আশানুরূপ ফলাফল পেয়েছি”, বললেন আন্ড্রেয়াস ভিলসিন্সকাস৷ তিনি আরো জানান, আমাদের লক্ষ্য রোগ প্রতিরোধী উপাদান বেশি পরিমাণে তৈরি করা ও বাজারে ছাড়া৷
তবে এর জন্য প্রচুর সময় ও অর্থ প্রয়োজন৷ মাত্র একটি ওষুধ তৈরি করতেই ১৫ বছর লেগে যেতে পারে৷ আর খরচও কয়েকশ মিলিয়ন৷ শুধু বড় বড় ফার্মাসিউটিক্যাল প্রতিষ্ঠানই এ ব্যাপারে ঝুঁকি নিতে সাহস করে৷
সূত্র: ডয়চে ভেলে
সূত্র - poriborton.com

