চিকিৎসাক্ষেত্রে বহুল ব্যবহূত একটি যন্ত্রের নাম স্টেথোস্কোপ। এটি ব্যবহার করে রোগীর শারীরিক বিষয়ের গতি-প্রকৃতি জানা যায়। চিকিৎসক বলতেই আমাদের মনে ভেসে ওঠে গলায় স্টেথোস্কোপ জড়ানো একজন ব্যক্তির ছবি। চিকিৎসাবিদ্যার একজন ছাত্র প্রথম স্টেথোস্কোপটি পাওয়ার পরই নিজেকে চিকিৎসক হিসেবে ভাবতে শুরু করেন।
তবে ২০০ বছর আগে ফ্রান্সে উদ্ভাবিত যন্ত্রটি বর্তমান প্রযুক্তির চরম উৎকর্ষের যুগে হারিয়ে যাবে। গ্লোবাল হার্ট সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এমনটিই দাবি করছেন একদল চিকিৎসা-গবেষক।
মানুষের শরীর পর্যবেক্ষণে বিকল্প কিছু যন্ত্রাংশের উন্নতির কারণেই বাতিল হয়ে যাবে স্টেথোস্কোপ। বিকল্প হিসেবে চিকিৎসকেরা অতিসূক্ষ্ম শব্দতরঙ্গের (আলট্রাসাউন্ড) মাধ্যমে চালিত এক ধরনের যন্ত্রের কথা জানিয়েছেন। এটি রোগীর হূৎপিণ্ডের গতি-প্রকৃতি ছাড়াও পুরো শরীরের ভেতরের অবস্থার একটি চিত্র ফুটিয়ে তুলতে পারবে। চিকিৎসার জগতে যন্ত্রটির ব্যবহার ১৯৫০ সালে শুরু হয়। প্রথমে রেফ্রিজারেটর আকৃতির থাকলেও যন্ত্রটি বর্তমানে মুঠোফোনের মতো ছোট হয়ে এসেছে। এটির দাম এখন পাঁচ হাজার ব্রিটিশ পাউন্ড।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কভিত্তিক দুই চিকিৎসক জগৎ নারুলা ও ব্রেট নেলসনের মতে, স্টেথোস্কোপকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের জাদুঘরে পাঠানোর সময় হয়েছে। গ্রামোফোনের জায়গায় এসেছে পর্যায়ক্রমে ক্যাসেট, সিডি ও এমপিথ্রি। একইভাবে স্টেথোস্কোপের জায়গায় এসেছে আলট্রাসাউন্ড যন্ত্র। ইনডিপেন্ডেন্ট।
সূত্র - প্রথম আলো

